পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৫৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আনিয়া নিজের কাছে রাখিয়াছিল। সে প্রায় মনোরমার সমবয়সী ছিল, তার নাম ছিল —কাতু বা কাত্যায়নী। নামে ঝি হইলেও, পর্বেকালে রাজকন্যাদের যেমন "সহচরী” থাকিত, কাতু ছিল মনোরময় সেইরাপ সহচরী। উভয়ে বেশ আনন্দেই ছিল। কিন্তু গত বৎসর কাতুর গরজনপদস্থ কোনও আত্মীয়ের বিনা বেতনে একটি ঝির প্রয়োজন হওয়াতে, সে ব্যক্তি অনেক স্নেহ, কর্ণা এবং আক্ষেপ প্রকাশ করিয়া কাত্যায়নীকে পত্র লেখে এবং অবশেষে পত্র পাঠাইয়া তাহাকে লইয়া যায়। মনোরমাকে গহকাষ বেশী করিতে হয় না। বামন আছে, চাকর আছে, তা ছাড়া সরকার হইতে দুইজন জল-আচরণী কয়েদী পাওয়া যায়, তাহারা প্রাতে আসিয়া জল তোলে, বাসন মাজে, গ্রীষ্মকালে পাখা টানে। বিকালে পাঁচটার সময় তাহদের অবশ্য আবার জেলে প্রবেশ করিতে হয়। সাংসারিক কাজ-কম তেমন নাই, কি করিয়া মনোরমার দিন কাটে ? তার স্বামী দুইখানি মাসিকপত্রের গ্রাহক—মাসের প্রথম সপ্তাহটা সেইগুলি পড়িয়া কাটে। আর বাকী সাড়ে তিন সপ্তাহ ? উপন্যাস—তাও কালে-ভদে দই-একখানা কেনা হয় মাত্র । সুতরাং মনোরমার বড় কট। দই জেলরবাব প্রাতে উঠিয়া চা-পানান্তে সাতটার সময় আপিসে যান, আবার সাড়ে দশ কিংবা এগারোটায় বাড়ী আসিয়। নানাহার করেন। তৎপরে দিবানিদ্রান্তে বেলা সাড়ে তিনটায় উঠেন এবং চারিটার সময় আবার আফিসে গিয়া দই তিন ঘণ্টা সরকারী কাৰ্য্য করিয়া থাকেন। আজ অাহারাদির পর মনোরমার যখন অবসর হইল, তখন বেলা বারোটা বাজিয়া গিয়াছে। মনোরমা পশ্চাতের বারান্দায় মাদর বিছাইয়া, খোলা চলের রাশি ছড়াইয়া দিয়া, একখন্ড মাসিকপত্র হাতে লইয়া শয়ন করিল। চল শুকাইবার উদ্দেশ্যেই এ সময় এভাবে তাহার শয়ন । ভিতরের ঘরে পালঙ্কের উপর তাহার স্বামী নিদ্রিত, বড় ছেলে নগেন স্কুলে গিয়াছে ছোট খোকা অনেক দুটোমি করিবার পর অবশেষে পিতার পাশে শ্যইয়া ঘুমাইয়াছে। মনোরম পত্রিকার ছবিগলি দেখা শেষ করিয়া, তার পর সচীপত্র পরীক্ষা করিতে লাগিল। এ সংখ্যায় কয়টা গলপ আছে, তাহাই দেখিবার বিষয়। গল্প-সংখ্যার অলপতা দেখিয়া সে অত্যন্ত বিরক্ত হইয়া আপন মনে বলিল, “পোড়ারমখো কাগজওয়ালদের একট, যদি আক্কেল আছে! কেবল প্রবন্ধ আর প্রবন্ধ, কচপোড়া খাও ! প্রবন্ধ নিয়ে ত মানধি ধ.য়ে থাবে ! হাতীর মত কাগজখানা—তিনটি মোটে গল্প ! এ পড়তে কতক্ষণই বা লাগবে ?”—বলিয়া প্রথম গল্পটি পড়িতে আরম্ভ করিল। কিন্তু গল্পের অধোকটা পড়া হইবার পবেই পত্রিকাখানি বকে করিয়া ঘুমাইয়া পড়িল । বেলা যখন আড়াইটা, তখন হঠাৎ মনোরমার ঘুম ভাঙ্গিয়া গেল, কে তার পায়ে হাত দিয়া নাড়া দিতেছে। চক্ষ খলিয়া দেখিল, ঠিকাদারবাবর সন্ত্রী সরোজিনী। “ও মা, তুমি !" বলিয়া মনোরমা উঠিয়া বসিল। চক্ষ মছিতে মাছতে বলিল, “কতক্ষণ এসেছ. ভাই ?" সরোঞ্জিন" বলিল, “তা প্রায় আধ ঘণ্টা হবে :” “আধ ঘণ্টা চপ করে বসে আছ ? আমায় জাগালে না কেন ?” “আহ। অকাতরে শময়ে ঘমেচ্ছ, তুলতে মায়া হ'ল। শেষে যখন দেখলাম, ঘাম আর ভাঙ্গে না, তখন কি করি, অগত্যা পাপ- কাজটাই করে ফেললাম। তা দিদি, খবর সব ভাল ত : ছেলেপিলে ভাল আছে ? দশ-বারে দিন আসতে পারিনি, মেঝ ছেলেটার py জর হয়েছিল । め@s