পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৭৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


য়রোপ ময়—খয়ে বসে থেকে গণী তার ন্যায্য প্রাপ্য পায় না। চেষ্টা-চরিত্র করে গণীকে তার প্রাপ্য আদায় করে নিতে হয়। পঞ্চাননের সঙ্গে ডায়মণ্ড থিয়েটারের ম্যানেজারের আলাপ আছে। তাকে সঙ্গে নিয়ে আমি একদিন যাই, গিয়ে বই একখানা দিয়ে আসি ; স,যমা একটা ভাবিয়া দীঘনিঃশ্বাস ফেলিয়া বলিল, “তুমি যা ভাল বোঝ, কর। আমি আর কি বলবো ?” I 瓦丽 ü আরও ছয় মাস কাটিল। নাটকখানি পঞ্চাননের ওকালতী সত্ত্বেও “ডায়মণ্ড” থিয়েটার ফেরৎ দিয়াছে। তারপর “অ্যাভিনিউ থিয়েটার, তারপর “বীণাপাণি” থিয়েটারে চেষ্টা করা হইয়াছিল, ফল পাববৎ। পাণ্ডুলিপিখানি এখন "লীলা” থিয়েটারের হসেত— তাঁহাৱা কি করেন বলা যায় না। "প্রেমের ইলাঙ্গাল”খানি সষমা বাসতবিক প্রাণ দিয়া লিখিয়াছিল। মখে সে ইহাকে রাবিশ বলকে আর যাহাই বলক, অন্তরের অন্তসতলে তাহার বিশ্বাস যে নাটকখানি উচ্চদরের হইয়াছে। তাই বহি বিক্ৰয়ের হিসাব দেখিয়া এবং উপযর্ন্যপরি তিনটি থিয়েটার হইতে নাটকখানি ফেরৎ আসায় সে বড়ই বকভাঙ্গা হইয়া পড়িয়াছে। ভাদ মাসে একদিন ভিজাকাপড়ে ঘণ্টাখানেক গহ-কাৰ্য্য করায় সৰ্ষমার জর হইয়া পড়িল। তিন চারি দিন জরভোগের পর উহা ছাড়িল বটে, কিন্তু পরদিন আবার প্রবলতর বেগে দেখা দিল। সারা ভাদ্র মাস এইরপ চলিল। ইহাতে সষমার দেহ বলিতে গেলে কল্পকালসার হইয়া পড়িল । অবিনাশবাব যে কয় ঘণ্টা কলেজে থাকেন, তা ছাড়া সমস্তক্ষণ রানা পত্নীর শয্যাপাশেব বসিয়া কাটান। তাঁহার বন্ধবেগ প্রত্যহ সুষমার অবস্থার সংবাদ লন। সধমা এখন অনেক সময় অজ্ঞান অবস্থায় থাকে। একদিন জ্ঞান হইলে সে সবামূীকে বলিল, “ওগো, দেখ আমি ভারি চমৎকার একটা সবপন দেখেছি। যেন একটা প্রকান্ড বড় হল, তার শেষে মেটজ, সেই টেজে যেন “প্রেমের ইন্দ্রজাল” প্লে হচ্চে, লোক একেবারে গিস গিস করছে। কত সব সাহেব মেম পৰ্য্যন্ত দেখতে এসেছে। তোমাকেও দেখলাম সেই সাহেব মেমদের দলেই। আমি যেন দোতলায় চিকের আড়ালে বসে আছি। আচ্ছা লীলা থিয়েটারের হলটা কি খুব বড় ?” অবিনাশবাব বললেন, “তাদের হল ত আমি দেখিনি। দ্যুতিন দিন শুধ, ম্যানেজারের বসবার ঘরে ঢুকেছিলাম।” "ওগো, তুমি যাও না একদিন, ম্যানেজার কি বলে জেনে এসো।” "তোমায় ফেলে কি করে আমি যাই বউ ?” “তা হোক, তুমি যাও একদিন। কালই যাও না, কলেজের পর। এত যখন দেরি হচ্ছে, তারা বোধ হয় নেবে ঠিক করেছে। ফিরে আসবার হ’লে এতদিনে আসতো বোধ হয়। ডায়মন্ড থেকে, অ্যাভিনিউ থেকে, বীণাপাণি থেকে ফিরতে ত এত দেরি হয়নি।” “আচ্ছা দেখি, যদি কাল সময় করতে পারি।”—বলিয়া অবিনাশবাব ঘড়ি দেখিয়া, রোগিণীর মখে চামচে করিয়া বেদানার রস দিতে লাগিলেন। পরদিন প্রাতে ডাক্তারবাব আসিলে, অবিনাশবাব তাঁহাকে রোগিণীর অবস্থা, বিশেষ করিয়া ঐ সব নদর্শন বক্তান্ত, খলিয়া বলিলেন। ডাক্তারবাব বলিলেন, “মনটা অত খারাপ বলেই চিকিৎসার তেমন সফল পাওয়া যাচ্ছে না। ঈশবর করন লীলা থিয়েটার ওঁর নাটকখানি নেয়!” সেদিন কলেজের পর, পঞ্চাননকে সঙ্গে লইয়া অবিনাশবাব লীলা থিয়েটারে গমন করিলেন। ম্যানেজারবাব বললেন, “না মশাই, বইখানি চলবে না—এই নিন” বলিয়া পাণ্ডুলিপি ফেরৎ দিলেন। গর পত্নীর রোগের অবস্থা, তাঁহার সব নদর্শন বক্তান্ত, ডাক্তারবাবর উপদেশ, পঞ্চানন Yo@