পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমার বড় ছেলে।” মোক্ষদা মাথায় কাপড় দেয় বঢ়ে, কিন্তু শরতের সঙ্গে রীতিমত কথা কহে। পবে ইন্দবাব মনোরমাকে বলিয়াছিলেন, “তোমার সহচরীটাকে শরতের কাছে বেশী যেতে-টেতে দিও না। দ’জনেরই পরো সোমন্ত বয়স, জান ত, চাণক্য পণ্ডিত বলেছেন, ঘি আর আগন—একসঙ্গে রাখবে না।” মনোরমা বলিয়াছিল, “সে বৃদ্ধি কি আমার নেই ? হাজার হোক, গেরস্তের মেয়ে আমাদের আশ্রয়ে রয়েছে ! ওর ভাল-মন্দ আমাকেই দেখতে হবে ত!” কিন্তু আলেপ অলেপ এ নিষেধ শিথিল হইয়া গিয়াছিল। একদিন মোক্ষদাকে শরতের সহিত কথা কহিতে দেখিয়া ইন্দবাব স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন, “মোক্ষদা এখন শরভের সঙ্গে কথা কয় দেখছি।” মনোরমা বলিয়াছিল, “এক বাড়ীতে থেকে কথা না কইলে চলে ? কুটনো কুটে দেওয়া, বাটনা বেটে দেওয়া, রান্না-বান্নার যোগাড় করে দেওয়া, সবই ত এখন মোক্ষদাই করে। ওগো, শরৎ সে ছেলে নয়, দেবচরিত্র পরষ। ওরা দুজনে রান্নাঘরে বসে কাজ-কম করছে, কতদিন এমন আমি আচমকা গিয়ে পড়েছি, কখনও দু'জনকে কথাবাত্তা কইতেও দেখিনি। গভীর মাখ। কেউ কার পানে তাকায়ও না।” যে-দিন সন্ত্রীর সহিত ইন্দবাবর শরতের অন্য জেলে বদলি হইবার প্রসঙ্গে কথাবাত্ত হইয়াছিল, তাহার এক সপ্তাহ পরে তিনি আপিস হইতে আসিয়া বলিলেন, “ওগো, শরতের বদলির হুকুম এসেছে।” - “কোথা ?” “বক্সার সেন্ট্রাল জেলে।” -পাঁচ দিন পূরে।” ইন্দবাব শরৎকে ডাকিয়াও খবরটা দিলেন। শনিয়া সে মুখখানি চণ করিয়া রহিল। শবতের বদলির সংবাদে বাড়ীসদ্ধ সকলেই দুঃখিত। ইন্দবাব বলিলেন, “ঠিকাদারবাবকে বলি, যদি জানাশনো একটা ভাল বামন যোগাড় ক’রে দিতে পারেন।” শেষ দিন কম করিয়া বিকালে জেলে প্রবেশ করিবার পর্বে শরৎ মনোরমাকে বলিল, “মা, এ-কমাস আপনার বাড়ীতে বড় সুখেই ছিলাম। যেন বাড়ীর ছেলের মত ছিলাম —আমি যে জেল খাটছি, তা আমার মনেই হত না। কাল বেলা ন’টার সময় আমায় নিয়ে যাবে। যাবার আগে একবার আপনার পায়ের ধলো নিয়ে যেতে চাই। আপনি বাবাকে বলে হুকুমটা করিয়ে দেবেন, নইলে ত সে সময় আমাকে আসতে দেবে না।” মনোরমা সজল-নয়নে স্বীকৃত হইল । পরদিন যথাসময়ে শরৎ আর আসিল না। আজ মোক্ষদাই রাঁধিবে। তবে আজ ফতেহাদোয়াজ দাহামের ছুটী বলিয়া নগেনের স্কুল নাই। রান্নার তাড়াতাড়ি নাই। সাতটার সময় যখন জেলরবাব আপিসে যাইতেছিলেন, তখন মনোরম তাঁহাকে শরতের বিষয় স্মরণ করাইয়া দিল। ইন্দবাব বলিলেন, “আমি গিয়েই তাকে পাঠিয়ে দিচ্ছি l" ইন্দনবাব চলিয়া গেলে মনোরম মোক্ষদাকে বলিল, “তুমি তা হ’লে স্নান-টান সেরে নিয়ে রান্নার যোগাড় দেখ। তোমার স্নান হয়ে গেলে আমিও সনান করে রান্নাঘরে যাব।” সতে অন্য দিন অপেক্ষা আজ একটা সকালেই—সাড়ে দশট না বাজিতেই ইন্দবাব আপিস ১৬৭