পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমি এই অবসরে স্ত্রী-পত্রকন্যা ও বধবেশী জামাতাকে লইয়া দেশে ফিরিয়া আসিলাম। জামালপুর মহকুমার এলাকা পার হইবার পর, সুযোগ বুঝিয়া, বাবাজীকে বস্ত্রপরিবত্তন করাইয়াছিলাম—তাহাই হরেনের পরামশ ছিল। জামাতাকে নিজ বাটীতেই রাশিয়া, আমি নিজে গেলাম রাজসাহীতে বেহাইকে সুসংবাদটা দিতে। সমসত ব্যাপার শনিয়া তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, “বাড়ীর লোক ছাড়া এ কথা কি আর কেউ জানতে পেরেছে ?” বলিলাম, “না, কারার কাছে এ কথা যাতে প্রকাশ না হয়, সেই রকম ব্যবস্থা করেছি।” “ভাল করেছ। প্রকাশ হলে, ছেলেও যাবে, হরেনবাবরেও জেল অনিবাৰ্য্য।” “সে কথা সে আমায় আগেই বলেছে।” অলপক্ষণ চিন্তার পর বেহাই বলিলেন, “গ্রীমের ছুটীতে পাণ বাড়ী এল না কেন কেউ কেউ এ কথা আমাকে জিজ্ঞাসা করলে বলেছি, সে অবশ্যুর-শাশড়ীর সঙ্গে দাঙ্গিজলিঙে গেছে হাওয়া খেতে।” “কলেজও বোধ হয় এত দিনে খলে থাকবে।” “আচ্ছা, তুমি গিয়ে পণেকে এখানে পাঠিযে দাওগে । কিংবা দাঁড়াe. কাল শনিবার আছে কাছারীর পর আমিও তোমার সঙ্গে যাই চল। ছেলেকে, বউমাকেও সঙ্গে নিয়ে আসি । তার পর হস্তাখানেক বাদে ছেলেকে কলকাতায় রেখে আসবো। একটা বছর নষ্ট হয়ে গেল তা কি আর করা যাবে!” আমি বললাম, কিন্তু মেয়েকে ঘর-বসতে পাঠাবার কোনও আয়োজনই ত আমি . কারান । রেহাই ছল-ছল নেত্ৰে ভারি গলায় বলিলেন, “সে সব পরে হবে এখন। যা আয়োজন করেছ, তারই ঋণ আমি এ জীবনে শোধ করতে পারবো না ভাই।” বি-এ পাশ কয়েদী ঐক পশ্চিমের একটি সহর। জজের আদালত, ফৌজদারী আদালত, কালেক্টরী প্রভৃতি সহরের ভিতর হইলেও, জেলখানাটি সহরের বাহিরে এক মাইল দরে অবস্থিত। জেলের কত্তা অর্থাৎ জেলরবাবর নাম ইন্দ্রভূষণ সান্যাল—বয়স চয়োল্লিশ বৎসর। দীর নাম মনোরমা, বয়স আটত্রিশ। ইহাদের দুইটি পত্র-নগেন্দ্র ও খগেন্দ্র, বয়স পনর এবং পাঁচ বৎসর। কন্যা হয় নাই। জেলখানার ফটকের উপর বিতলে জেলরবাবর সরকারী বাসা। পশ্চাতে টানা বারান্দা । সে বারান্দায় দাঁড়াইলে জেলখানার ভিতরটা অনেকখানি দেখা যায়। জেলরবাবর পত্রী মনোরম সকালে বিকালে সেই বারান্দায় দাঁড়াইয়া জেলপ্রাঙ্গণে কয়েদিগণের আহার, গতিবিধি ও অন্যান্য কায্যকলাপ দেখিয়া চিত্তবিনোদন করিয়া থাকেন। মনোরমার বড় কট। কোনও প্রতিবেশিনী নাই যে, আসিয়া দুই দণ্ড গলপ করিবে, দহাত তাস খেলিবে, অথবা চলটা তাঁহার বাঁধিয়া দিবে। ডেপুটি জেলরবাব, অ্যাসিটোণ্টবাব, জেলের ডাক্তারবাব-সকলেই বাঙ্গালী, ইহাদেরও সরকারী বাস রহিয়াছে, কিন্তু সন্ত্রী নাই, বা থাকিয়াও নাই। ডেপুটিবাব বিপত্নীক, অ্যাসিস্টাটবাবরে সত্ৰী তিন মাস হইল সন্তান-সম্ভাবিত হইয়া পিত্রালয়ে গিয়াছেন, কবে ফিরিবেন, তাহার পিথরতা নাই, ডাক্তারবাবর গোহের যিনি গহিণী, তাঁহাকে ডাক্তারবাব সত্ৰী বলিয়া প্রচার করিয়া থাকেন বটে, কিন্তু জনশ্রুতি এই যে, বিবাহটা তাঁহাদের গান্ধব্ব মতে হইয়াছিল—কাজেই উক্ত মহিলার কোনও ভদ্রপরিবাস্তুের সহিত মেলামেশা নাই । কয়েক বৎসর পর্বে পিরালয় হইতে মনোরমা এক অনাথা কায়স্থ-কন্যাকে বি-স্বরাপ 5(tb" -