পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বউমা বড় কি রকম করছেন।” ছোটগিরি ঝির সহিত চলিয়া গেলেন। হাদয়নাথ একাকী বসিয়া নানারপ চিন্তা করিতে লাগিলেন। ইহার প্রকৃতিটি কিছু শীতল। মনোবত্তিগুলি সহসা উত্তেজিত হয় না; কোনও একটা বিষয়ে সহসা বিশ্ববাস পথাপন করেন না। কিন্তু যে প্রকারে হউক, একবার তিনি জাগ্রত হইলে, কোনও বিষয়কে সত্য বলিয়া সিথর করিলে, আর কিছুতেই তাহা হইতে খলিত হন না। ভ্রাতুপেত্রবধর সম্বন্ধে তিনি অনেক চিন্তা করতে লাগিলেন। যে আজন্মবিধবা, সংসারের শত প্রকার প্রলোভন অতিক্ৰম করিয়া স্বীয় ব্ৰহ্মচৰ্য্যব্রত অক্ষণে রাখা তাহার পক্ষে একান্ত কঠিন বটে। তাহাতে আবার তরঙ্গিণী লেখাপড়া জানে। স্ট্রীশিক্ষার বিপক্ষে যে সমস্ত তুক উত্থাপিত হইয়া থাকে তাহদের মধ্যে একটি এই যে, সীলোক লিপিলিখনক্ষমা হইলে সমাজে অপবিত্র প্রণয়ের প্রসার বধি হইবে । হাদয়নাথ সবচক্ষে ইহার প্রমাণ দেখিয়া অত্যন্ত অভিভূত হইয়া পড়িলেন। স্ত্রীশিক্ষাবিদ্বেষ তাঁহার মনকে তরঙ্গিণীর বিরুদ্ধে প্রতি মহমত্তে বিষাক্ত করিতে লাগিল । ভাবিলেন, জ্যেষ্ঠ ভ্রাতাকে ইহা বলা উচিত কি না। না বলিলেও ত প্রতিকারের কোনও সম্ভাবনা নাই। এখানে তরঙ্গিণীকে রাখা আর কোনও মতে চলিতে পারে না। আজিও জানাজানি হয় নাই; কিন্তু ব্যাপার যেরপে গড়াইয়াছে, তাহার ত আর অধিক বিলবেও নাই। তখন যে সমাজে মুখ দেখান দকের হইবে। পত্রিকন্যাগণের বিবাহ দেওরাও কঠিন হইবে। উহাকে পথানান্তরে পাঠাইলেই বা ফল কি ? যেখানে যাইবে, সেখানেই মরিবে। যখন রাত্রি আটটা বাজিল, তখন বড় গাঁহণী ও তাঁহার জননী ফিরিয়া আসিলেন। তিনি বধগতপ্রাণা। তরঙ্গিণীর মাছার সংবাদ পাইয়া তৎক্ষণাৎ উপরে গেলেন। গিয়া দেখেন তখনও মছাভঙ্গ হয় নাই । ঝি ও ছোটগিনি তাহার শশ্রেষা করিতেছে। এমন ত কখনও হয় না, এতক্ষণ ত মছা কখনও থাকে না। এ কি সব্বনাশ হইল ? কখন মছা হইয়াছিল, তাহার পর হইতে কি কি উপায় অবলম্বন করা হইয়াছে, সমস্ত খুটিনাটি জিজ্ঞাসা করিয়া গহিণী বলিলেন, “ভারি অন্যায় হয়েছে। ছোটগন্নীকে তিরস্কার করিয়া বললেন, অতক্ষণ ধরিয়া একা ঝির হাতে রোগীকে সমপণ করিয়া যাওয়া ভাল হয় নাই। & ঝি বলিল, “বাছা, আমার গায়ে কি ক্ষ্যামতা আছে ? আমি কি একলা ওনারে ধরে রাখতে পারি ? হাত পা ছড়তে ছড়তে গড়িয়ে খাট থেকে দম করে পড়ে গেলেন, সেই অবধি মুখে একটা একটু রক্ত উঠছে।” - ক্ৰমে কত্তা বাড়ী আসিয়া সকল কথা শুনিলেন। শনিয়া বলিলেন, “হৃদয়, তুমি এতক্ষণ কি করছ ?—যাও যাও, কিছু বিহিত কর। কুমেই যে কেস খারাপ হয়ে যাচ্চে।” হৃদয়নাথ অনিচ্ছকের মত রোগিণীর কক্ষে প্রবেশ করিলেন। কিয়ৎক্ষণ পরীক্ষার গর বলিলেন, পড়িয়া গিয়া হাদপিণ্ডস্থ রক্তকোষে আঘাত লাগিয়াছে। সমস্ত রাত্রি ধরিয়া তরঙ্গিণীর চিকিৎসা ও শুশ্ৰষা চলিতে লাগিল। በ © በ প্রিয়তমার স্বামীর নাম অনঙ্গমোহন। গ্রীমাধকাশে কলেজ বন্ধ হওয়ায় সে কলা প্রভাতে শ্বশুরবাড়ী আসিয়াছে। তরঙ্গিণীর সহিত প্রিয়তমার সখিত্ব সংবাদ সে পত্রেই পাইয়াছিল। মিলনের প্রথম রাত্রে তাহারা পরস্পরকে লইয়া বিভোর, তাঁরঙ্গণীর কথ, কহিবার অবসর পায় নাই। পরদিন রাত্রি দশটার সময় প্রিয়তমা স্বামীর নিকট আসিল । প্রথম কথাবাত্তার পরই অনঙ্গ বলিল, “তোমার তরঙ্গিণীর চিঠিপত্র দেখাও না।” প্রিয়তমা বলিল, “সে কি দেখাতে পারি? সে যে বারণ করে দিয়েছে কারকে » ०१