পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সমস্তই অবগত ছিল। শিক্ষক ও ছাত্র অত্যন্ত বিমষ মনে ফিরিতেছিলেন। পঞ্চানন হঠাৎ দাঁড়াইয়া বলিল, “স্যার!” অবিনাশবাব দাঁড়াইলেন। পঞ্চাননের মাখ পানে চাহিয়া দেখিলেন, তাহার চক্ষ দাইটি ব্যাকুল মিনতি-পাণ। বলিলেন, “কি হে ?” পঞ্চানন বলিল, “স্যার, আমি একটা অন্যায় কম করবো—একটা মিথ্যে কথা বলবো, আমায় অনুমতি দিন। আমি মাকে গিয়ে বলবো, প্রেমের ইন্দুজাল’ লীলা থিয়েটার নিয়েছে—বই রিহাসলে পড়েছে—আসছে শনিবারের পরের শনিবারে প্লে আরম্ভ হবে।” অবিনাশ একটি দীঘনিঃশ্বাস ফেলিয়া বলিলেন, “ওঃ, চল। আচ্ছ ভেবে দেখি।” বড় রাস্তার মোড়ে আসিয়া অবিনাশবাব ট্রামের জন্য দাঁড়াইলেন। পঞ্চানন বলিল, “সারি, আপনার বোধ হয় মিথ্যেকথা তেমন সহ্য হয় না, আপনার এখন বাড়ী গিয়ে কাজ নেই। আমি বাড়ী গিয়ে মাকে ঐ কথা বলিগে । তাঁকে বলবো যে বিশেষ কাজে আটকে পড়ে আপনি লীলা থিয়েটার যেতে পারেন নি, আমাকে পাঠিয়েছিলেন, আমি গিয়ে দেখলাম অ্যাকচয়ালি রিহাসল চলচে। তাই ছুটতে ছুটতে স্যারকে খবর দিতে এসেছি, স্যার কই ?” অবিনাশবাব বলিলেন, “আচ্ছা, তাই না হয় বলগে। আমি গোপালবাবর বাড়ীতে খানিক বসে তার পর যাব এখন।” পঞ্চানন বলিল, “আর স্যার, খাতাখানি কাইণ্ডলি উপরে নিয়ে যাবেন না, বৈঠকখানা ধরে দেরাজে বন্ধ করে তার পর উপরে যাবেন ।” “বেশ, তাই করবো।”—বলিয়া উভয়ে ট্রামে উঠিলেন। অবিনাশবাব চোরবাগানের মোড়ে নামিয়া, গোপালবাবরে বাড়ীর দিকে চলিলেন। আরও ঘণ্টাখানেক পরে বাড়ী পেপছিয়া অবিনাশবাব দেখিলেন, সুষমা নিদ্রিত, তাহার গালে চোখের জলের দাগ। ঘন্টাখানেক পরে সষমা জাগিয়া বলিল, “ওগো, পঞ্চাননের সঙ্গে তোমার দেখা হয়নি?” “হ্যাঁ, হয়েছে বইকি! তাকে লীলা থিয়েটারে পাঠিয়েছি। ম্যানেজার কি বললে কালকে কলেজে বোধ হয় শুনতে পাব তার কাছে।” সষমা ক্ষীণস্বরে বলিল, “সে এসেছিল ঘণ্টাখানেক আগে । ওরা বইটে নিয়েছে— রিহাসাল চলচে-পঞ্চানন দেখে এসেছে। আসছে শনিবারের পরের শনিবারে নাকি খলবে বলেছে!” অবিনাশবাব মুখে কৃত্রিম হাসি টানিয়া আনিয়া বলিলেন, “নিয়েছে ? আঃ, বাঁচা গেল। আজ হ’ল কি বার ? বন্ধবার। বাধে বধে আট বহপতিতে নয়, শব্রুে দশ, শনিতে এগারো। এগারো দিন পরে প্লে আরম্ভ হবে, প্রথম রজনীতে আমরা দু’জনে দেখতে যাব না ? তুমি শীগগির ভাল হয়ে নাও।” সষমা বলিল, “দেখি চেষ্টা করে !” সষমার বেদানার রস পান করিবার সময় হইয়াছিল। উহা পান করিয়া সে ঘুমাইয়া পড়িল। অবিনাশবাব লক্ষ্য করিলেন, তাহার মাখে শান্তি বিরাজ করিতেছে। ৷৷ পাঁচ ॥ এই কালপনিক শুভসংবাদ বাসতবিকই সক্ষমার ব্যাধিতে মহৌষধির কাষ" করিল। দিন দিন সে সস্থ হইয়া উঠিতে লাগিল। পঞ্চাননের পরামশে বিজ্ঞাপনের ভয়ে বাড়ীতে সংবাদ-পত্রের প্রবেশ একেবারে নিষিদ্ধ হইয়াছে। সে মাঝে মাঝে আসিয়া তাহার গরপত্নীকে রিহাসাল-সম্বন্ধে নানা কাল্পনিক ጏዓg