পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৬৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দেখাতে।” অনঙ্গ বলিল, “আমি বুঝি কারার মধ্যে গণ্য হলাম ! আমাকে দেখাতে হবে।” প্রিয় বলিল, “তবে তরীকে জিজ্ঞাসা করি আগে।” “সে যদি হুকুম না দেয় ?” “না দেয় ত কেমন করে দেখাব ?” অনঙ্গ রাগ করিল। বলিল, “না দেখাও না দেখাবে। আমি তোমার পর, সেই তোমার আপনার।” প্রিয়তমা এ কথায় প্রতিবাদ না করিয়া নীরব হইয়া রহিল। পরদিন গিয়া সে তরঙ্গিণীকে সব কথা বলিল। তরঙ্গিণী বলিল, “না ভাই না ভাই, লক্ষীটি আমার, তোর পায়ে পড়ি, চিঠি তাঁকে দেখাসনে।" সে রাত্রে অনঙ্গমোহন সাঁকে জিজ্ঞাসা করিল, “হকুম পেলে?” প্রিয় বলিল, “না, সে ত কিছতেই রাজি হয় না।” . ইহাতে তাহার স্বামী ভারি অভিমান করিল। আজকালকার দিনে লিখিতে লজ্জা হয়—আমাদের সত্ৰীবৎসল যত্নবা নায়কটি বালকের মত অশ্রপাত করিতে লাগিল। প্রিয়তমা তখন বাক্স হইতে চিঠির বাড়িল বাহির করিয়া আনিয়া স্বামীর হাতে দিয়া বলিল, “ওগো দেখ গো দেখ। অত দুঃখতে কাষ নেই।” অনঙ্গ চিঠির বাণ্ডিল দরে ফেলিয়া দিল। বলিল, “যাও আমি দেখতে চাইনে।” এই অপমানে প্রিয়তমা মৰ্ম্মাহত হইল। মেঝের উপর বসিয়া চোখে আচিল দিয়া কাঁদিতে লাগিল। কিয়ৎক্ষণ তাহাকে তদবপথ থাকিতে দেখিয়া অনঙ্গের রাগ ভাঙ্গিল। সত্রীর কাছে গিয়া বলিল, “ওগো কাঁদতে হবে না।” ইহাতে প্রিয়তমা আরও বেশী কাঁদিতে লাগিল। অনঙ্গ তখন নানাপ্রকারে স্ত্রীকে আদর করিয়া সান্ত্বনা করিয়া তাহকে সস্থ করিল। চিঠির বাণ্ডিলটি কুড়াইয়া আনিয়া প্রথম চিঠিখানির প্রতি চক্ষ রাখিয়া বলিল, "তরঙ্গিণীর ত হাতের লেখাটি বেশ, না?” “আচ্ছা তুমি দ্য চারখানি ভাল ভাল চিঠি বেছে দাও, আমি পড়ি।" প্রিয়তমা একখানি নিৰ্বাচন করিয়া বলিল, “এইখানা পড়।” অনঙ্গ যতক্ষণ সেখানি পড়িতে লগিল, প্রিয়তমা ততক্ষণ আরও থানকয়েক চিঠি বাছিয়া বাছিয়া স্বামীর হাতে দিল। অনঙ্গ সবগুলি একে একে পড়িয়া মুখখানি বিমৰ্য করিয়া রহিল। x -- প্রিয়তমা জিজ্ঞাসা করিল, “ভাবছ কি ?” অনঙ্গ বলিল, “দেখ, তুমি আর তোমার সখীর সঙ্গে ভাব রাখতে পাবে না।” "কেন ?” " এ যে রকম চিঠি, তাতে যদি আমি সব না জানতাম, ত মনে করতাম প্রণয়ের t” “কেন সখীতে সখীতে প্রণয় কি দোষের ?” “দোষের কি না সে বিচারে কায নেই। আমি ছাড়া আর কাউকে তুমি ভালবাসতে পাবে না। কোনও সখীকে এতদর ভালবাসলে আমার প্রাপ্য ভালবাসায় কম পড়ে যাবে।” প্রিয়তমা হাসিয়া বলিল, “তুমি পাগল নাকি ?” “হাসির কথা নয়, আমার প্রাণটা কেমন করছে এ সব চিঠি পড়ে। সখীতে সখীতে, এ রকম চিঠি লেখালেখি করে কস্মিনকালে আমি সবপ্নেও জানতাম না।” “সে যে নিত্যি আমায় চিঠি লেখে, তাকে জবাব না দিলে সে আবার রাগ করবে।” “তা কুরে করবে।” ه دbس -