পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


য়াছি, তোমার ইহাতে কোন দোষ নাই। . বরং প্রথমে তুমি অসম্মত ছিলে। আর তাঁহার সহিত সরবালাকে পাঠাইয়া দিব। তোমার মা বধকে পাইয়া পত্রবিচ্ছেদশোকে সন্ত্বনা লাভ করিবেন। যখন তুমি মনে জানিতেছ এ কায গহিত নয়, ইহার ভাবীফল সব্বাংশে শাভই হইবে, তখন একটু আধট অসুবিধা ও সেণ্টিমেন্টালিটির জন্য কায হারান নিতান্ত বোকামি।”—এই পৰ্য্যন্ত বলিয়া, অলপ হাসির ভূমিকার সহিত বললেন —“আর তোমার উপর তোমার সে পিতার অপেক্ষা আমারই অধিকার বেশী—কারণ আমি হইলাম ফাদার-ইন-লা;-আমিই তোমার আইনসংগত পিতা।” এই বলিয়া তিনি হোঃ–ওহ-ওহ করিয়া উচ্চহাস্য করলেন, এবং নির্বাপিত চরটটি পনবার প্রজালিত করিয়া স্বচ্ছন্দমনে সতেজে ধুমপান করিতে লাগিলেন। সেই দিন বৈকালে দই তিন ঘণ্টাকাল রামসন্দর বশরের সহিত দোকানে ঘরিয়া ঘরিয়া পোষাক পরিচ্ছদ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্ৰয় করিল। সন্ধ্যার পর এক পরিচিত সাহেব ব্যারিস্টারের নিকট নিমাইবাবা তাহকে লইয়া গেলেন।. তাঁহার কাছে বিলাতে বাস করা সম্বন্ধে নানাপ্রকার উপদেশ এবং কয়েকখানি পরিচয়-পত্র পাওয়া গেল। জাহাজে স্থান রাখিবার জন্য বোম্বাইয়ে টেলিগ্রাফ করা হইল। সেইদিন রাত্রেই তিনটার মেল-ট্রেণে রামসন্দের সাহেব সাজিয়া যাত্রা করিল। কোনওরপে বিদ্রোহাশঙ্কায় এই সংবাদ অন্তঃপরে প্রচারিত হইল না। নিমাইবাব গহিণীকে বড়ই ভয় করিতেন। মেয়েরা জানিলেন, রামসুন্দর কলিকাতায় ফিরিয়া গিয়াছে। কিন্তু পরদিনই হরিবল্লভবাব আসিয়া উপস্থিত হইলেন। তখন সকল কথা ফসি হইয়া গেল। কিয়ৎক্ষণের জন্য অন্তঃপরে বিলক্ষণ কোলাহল উত্থিত হইল । আমরা বিশ্ববস্তসত্রে অবগত হইয়াছি, ইন্দবালা এই ব্যাপারসম্বন্ধে একটি কথাও বলে নাই। সখের বিষয়, হরিবল্লভবাবকে ঠাণ্ডা করিতে বিশেষ কষ্ট পাইতে হইল না। বেহাই তাহার পত্রের জন্য অত টাকা খরচ করিতে প্রস্তুত হইয়াছেন, বেহাইয়ের উপর রাগ করা অসম্ভব হইয়া পড়িল। বিশেষতঃ নিমাইবাব এবং তাঁহার বন্ধগণ বন্ধকে ভাল করিয়া বঝাইলেন, বিলাতে প্রবাসকালে অথবা পথে, কোনও বিপদসম্ভাবনা নাই, কোনও ভয় নাই, কোনও চিন্তা নাই, কত লোক যাইতেছে ইত্যাদি। পর্বেপরামশমত সরবালাকে তাঁহার সঙ্গে পাঠাইয়া দেওয়া হইল। " উপসংহার আমরা গল্পলেখকেরা বিধাতার বরে অনেক অসাধ্য সাধন করিতে পারি বটে, কিন্তু আমাদেরও ক্ষমতার একটা সীমা নিদিষ্ট আছে। বিলাত-ফেরত ব্যক্তিগণ আমাদের গল্পের বিষয়ীভূত হইলে, তাঁহাদিগকে মিটার ছাড়া অন্য কিছু বলা আমাদের সেই ক্ষমতাসীমার অতীত। মিটার রামসন্দের বিলত হইতে ফিরিয়া এলাহাবাদ হাইকেটে ব্যারিস্টারের ব্যবসায় আরম্ভ করিয়াছেন। দই বৎসরেই বেশ পশার জমিয়া গিয়াছে। পিতা মাতা পত্রের সম্পদে তাহার পর্বেকৃত অপরাধ বিস্মত হইয়াছেন। একটা জাঁকাল রকমের প্রায়শিচত্ত ক্লিয়ায় সমাজও রামসুন্দরকে মাতজনা করিয়াছে। আপাততঃ মাজনা ক৷রয়াছে বটে কিন্তু কন্যার বিবাহের সময় কোনও গোল উঠিবে কিনা বলা যায় না। রামসন্দর দেশের বাড়ীতে চাবি বন্ধ করিয়া পিতা মাতাকে মাঝে মাঝে লইয়া আসেন, কিন্তু এখানে অত্যন্ত গরম বলিয়া তাঁহারা অধিক দিন থাকিতে চাহেন না। এক বেনামী চিঠিই যে তাঁহার বিলাত যাওয়ার মলসত্ৰ, তাহা রামসন্দের অনেক দিন জানিতে পারিয়াছে। কিন্তু কে যে তাহার লেখক, বহর চেষ্টাতেও আবিকার করিতে পারে নাই। আমাদের পাঠিকাগণের প্রতি ইন্দবালার বিশেষ অনুরোধ, যদি কখনও তাঁহারা নিমন্ত্রণ সমাজে তাহার সরিদিদির সহিত মিলিত হন, তবে যেন কথায় কথায় এটা প্রকাশ করিয়া না ফেলেন। ভাদ্র, ১৩o৫ ] ২২