পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অভিনীত হয় নাই, প্রোগ্রামখানি পয্যন্ত জাল, ঐ সংবাদ তাহার প্রাণ বাঁচাইবার জন্য সস্নেহ ষড়যন্ত্র মাত্র—তখন আর তার মনে বিশেষ দুঃখ হয় নাই। হারানো মেয়ে l৷ এক ৷ বহুকাল পশ্চিমে সমরবিভাগ চাকরি করিয়া ৫৭ বৎসর বয়সে সারদাবাব পেন্সন লইলেন। তাঁহার ইচ্ছা হইল, জীবনের শেষ বৎসর কয়েকটা পিতৃপিতামহের ভিটায় কাটাইয়া দিবেন। সপরিবারে দেশে ফিরিয়া, ঘর-দয়ার কতক কতক মেরামত করিয়া, নিজ গ্রামে তিনি বসবাস আরম্ভ করিলেন, কিন্তু মনও টিকিল না, তাহার উপর ম্যালেরিয়ার জবালায় অস্থির হইয়া উঠিলেন। তখন সারদাবাব গ্রামের বাস উঠাইয়া, কলিকাতায় আসিয়া ভবানীপরে একটি দ্বিতল বাটী খরিদ করিয়া সৰ্থায়ী হইয়া বসিলেন। তাহার দই পত্র তিন কন্যা। বড় ছেলেটি লাহোরে চাকরি করিতেছে এবং সপাররারে সেখানেই আছে। ছোট ছেলে লাহোর কলেজে বি-এ পড়িতেছে। বড় মেয়েটির বিবাহ হইয়াছে, সে নিজ বশ্যরালয় লক্ষেীয়ে থাকে। ছোট মেয়ে চৌদ্দ বৎসরে পড়িয়ছে, তাহার বিবাহ এখনও দিয়া উঠিতে পারেন নাই, সেজন্য সারদাবাব গৃহিণীর নিকট নিত্য গঞ্জন লাভ করেন। ভবানীপুরে আসিয়া সারদাবাব উৎসাহের সহিত আদিগঙ্গায় প্রাতঃসনান আরম্ভ করিয়া দিলেন। এই সরে পাড়ার আর কয়েকজন গংগাস্নানার্থী ভদ্রলোকের সঙ্গে তাঁহার আলাপ পরিচয় হইয়া গেল। তাঁহারাও সারদাবাবর মতই নিচকমণ ও পরিণতবয়সক। ক্রমে পরস্পরের গহে যাতায়াত এবং পরিণামে সারদাবাবরেই বৈঠকখানায় আড়া স্থাপন হইল। প্রত্যহ সন্ধ্যার পর বন্ধুরা একে একে আসিয়া উপস্থিত হন । সারদাবাব পশ্চিমে ছিলেন, টাকাও রোজগার করিয়াছেন বিস্তর, দিল ছিল দরিয়ার মত বিস্তৃত, আতিথ্য-বিষয়ে চিরদিন মন্ত-হন্তই ছিলেন। এখানেও চা-চর্ট তামাক বিতরণে কাপ"ণ কর; তাঁহার ধাতে সহিল না। যে বন্ধগুলি সংগ্ৰহ হইয়াছিল, তাঁহাদের মধ্যে একটির প্রতি সারদাবাবর মনোবৈাগ বিশেষভাবে আকৃষ্ট হইল। তাঁহার নাম ভগবতীচরণ চট্টোপাধ্যায়। বয়স তাঁহার সারদাবাবর চেয়ে দই এক বৎসর বেশীই হইবে। তিনিও গভর্ণমেণ্টের পেন্সন-ভোগী । ঠিক পাড়ায় নয়, একট দরেই তাঁহার গহ । তথাপি এই আড়ায় আসিয়া প্রায়ই তিনি হাজিরা দেন। এখন, ইহার প্রতি সারদাবাবর বিশেষ আকর্ষণের কারণটা খলিয়া বলি। ভগবতীবাবর একটি পত্র আছে, বছর পচিশ ছাব্বিশ তাঁর বয়স। তাহার নাম কুলদাচরণ সেই ভগবতীবাবর একমাত্র পত্র। বছর পাঁচেক পর্বে কুলদার বিবাহ হইয়াছিল, আজ এক বৎসর কাল সে বিপত্নীক। প্রথম সন্তান প্রসব করিবার কালেই কুলদার স্ত্রী মারা যান, একটি ছেলে হইয়াছিল : সেটি সাতদিন মাত্র জীবিত ছিল। কুলদা আই-এ পাস করিয়া আপিসে ঢকিয়ছিল, এখন পচাত্তর টাকা বেতন পায় আপিস ভাল, উন্নতির আশা আছে, ছেলেটি দেখিতেও ভাল, তার উপর বেশ বন্ধিমান ও সচ্চরিত্র। ভবানীপুরে আসিয়াও সারদবাব মেয়ের জন্য পাত্রের সন্ধান করিতেছিলেন, সুবিধা মত অন্য কোন পাত যদি না-ই পাওয়া যায়, তবে কুলদার সঙ্গে কনিষ্ঠ কন্যার বিবাহের সবন্ধ করবেন, » ጓw”