পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৭৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দহটা মাত্র বক্ষের অন্তরাল পার হইয়া কুলদা দেখিল বক্ষতলে একটি বাংগালীর মেয়ে বসিয়া, দই হাতে মুখ ঢাকিয়া, ফলিয়া ফলিয়। কাঁদিতেছে। মুখখানি সে দেখিতে পাইল না, হাত দুখানির রঙ বেশ ফসর্গ, বস্ত্রাদি ভদ্রলোকের মেয়ের মতই। আকার দেখিয়া, মেয়েটি বালিকা না যাবতী তাহা কুলদা ঠিক ঠাহর করিতে পারিল না। নিকটে গিয়া বলিল, “এখানে বসে আপনি কাঁদছেন কেন ? কি হয়েছে আপনার ?" শনিয়া মেয়েটি মুখ হইতে হস্তাচ্ছাদন খালিয়া, একবার মাত্র আগন্তুকের মাখের দিকে চাহিল। আবার সে মুখ ঢাকিয়া কাঁদিতে লাগিল; তাহার কান্নার বেগ বাডিয়া গেল । মেয়েটির তরণ-মুখখানি দেখিয়া কুলদা অনুমান করিল, ইহার বয়স বড় জোর তের চৌদ্দ বছর, সুতরাং স্থির করিল, ইহাকে আপনি বলার কোনই প্রয়োজন নাই। আবার tস জিজ্ঞাসা করিল, “কেন তুমি কদিছ বল না। তোমার কিছ ভয় নেই, কি হয়েছে বল। যদি তোমার কোনও উপকার আমার দ্বারা সম্ভব হয়, তা নিশ্চয়ই আমি করবো।” তব মেয়েটি মুখও খোলে না, উত্তরও করে না। কুলদা অত্যন্ত ব্যাকুল হইয়া পড়িল । বারমবার জিজ্ঞাসা করিতে মেয়েটি অবশেষে ফোঁপাইতে ফোঁপাইতে বলিল, “আমার সববনাশ হয়েছে, আমি হারিয়ে গেছি।” কুলদার প্রশ্নের উত্তরে নিজের ইতিহাস মেয়েটি যাহা বালল তাহা এই। জন্মবিধি পিতামাতার সহিত সে পাঞ্জাবে ছিল, জলন্ধরে কনা-মহাবিদ্যালয়ে পাঠ করিত। তাহার নাম কমলা। সম্প্রতি পিতার সহিত যে কলিকাতায় আসিয়াছিল। আজ বেলা দশটার পর চটীমারে পিতা তাহাকে এই বাগান দেখাইতে আনিয়াছিলেন। বেড়াইয়া বেড়াইয়া তাহার অত্যন্ত ক্ষুধা পায় : তাই পিতা তাহাকে এইখানে বসাইয়া, খাবার কিনিতে বাজারে গিয়াছেন । তিন ঘণ্টা অতীত হইয়ছে, এখনও তিনি ফিরিলেন না, নিশ্চয়ই তাঁহার কোন অভাবনীয় বিপৎপাত হইয়াছে। কুলদা মনে মনে বলিল, “দেখ দেখি একবার আক্কেল লোকটার ! মেড়োর দেশে থাকে কিনা—কত আর বৃদ্ধি হবে ? এই সোমত্ত মেয়েটাকে এখানে একলা ফেলে বাজারে গৈছেন খাবার কিনতে ! বাজার কি এখানে ?” মেয়েটি আবার কান্নার উপক্ৰম করিতেছে দেখিয়া কুলদা বলিল, “তুমি কিছ ভয় কোরো না, নিশ্চয়ই তোমার বাবা আর বেশী দেরী করবেন না, এইবার ফিরবেন। চল বরঞ্চ আমরা ফটকের কাছে গিয়ে বসে থাকি। তিনি আসছেন দীর থেকেই আমরা দেখতে পাব। তিনিও বাগানে ঢুকতেই তোমায় দেখতে পাবেন। এস আমার সঙ্গে, কিছ ভয় নেই তোমার। তোমাকে তোমার বাবার হাতে জিন্মে করে দিয়ে তার পর আমি যাব এখান থেকে।” 3. মেয়েটি কাঁদিতে কাঁদিতে কুলদার পশ্চাৎ পশচাং চলিল। যাইতে যাইতে বলিল, সন্ধ্যে অবধি অপেক্ষা করেও বাবার যদি দেখা না পাই, তা হলে কি হবে আমার ?” কুলদা বলিল, “তোমার কোনও চিন্তা নেই। সন্ধ্যা পৰ্য্যন্ত এখানে অপেক্ষা করেও যদি তাঁর দেখা না পাওয়া যায়, তোমাকে ভবানীপুরে আমাদের বাড়ীতে নিয়ে যাব, তার পর তোমার বাবার সন্ধান করবো। জলন্ধরে তোমার মাকে চিঠি লিখবো তোমার আত্মীয়সবজন যে যেখানে আছেন চিঠি লিখবে; ” বসিয়া বসিয়া সন্ধ্যা হইল, মেয়েটির পিত। কিন্তু ফিরিল না। কুলদা তখন শেষ টেীমারে তাহাকে কলিকাতায় আনিল, এবং বাড়ী আসিয়া তাহকে নিজ জননীর নিকট সমপণ করিয়া সমস্ত অবসথা তাঁহাকে জানাইল । জননী গোপনে একটা হাসিলেন । ৷ তিন ॥ দিয়াছেন। এক সপ্তাহ কাটিল, কিন্তু মেয়েটির পিতার কোন সন্ধান কুলদা করিতে - У be -