পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


খানিও পাওয়া গেল না। বজরাগলি বেশ বড় বড় হয়। তাহার ভিতর স্বতন্ত্র স্বতন্ত্র কামরাসকল থাকে, অনেক লোক ধরে, বেশ আরামে যাওয়া যায়। অগত্যা দইখানি ভাউলে ভাড়া করা গেল, কারণ, একখানিতে দুইটি পরিবারের সঙ্কুলান হইবে না। সকলে মিলিয়া একত্র-বজরায় যাওয়ারই ইচ্ছা ছিল, সে সযোগ না হওয়াতে উভয় গিন্নী গজগজ করিতে লাগিলেন। একদিন এক রাত্ত্বি নন্দিনী বাহিয়া গিয়া, অবশেষে আমরা বংশজ নদীতে পড়িলাম। এই বংশজ নদী, মধ্যপরের জঙ্গলের ভিতর দিয়া গিয়াছে। এই নদী জামালপরে অবধি গিয়া ব্রহ্মপুত্রে পতিত হইয়াছে। বংশজ নদী দিয়া কয়েক ঘণ্টা গিয়া যে বন্দরে আমরা সন্ধ্যার মুখে পৌছিলাম, সেখানে গিয়া দেখিলাম, একটি বজরা খালি হইতেছে। এক মাড়োয়ারী মহাজন নদীপথে নানাসথানে গিয়া চাষীদের পাটের দাদন দিয়া বেড়াইতেছিল, জামালপরে অবধি তাহার যাইবার কথা ছিল, কিন্তু কি কারণে জানি না, সেইখানে নামিয়া সে বজরা ছাড়িয়া দিল। জামালপরে তখনও এক রাত্রি ও অন্ধ দিনের পথ। গহিণীদের আগ্রহে, সেইখানেই আমরা ভাউলে দইখানির ভাড়া মিটাইয়া দিয়া সেই বজরা লইলাম। আকাশে মেঘ ছিল না, ত্রয়োদশীর চন্দ্র উক্তজবল আলোক বিতরণ করিতেছিল, মাঝি সানন্দে বজরা छाछिझा मिळन् । & পাচ রারি ১০টায় আহারাদি শেষ করিয়া নিদ্রার আয়োজন করা গেল। অনেক রাত্রিতে আমার ঘুম ভাগিয়া গেল গরমে আর ঘাম আসিতে চাহে না। আমি বিছানা ছাড়িয়া বজরার ছাদে উঠিয়া বসিলাম। উভয় তীরে ঘন জঙ্গল। চন্দ্রলোকে সেই জঙ্গলের শোভা দেখিতে দেখিতে চলিলাম। প্রায় অন্ধটািকাল এইরূপে কাটিলে, সহসা জঙ্গল হইতে দইবার বন্দক ডাকিল —দরাম দর্যম। জঙ্গলের কোলে অন্ধকারে দইখানা ছিপ বাঁধা ছিল, সেই ছিপ দখানা সনসন মাল্লাগণ দাঁড় ফেলিয়া ঝাপঝাপ করিয়া জলে লাফাইয়া পড়িল। বিপদ গণিয়া তাড়াতাড়ি নীচে নামিয়া আমি দরজা বন্ধ করিয়া দিলাম। এক মিনিট পরেই ডাকাইতরা আসিয়া বজরায় উঠিল, শব্দে বঝিতে পারলাম। তাহারা দবারে করাঘাত করিতে করিতে বলতে লাগিল, “মাড়োয়ারীবাব, এ মাড়োয়ারীবাব, জলদি দরজা খোলো।” মহেত্তে আমি বঝিতে পারলাম, পর্বের সেই ধনী মাড়োয়ারীবাবই যে এ বজরায় এখনও আছে, এই ভ্ৰম করিয়া ইহারা বজরা আক্ৰমণ করিয়াছে। তাহারা চীৎকার করিয়া বলিতে লাগিল, "জলদি খোলো। কুছ ডর নেহি। রাপিয়া লেলেণ্ডেগ, জান ছোড় দেণ্ডেগ।” সাহস সংগ্ৰহ করিয়া কম্পিত স্বরে আমি উত্তর করিলাম, “বাপসকল, এ বজরায় মাড়োয়ারী ত কেউ নেই। আমরা সকলেই বাঙ্গালী, গরীব গেরুত মানুষ।” তাহারা, পরস্পর বলাবলি করিতে লাগিল, “বলে কি রে? ভুল হ’ল নাকি ?” এক ব্যক্তি বলিল, “না না, ভুল হয়নি, এই বজরাই বটে। কাল দপারবেলা থেকে আমি পিছ নিয়েছি। এ বেটা বোধ হয় সরকার-টরকার, মানবকে বাঁচবার জনো চালাকি করছে। দরজা ভেঙ্গে ফেল ।” দরজার উপর কুড়ালির ঘা পড়িতে লাগিল, শব্দে ইহা বুঝিলাম। বলিলাম, “না না বাপ, তোমাদের ভুলই হয়েছে। কুড়ল থামাও, দরজা খালে দিচ্ছি, তোমরা ভিতরে এসে সবচক্ষে দেখ ” } @ 8