পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


একজন কবি, নানা মাসিকপত্রিকার সহিত তাহার সম্পক আছে, কবিতার বহিও সে দইখানি ছাপাইয়াছে। প্রেস ঠিক করিবার, প্রফে দেখিবার ও সমালোচনা বাহির করাইবার ভার সে গ্রহণ করিল। ङिम - গজে “প্রেমের ইন্দ্রজাল" নাটক আজ ছয় মাস হইল প্রকাশিত হইয়াছে, কাগজে কা উহার উচ্চ প্রশংসায্যক্ত সমালোচনাও বাহির হইয়াছে, কিন্তু কোনও থিয়েটারের অধ্যক্ষ এখনও উহার অভিনয় অধিকার লাভের জন্য অবিনাশবাবর নিকট দরবার করিতে আসিলেন না । দেখিতে দেখিতে পজা আসিয়া পড়িল। গরদাস লাইব্রেরী হইতে হিসাব পাওয়া গেল, ছয় মাসে মোট সতেরখানি মাত্র বহি বিক্রয় হইয়াছে। হিসাব দেখিয়া সষমার মুখখানি মলিন হইয়া গেল। অবিনাশবাবর বকটিও অত্যন্ত দমিয়া গেল । কিন্তু মনের সে ভাব তিনি গোপন করিয়া সম্মাকে বললেন, “দেখ বউ, এতে নিরৎসাহ হবার কিছই নেই। এ ত উপন্যাস নয়, এ হল নাটক। নাটক প্রধানতঃ কোথায় বিক্ৰী হয় জান ? থিয়েটারে, অভিনয়ের সময়। থিয়েটার দেখতে গিয়েই লোকে নাটক কেনে । নইলে শধ্যে ঘরে বসে পড়বার জন্যে নাটক কেনে খাব অলপ লোকেই ।” সষমা বলিল, “কিন্তু ওঁরা যে বলেছিলেন, বই বেরলে থিয়েটারওয়ালারা অভিনয় অধিকারের জন্যে আমাদের দরজার মাটি চাষে ফেলবে, তাই বা কোথায় ? কাগজে কাগজে বইয়ের যে অত সংখ্যাতি বেরলে, তারই বা ফল কি হল ? অবিনাশবাবদ বললেন, “হাঃি ੇ যেমন । ঐ সব মাসিকপত্র-টর থিয়েটারওয়ালারা পড়ে বুঝি? তাদের সময় কোথা ? এমন একখানা ভাল নাটক যে বেরিয়েছে, সে খবরই এখনও হয়ত তাদের কাছে পৌছয়নি। বই যে খব ভালই হয়েছে, তার প্রমাণ ত ঐ সব সমালোচনা থেকেই পাওয়া যাচ্ছে।” “সব সমালোচনাই বোধ হয় তোমার ঐ ভক্তিমান ছাত্র পঞ্চাননেরই লেখা। সব কাগজেই ও কবিতা লেখে,---কাগজওয়ালাদের সঙ্গে খাতির আছে, সে যা সমালোচনা লিখে দিয়েছে তাই বোধ হয় তারা ছেপেছে।” যদিও পশ্চানন পন্টতঃ এ কথা স্বীকার করে নাই—তথাপি অবিনাশবাবরেও মনে মনে সন্দেহ ছিল যে, সমালোচনাগুলি তাহার কর্তৃক,—অন্ততঃ তাহারই ইঙ্গিতে লিখিত। সতরাং এ কথার জবাব না দিয়া তিনি বলিলেন, "কিন্তু, যেদিন নাটক পড়া হল, ইউনিভাসিটির অতগুলো দিগগজ প্রোফেসার, তাঁরা কি বলেছিলেন তোমার মনে নেই ? —তুমি কি বলতে চাও, তাঁদের সে প্রশংসা আন্তরিক নয়, কপটতা-পাণ ?” সষমা বলিল, “তাঁদের প্রশংসা যে কপটতা-পাণ সে কথা আমি বলতে চাইনে। সত্যিই তাঁদের ভাল লেগে থাকবে,—তাঁরা বা বলেছেন, সে তাঁদের আন্তরিক কথাই সন্দেহ নেই। কিন্তু সকল দিক বিবেচনা করে দেখ। তাঁরা সকলেই তোমার বন্ধ তোমায় স্নেহ করেন, ভালবাসেন। বাঙ্গলা দেশে সন্ত্রীশিক্ষার এই অবস্থার দিনে, তাঁদের এক প্ৰিয়বন্ধর সন্ত্রী বই লিখেছে এই সংবাদেই তাঁরা খসী। তুমি আদর করে বই শনতে তাঁদের নিমন্ত্রণ করেছ—তাঁরা ত বই ভাল লাগবার জন্যে প্রস্তুত হয়েই এসেছেন। তা ছাড়া, আগে থেকেই বইয়ের প্রশংসা করে তুমি তাঁদের মনও ভিজিয়ে রেখে দিয়েছিলে। তাঁরা জিনিষটাকে দেখেছেন সেনহের বন্ধনপ্রীতির রঙ্গীন চশমার ভিতর দিয়ে, সতরাং ঠিক দেখেন নি।” সত্রীর এই বক্ততা শুনিয়া অবিনাশবাব কিয়ৎক্ষণ নিরক্তের হইয়া রহিলেন। তারপর বলিলেন, “সে যা হোক, আমি কি স্থির করেছি জান ? যমিন দেশে যদাচারঃ। এ »ግ8