পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কুড়লের ঘা থামিল। দরজা খলিয়া দিলাম। দুই তিনটা জলন্ত টাচ্চলাইট হাতে হইলাম, তাহারা সকলেই তরণ বয়স্ক—এই আঠারো উনিশ বড়জোর বিশ বাইশ-ইহার বেশী নহে। তা ছাড়া চেহারা ও কেশবেশ কাহারও ডাকাইতের মত নয়, সকলেই ঠিক যেন ভদ্রসন্তান। ধতি সকলেরই মালকোঁচ-মারা, কাহারও গায়ে কোট, কাহারও শার্ট, দই তিনজনের চোখে সোণার চশমা, দুইজনের হাতে দুইটা পিস্তল। মনে মনে বঝি- ' লাম, ইহারা নিঃসন্দেহ স্বদেশী ডাকাইতের দল ! টচ্চলাইটের সাহায্যে সব্বর তাহারা তন্ন তন্ন করিয়া খুজিতে লাগিল। একধারে গিন্নীরা তাঁহাদের বালকবালিকাগণকে বকে আগলাইয়া গাদাগাদী করিয়া বসিয়া ক্ৰন্দন করিতেছিলেন, একজন ডাকাইত তাঁহাদের নিকটে দাঁড়াইয়া কোমলকণ্ঠে বলিল, “মা লক্ষী সকল, আপনারা ভয় পাবেন না। সন্ত্রীলোকমাত্রেই আমাদের মা, তাঁদের গায়ে আমরা হাত দিইনে, আপনারা নিভয়ে থাকুন।” এক ছোকরা আমাকে ধমক দিয়া বলিল, “তোমরা কারা? এ বজরায় যে মাড়োয়ারী মহাজন ছিল, সে কোথা গেল ?” আমি বলিলাম, “আমরা মাত্র আজ সন্ধ্যেবেলা, মোল্লাগঞ্জের ঘাটে এ বজরা ভাড়া নিয়েছি, বাবা। যে মাড়োয়ারী মহাজন এতে আসছিল, সেইখানেই সে নেমে গেল কিনা। আমরা গরীব গৃহস্থ লোক, সঙ্গে টাকাকড়ি বেশী কিছুই নেই, পথ-খরচের মত সামান্য দশ বিশ টাকা আছে। এই চাবি নাও, বাক্স-তোরঙ্গ সব খালে তোমরা দেখ ব্যব্য ]” • * একজন হাত বাড়াইয়া চাবির গোছা লুইল। অপর এক ব্যক্তি বলিল, “ও ড্যাম ইট! দশ বিশ বি হ্যাংড়। ফেলে দে চাবি। চল এখন সরে পড়া যাক!” ঠিক এই সময় বাহিরে দুইবার সিটির আওয়াজ হইল,—সেই বাঁশীগলো, ফটবল খেলিবার সময় যাহা বাজায়,—ভিতরে মটর না ককির কি থাকে, ফর ফর করিয়া বাজে। এই আওয়াজ শনিবামাত্ৰ সকলের মুখে ভীতি-চিহ্ন দেখা দিল। বাহির হইতে একজন কে বলিল, “পলিসবোট । যারা যারা সাঁতার জান, জলে লাফিয়ে পড়।” এ কন্ঠস্বরে আমি চমকিয়া উঠিলাম। ঠিক যেন আমার জামাতার কন্ঠস্বর ! পর-মহমত্তে ঝাপ ঝাপ কবিয়া কয়েকজনের জলে লাফাইয়া পড়িবার শব্দ হইল । আমি বাহিরে গিয়া জ্যোৎস্নালোকে দেখিলাম, দইটা পান্সাঁভত্তি লাল পাগড়ী—একখানাতে স্বয়ং ইনস্পেক্টর হরেন্দ্রবাব। বজরাব গায়ে পানসী লাগিবামাত্র সকলে টপাটপ বজরায় উঠিয়া পড়িল। এক ব্যক্তি জলে লাফাইতে যাইতেছিল, হরেন্দ্রবাব তাহাকে ধরিয়া ফেলিলেন। যাহারা ইতিপৰে জলে পড়িয়াছিল, তাহদের ধরিতে পলিস কোনও চেষ্টা করিল না। একজন সিপাহী বড় একটা টাচলাইট জালিল অপর সিপাহীরা এক এক জনে এক এক ডাকাইতকে সজোরে জাপটাইয়া ধরিল। তাহদেরই আলোকে আমি সভয়ে দেখিলাম, হরেনবাব যাহাকে ধরিয়াছেন, সে আর কেহ নহে, আমারই জামাতা শ্ৰীমান পণচন্দ্র বাবাজী ! হরেনবাব আমাকে দেখিয়া বলিয়া উঠিলেন, “এ কি ? আপনি !” আমি ইঙ্গিতে তাঁকে কথা বলিতে নিষেধ করিলাম। ভিতরে কোনও রহস্য আছে বঝিয়া তিনি আর বিরক্তি না করিয়া ধতি আসামীদের প্রতি মনোনিবেশ করিলেন। তাঁহার আদেশে কনেচটবলরা প্রত্যেক আসামীকে পিঠমোড়া করিয়া বাঁধিল । একএকজনকে বধিয়া, ধরাধরি করিয়া পলিসবোটে নামাইতে লাগিল। আমি ইসারা করিয়া হরেনবাবকে ভিতরে ডাকিলাম। ভিতরে গিয়াই তিনি বলিলেন, “আপনি দাদা এ বজরায় এলেন কি করে ?” বলিলাম, “সে অনেক কথা, পরে সবই বলবো। এখন উপস্থিত বিপদ থেকে Ꮌ☾☾