পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ইহাই তাঁহার মনোগত অভিপ্রায়। কিন্তু ভগবতীবাবর সাক্ষাতে এখনও এ কথা তিনি পাড়েন নাই। আরও ভাল পাত্র যদি পাই, এই আশায় কিছুদিন কাটাইলেন। কিন্তু তেমন মনের মত পার জটিতেছে না দেখিয়া, অবশেষে ভগবতীবাবর কাছে তিনি কথাটা পাড়িলেন। সেদিন সন্ধ্যায় ঘটনাক্ৰমে অন্য কোনও বন্ধ সারদাবাবরে বৈঠকখানায় উপস্থিত ছিলেন না। ভূত আসিয়া দই পেয়ালা চা দিয়া গেল। চা-পান করিতে করিতে সারদাবাব ভগবতীবাবকে বলিলেন, "চাটযো-মশাই, আপনার বৌমা তো প্রায় একবৎসর হল গত হয়েছেন ছেলের বিয়ে দিচ্চেন না কেন ? আমার ছোট মেয়েটিকে আপনি দেখেছেন তো! মেয়ে বড় হয়েছে, সাজবেও ভাল আপনার ছেলের সঙ্গে। যদি মত করেন—” ভগবতীবাব বললেন, “মেয়ে ত আপনার খাসা মেয়ে। কিন্তু হলে হবে কি! ছেলের বিয়ে আমি কি ইচ্ছে করে দিচ্চিনে সারদাবাব ? ছেলে রাজি হয় কই ?” “কেন, রাজি হয় না কেন ? কিই বা তার বয়স ! ও-বয়সে কত লোকের তে প্রথম বিবাহই হয় না।” ভগবতীবাব বললেন, “তা সে বোঝে কই বলন! আমার ধরন ঐ একটি ছেলে। ও যদি আর বিয়ে না করে তা হ’লে তো বংশটাই লোপ হ’ল। কত ভাল ভাল সম্বন্ধ এল, ও কিছতেই রাজি হয় না। আমি কত বোঝালাম, ওর গভধারিণী কত কান্নাকাটি করলেন, কিছুতেই কিছ হ'ল না। দেখে শুনে আমরা তো একরকম হালই ছেড়ে BBBB BBBS BBBS BBB S SBBBB BBB SDBB BBBBBBB BBS BBB BB করিয়া পাণ মুখে দিলেন। সারদাবাব বলিলেন, “সে বউয়ের শোকটা বড় বেশী লেগেছে বোধ হয় ওকে ” “তা লেগেছে বটে ; বউমা বাওয়ার পর থেকে ও মাছ-মাংস ছেড়ে দিয়েছে. আতপান্ন ধরেছে, একবেলা মাত্র খায়,—বলে আমি ব্রহ্মচষ্য অবলম্বন করেছি। ব্রহ্মচর্যা করছে, আর পদ্য লিখছে।” “পদ্য লেখে নাকি : “হ্যাঁ, বউয়ের নামে রাশি রাশি পদ্য লিখেছে। ফি রবিবারে, খেয়ে দেয়ে, খাতা পেন্সিল নিয়ে, ইটিমারে গঙ্গা পার হয়ে শিবপুরে কোম্পানির বাগানে যায়, সেইখানে গাছতলায় বসে বসে না কি বউয়ের জন্যে কাঁদে, আর পদ্য লেখে। এ কথা তার বন্ধদের মখেই আমি শুনেছি।” সারদাবাব বললেন, “ও রকম তো কতই শোনা গেছে। ঐ রকম ব্রহ্মচষ"-টষ্য বেশী দিন তো টেকে না—শেষ কালে হয় নিজেই খুজে পেতে আবার বিয়ে করে. না হয় একটা কেলেণ্ডকারি করে বসে।” উভয়ে নীরবে তামাক টানিতে লাগিলেন। অন্যান্য বন্ধগণও একে একে আসিয়া সভাপথ হইতে লাগিলেন। u দুই ॥ উপরে বর্ণিত ঘটনার মাসখানেক পরে, এক রবিবারে কবি-ব্রহ্মচারী কুলদাচরণ আহারাদি সরিয়া যথানিয়মে খাতা পেন্সিল লইয়া, শিবপর যাত্রা করিল। . বক্ষতলে নিজন স্থানে বসিয়া, কবিতার খাতা খলিয়া কুলদা কবিত: লিখিতে প্রবত্ত। আজ এক ঘণ্টার উপর এই ভাবে সে বসিয়া আছে, মেটে পাঁচটি লাইন লেখা হইয়াছে, ষষ্ঠ লাইনটি দই তিনবার লিখিয়া, কাটিয়াছে, কিছতেই আর মনের মত হইতেছে না, এমন সময় অদরে কোনও রমণীর ক্লন্দনধনি তাহার শ্রবণপথে প্রবেশ করিল। কুলদা চমকিয়া উঠিল। এখানে, এ সময়ে, কে সীলোক কাঁদে ? খাতা ও পেন্সিল পকেটে ভরিয়া সে চট করিয়া উঠিয়া পড়িল, এবং যে দিক হইে ※ দিকে ছুটিল । হইতে শবদ আসিতেছিল, সেই