পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ব্য ছোটখোকাকে সনানটা করিয়ে দিলে। এই রকম সব কাজ আর কি! তার পর ধর, যা সন্দেহ করছি, তাই যদি শেষে দাঁড়ায়—” বলিয়া মনোরমা লজ্জায় অবনতমুখী হইল। ইন্দবাব হাসিয়া বলিলেন, “তা বটে। ছোটখোকা হবার সময় কাতি ধাই ছিল, তাই অনেক উপকার পাওয়া গিয়েছিল। আচ্ছা, তুমি ত তাকে আসতে বলেছ। আসকে, তার সঙ্গে কথাবাত্তা কোয়ে দেখ, তার পর যা বিবেচনা হয় করা যাবে।” তিন মোক্ষদা আসিলে, তাহাকে দেখিয়া, তাহার সহিত কথাবাত্ত কহিয়া মনোরমার ভারি পছন্দ হইয়া গেল। সরোজিনী বলিয়াছিল, তাহার বয়স আঠারো-উনিশ, কিন্তু মোক্ষদা নিজে বলিল, তাহার একুশ পর্ণ হইয়া গিয়াছে, বাইশ চলিতেছে। পাড়া-গাঁয়ের মেয়ে হইলেও, কথায়-বাত্তায় বেশ সভ্য-ভব, অর, একটা লেখাপড়া-জ্ঞানও আছে। বলিল, বাল্যকালে সে স্কুলে পড়িয়াছিল, চতুথ মান পয্যন্ত পড়া হইলে তার বিবাহ হয় এবং সেজন্য স্কুলে যাওয়া বন্ধ হইয়া যায়। বাঙ্গালার সঙ্গে তিনখানা ইংরাজী কেতাবও সে পড়িয়াছিল, মিশ্রভাগ পর্যন্ত অণ্ডক কষিয়া গঃ সাঃ গঃ কষিতেও সরে করিয়াছিল, তা ছাড়া ভূগোলপ্রবেশ, ইতিহাস-পাঠ ইত্যাদিও পড়িয়াছিল, কিন্তু এখন সে-সব আর তাহার মনে নাই। ছেলেটিও তার বেশ শিষ্ট্রট-শান্ত। কোনওরূপ অন্যায়-আবদার নাই, দৌরাত্ম্য নাই। মনোরম তাহাকে খোরাক-পোষাক ও মাসিক চার টাকা বেতনে নিযুক্ত করিয়াছে। মনোরমা বেতনের কথা জিজ্ঞাসা করিলে মোক্ষদা বলিয়াছিল, “আমি আর কি বলবো— আপনি বিবেচনা করে যা দেবেন, তাই আমার যথেষ্ট। ভদ্রঘরে আশ্রয় পেলাম, এই আমার পরম সৌভাগ্য।” মোক্ষদার কাপড়-চোপড়ের দরবস্থা দেখিয়া মনোরমার বড় দুঃখ হইল। স্বামীকে বলিয়া ঠিকাদারবাবর দ্বারা মোক্ষদা ও তাহার পত্রের জন্য আবশ্যক বস্ত্রাদি আনাইয়া দিল। ঠিকাদরিবাব যেরপে সস্তায় জিনিষপত্র কিনিতে পারেন, এমন আর কেহই পারে না। মোক্ষদা মনোরমার হাতের কাজ কাড়িয়া নিজে করে। নিজ পত্র অপেক্ষা মনোরমার পত্র দুইটিকে অধিক যত্ন করিয়া থাকে। কী-ঠাকুরাণীকে সে দিদি এবং কত্তাকে দাদাবাব বলিতে আরম্ভ করিয়াছে—যদিও কত্তার সামনে সে বাহির হয় না, তাঁহার সঙ্গে কথা কহা ত দরের কথা। আজ রবিবার। রবিবার বিকালে ইন্দবাব আফিস যান না, এই সময় তাঁহার বাজারদর যাচাই করিবার জন্য সহরে যাইবার কথা। কাছাকাছি কোথাও ঠিকা-গাড়ীর অভিী নাই, গাড়ীর আবশ্যক হইলে সেই সহরে লোক পাঠাইতে হয়। ভূত্য গিয়াছে গাড়ী আনিতে। বড় ছেলে নগেন ম্যাচ দেখিতে গিয়াছে। ইন্দবাব দীর সহিত পশ্চাতের বারান্দায় বসিয়া ছিলেন। হঠাৎ তিনি বলিয়া উঠিলেন, “ওগো, দেখ, ঐ পুকুরের পাড়ে নিমগাছের তলায় ছোকরা-গোছ একজন কয়েদী দাঁড়িয়ে আছে দেখছ ?” মনোরমা বলিল, “হ্যাঁ, কে ও ?” “ও একজন সাধারণ কয়েদী নয়, ও বি-এ পাস।” "বি-এ পাস ? বল কি ? চরি করেছিল নাকি ?” “না, চরি নয়, ডাকাতি করেছিল বলা যায়। ও যে একজন মস্ত সবদেশী।” “কোনও স্বদেশী ডাকাতি বুঝি ?” ইন্দবাব হাসিয়া বলিলেন, “ডাকাতিও কি স্বদেশী আর বিলিতী হয় ?” “তা নয়। দেশ-উদ্ধারের জন্যে টাকা সংগ্রহ করবার উদ্দেশ্যে যে ডাকাতি, তাকেই আমি সবদেশী ডাকাতি বলছিলাম। ওর নাম কি ? কোথায় ডাকাতি করেছিল ?” "ওর নাম শরৎ বড়িয্যে। কোথায় ডাকাতি করেছিল, তা এখন আমার মনে নেই, কিন্তু সে সময় খবরের কাগজে অামি ওর মোকদ্দমার কথা পড়েছিলাম।” S૭૨ - -