পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৬৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কাঁদছেন ।” r ইন্দবাব কিয়ৎক্ষণ সতধ হইয়া বসিয়া থাকার পর থামিয়া থামিয়া ধীরে ধীরে বলিতে লাগিলেন, “সংসারে মানুষ, চেনবার উপায় নেই!! ঐ পাজিটাকেই তুমি একদিন বলেছিলে—দেবচরিত্র পরিষে ; আর তাও ঐ মোক্ষদারই সম্বন্ধে। আর মোক্ষদাও যে এমন ভিজে বেড়ালটি, তা ত একদিনের জন্যেও সন্দেহ হয়নি ! ছি ছি ছি, ভদ্রলোকের বাড়ীর মধ্যে এ কি কাণ্ড ! দপরেবেলা আমি এ-ঘরে নাক ডাকিয়ে ঘমেই। তুমিও মাঝে মাঝে সহরে বন্ধুবান্ধবের বাড়ী নেমন্তন খেতে গিয়েছ। দিব্যি সমযোগটি পেয়েছিল ওরা। ছি ছি ছি! চলোয় যাক ! এখন কি করা যায় বল দেখি ?” মনোরমা বলিল, “ঝাঁটা মেরে বিদায় করা ছাড়া আর কি করবার আছে ? তুমি সনান ক'রে ফেল, আমার ভাতও বোধ হয় হয়ে এল।” আহারান্তে ইন্দবাব শয্যায় বসিয়া তামাক খাইতে লাগিলেন। তামাকটা শেষ হইলেই শয়ন করবেন। মনোরম মোক্ষদার ভাত বাড়িয়া অবহেলাভরে তাহার ঘরে থালাখানা ফেলিয়া আসিয়া, স্বামীর পাতে নিজে খাইতে বসিল। . ইন্দবাবা তামাকটা শেষ করিয়া, কি পড়িতে পড়িতে ঘুমাইবেন একটা বই-টই খুজিতেছিলেন, এমন সময় বড়খোকা একখানা খাতা হাতে প্রবেশ করিয়া বলিল, “বাবা, শরৎ-দ্য তার আত্ম-জীবনীখান ফেলে গেছে ৷” ইন্দনবাব অনা বহি না খুজিয়া, কৌতুহলবশতঃ সেইখানা হাতে লইয়াই শয়ন করিলেন। প্রথমে শেষটা দেখিলেন, সমাপ্ত হইয়াছে কি না। দেখিলেন, সমাপ্ত হয় নাই, ঢাকা জেলায় তাহার গ্রেপ্তারের কথা পৰ্য্যন্ত লেখা হইয়াছে। পৃষ্ঠা উলটাইয়া এখানে সেখানে দেখিতে দেখিতে দেখিলেন, একটা পরিচ্ছেদের শিরোনামা রহিয়াছে—“আমার বিবাহ।” সেই পৃষ্ঠাতেই রহিয়াছে অমুক গ্রামের অমকের কন্যা শ্ৰীমতী মোক্ষদাসন্দেরীর সহিত আমার বিবাহ হইল। পড়িয়াই তাঁহার মনে হইল, এই মোক্ষদাই মহে ত পড়িতে পড়িতে শেষ দিকে দেখিলেন, গ্রেপ্তারের সময় দেশে সত্ৰী তাহার গভবতী ছিল। তারিখ হিসাব করিয়া দেখিলেন, এই মোক্ষদার পত্রের সহিত বয়স মিলিয়া যায়। অবাক হইয়া ইন্দবাবা বসিয়া ভাবিতেছেন, এমন সময় মনোরমা তাহারান্তে আসিয়া দাঁড়াইল । ইন্দবাব বলিলেন, “ওগো, মোক্ষদাকে একবার এখানে ডাক ত।” "কেন ?” “বিশেষ দরকার। এক মহত্তে দেরী কোরো না।” মনোরমা মোক্ষদার ঘরে গিয়া দেখিল, সে যেমন শইয়া ছিল, তেমনই শুইয়া আছে, তাহার ভাত যেমন তেমনি পড়িয়া আছে। কত্তার জরুরী তলব মনোরমা কঠোর-স্বরে তাহাকে জানাইল। কাঁদিতে কাঁদিতে মনোরমার পশ্চাৎ পশ্চাৎ মোক্ষদা ঘোমটা দিয়া আসিয়া দাঁড়াইল। ইন্দবাব জিজ্ঞাসা করিলেন, “মোক্ষদা, ঐ শরৎ কয়েদী কি তোমার কেউ হয় ?” মোক্ষদা চোখে অঞ্চল দিয়া কাঁদিতে কাঁদিতে বলিল, “আমার স্বামী।” “তুমি তা হ’লে এখানে হঠাৎ এসে পড়নি ? তোমার স্বামী এখানে বদলি হয়ে এসেছে জেনেই তুমি এসেছিলে ?” “আজ্ঞে হ্যাঁ”—বলিয়া মোক্ষদা যাইবার উপক্ৰম করিল। ইন্দবাব কম্পিত-স্বরে বললেন, "মোক্ষদা, অন্যায় সন্দেহ করবার জন্যে তুমি আমা-- দের মাফ কর।” মোক্ষদা গলবসে ভূমিষ্ঠ হইয়া ইন্দবাবকে প্রণাম করিল। মনোরমা সংশয়ভরে জিজ্ঞাস-নয়নে স্বামীর পানে চাহিল। ইন্দবাব চক্ষ নত - Sసి