পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মনোরমা বলিল, “ফটিকের জবর হয়েছিল ? কি জর ? কেমন আছে, এখন বেশ সেরে উঠেছে ত?? সরোজিনী বলিল, “হ্যাঁ ভাই, এখন সেরে উঠেছে তোমাদের আশীব্বাদে। সন্দিজরই হয়েছিল, তব ভাবনা ত কম হয়নি ! চার দিন হ’ল জরটা ছেড়েছে, কাল দটি মাছের ঝোল ভাত খেয়েছে। তোমাদের খবর সব ভাল ত ?” “হ্যাঁ ভাই, আমরা ভালই আছি। বোসো একট, চোখে-মুখে জলটা দিয়ে আসি। এই মাসিকপত্ৰখানা ওলটাও ততক্ষণ।”—বলিয়া মাসিকপত্র নবাগতার হাতে দিয়া মনোরমা উঠিয়া গেল। - মাসিকপত্রের ছবিগলে দেখা শেষ হইলে, কাগজ রাখিয়া বারান্দার রেলিঙের ফাঁক দিয়া জেলের প্রাঙ্গণের দশ্য দেখিতে লাগিল;—বিশেষ দেখিবার তখন যদিও কিছু ছিল না। কয়েদীরা সব বাহিরে কাজ করিতে গিয়াছে, কেবল চারিজন কয়েদী প্রাঙ্গণ-মধ্যস্থ পাকরিণী হইতে ঘড়া-ঘড়া জল তুলিয়া বাঁকে ঝালাইয়া কোথায় লইয়া যাইতেছে, আবার খালি ঘড়া লইয়া ফিরিয়া আসিতেছে। সরোজিনীর স্বামী ভূতনাথবাব এই জেলের ঠিকাদার। কয়েদীদের আহারের জন্য চাউল, দাইল, নদণ, তেল প্রভৃতি সমস্ত দ্রব্যই তিনি সরবরাহ করিয়া, মাসান্তে জেলরবাবর নিকট তাঁহার বিল দাখিল করেন। সরকারী হরকুম অনুসারে জেলরবাবকে প্রতি রবিবারে সহরে গিয়া খাদ্য-দ্রব্যাদির বাজার-দর জানিয়া অসিতে হয়, ততজন্য তিনি গাড়ীভাড়া পাইয়া থাকেন। তিনি সেই জ্ঞান অনুসারে ঠিকাদারবাবর বিল সংশোধনাতে উহ! পাস করেন। সতরাং জেলরবাবর উপর ঠিকাদারবাবর অসীম ভক্তি। দেখা হইলেই অ্যাভূমি নত হইয়া পদধলি গ্রহণ করেন এবং অপর কেহ সেখানে উপস্থিত থাকিলে, কারণে অকারণে জেলরবাবর বিদ্যা, বন্ধি, ধামিকতা, এমন কি তাঁহার আকৃতি অবয়বের পৰ্য্যন্ত অজস্র প্রশংসা করিয়া উপস্থিত ভদ্রলোকগণকে প্রশ্ন করিয়া থাকেন, “কি বলেন মশাই, অ্যাঁ ? আমি একটি বণও বাড়িয়ে বলছি ?” এ-দিকে আবার ঠিকাদার-গহিণীও, জেলর-গহিণীকে “দিদি" বলিতে অজ্ঞান। বাড়ীতে গাই আছে, খটি দধের ছানা কাটিয়া সন্দেশ করিয়া অনিয়া দেয়, কুল পাকিলে কুলের আচার, কাঁচা আম উঠিলে কসন্দি ও আম-তেল প্রস্তুত করিয়া উপহার দেয়। বাজার হইতে উত্তম বোম্বাই আম কিনিয়া আনিয়া মনোরমাকে দিয়া বলে, “দেশ থেকে এসেছিল, আমাদের বাগানের আম ” বাঙ্গাল-দেশের মেয়ে, ভাল সৌখীন কাঁথা সেলাই করিতে জানে, এবার জেলর-গহিণীর সন্তান-সম্ভাবনা হইলে কাঁথা সেলাই করিতে আরম্ভ করিবে, বলিয়া রাখিয়াছে। প্রায় দশ মিনিট পরে মনোরমা পাণের ডিবা ও দোক্তার কোঁটা হাতে করিয়া ফিরিয়া আসিয়া বলিল, “পাণ কটা সেজে আনতে দেরী হয়ে গেল, ভাই। চাকর-বাকরের সাজা পাণ আমার মুখে রোচে না জানই ত ” সরোজিনী বলিল, “হ্যাঁ, তা জানি বইকি, দিদি। কি চমৎকার যে তোমার পাণসাজা ! যে খেয়েছে, সেই জানে। উনি কি বলেন জান ? উনি বলেন, আমি এই যে কাজকর্ম না থাকলেও নিত্যি জেলরবাবর বাড়ী যাই, সে কেবল গিন্নীঠাকরণের সাজা পাণ খাবার লোভে। আমায় বলেন, তুমি তাঁর কাছে ঐ রকম পাণ-সাজা শিখে এস না কেন ? দিও ত দিদি, দু’এক দিন দেখিয়ে।” “আচ্ছা দেবো-বলিয়া মনোরমা মচকি হাসিল, কারণ, নিজ হাতে পাণ সে নিজের জন্যই সাজিয়া থাকে। অতিথি অভ্যাগত ত দরের কথা, স্বামীর পাণও সে কদাচিৎ সাজে; কিন্তু সরোজিনী অপ্রতিভ হইবে বলিয়া সে আর তাহা প্রকাশ করিল না। পাণ ও দোক্তা সেবন করিতে করিতে দুইজনে গল্প করিতে লাগিল। দই চারি কথার পর সরোজিনী বলিল, “ভাল মনে পড়ে গেল। আমাদের বাড়ীর পাশে যে উকীলবাব আছেন না—কেদার ভটচাব্যি—তাঁদের দেশ থেকে একজন অনাথা “. . هوهه "