পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৮২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এই সময় ডাক্তার-গহিণীরও ঘমে ভাঙ্গিল। তিনি বিছানায় উঠিয়া বসিয়া বলিলেন, "হাগা, কি হয়েছে ? কি বলছে ঝি ?” ”ভিতরে এসে বল”—বলিয়া ডাক্তার সাহেব টেবিলের নিকট গিয়া একটা সিগারেট ধরাইয়া আসিয়া পালঙ্ক-প্রান্তে পা ঝালাইয়া বসিলেন। সোণার মা বলিল, “কোন আবাগী শতেক খোয়ারী এমন কাজ করলে মা, তা ত জানিনে! একটা মরা ছেলে এনে, আমাদের সদর বারান্দায় শইয়ে রেখে গেছে।” গহিণী। মরা ছেলে ? কত বড় ছেলে ? সোণার মা। অতুিড়ের ছেলে বলেই মনে হ'ল। একবারে কচি ছেলে মা, একবারে কাঁচ। আমি ঘুম থেকে উঠে মনে করলাম, যাই, বাসি পটগুলো সকালে সকালে সেরে ফেলি। সদর বারান্দা ঝাঁট দেব বলে ঝাঁটাগাছটা হাতে ক’রে যাই সদর দরজা খলেছি- অমনি দেখি মা, ন্যাকড়ায় জড়ানো কি একটা পড়ে রয়েছে । একেবার চৌকাঠের কাছেই আর একটা হলেই মাড়িয়ে ফেলেছিলাম আর কি! বলি, কি ওটা পড়ে রয়েছে ? ভাল আলো ত হয়নি । তায় বড়ো মানুষ, চোখে একটা ঝাপসা দেখি। ঝুকে দেখি মা, কচি ছেলের মাখ। সবঙ্গ ন্যাকড়ায় জড়ানো, মুখটি শধ্যে বেরিয়ে রয়েছে। আহা, কোন আবাগীর বাছা, যেন রাজপত্তিরটি গো ! নড়েও না, চড়েও না। মা গোঃ বলে ভয়ে আমি ছটতে ছুটতে এলাম আপনাদিকে খবর দিতে। ডাক্তার। মেয়ে না ছেলে কি ক’রে জানাল তুই ? ঝি । কি জানি বাবা, নারায়ণই জানেন। ডাক্তার। নারায়ণ কেন, গা খালে দেখলে আমরাও বুঝতে পারবো। গহিণী। মেয়েই হোক আর ছেলেই হোক, এ নিশ্চয় কোনও নাট সত্ৰীলোকের কাজ। বিধবা-টিধবা কেউ প্রসব হয়েছে, তার আত্মীয়-বন্ধরো গলা টিপে মেরে এইখানে tফলে রেখে গেছে। সোণার মা। তাই হবেক গো, তাই হবেক। পলিসে খবর দাও মা তারা ধরে নিয়ে গিয়ে হারামজাদী নচ্ছার মাগীকে ফাঁস দিক। ডাক্তার সাহেব মুখ হইতে সিগারেট নামাইয়া ওষ্ঠ কুঞ্চিত করিয়া মাথাটি নাড়িতে নাড়িতে বলিলেন, “উহু, তা নয় বোধ হয়। গলা টিপে মারেনি বোধ হয়। তা হলে মরা ছেলে রাস্তার জঞ্জালের টিনে কিবা কোনও পুকুরে-টকুরে ফেলে দিয়ে যেত। ডাক্তারের বিশেষতঃ ভাদুড়ী ডাক্তারের সদরে রেখে যাবে কেন ? গিনী তুমি যা বলেছ, কোনও নাট সত্ৰীলোক ওকে প্রসব করেছে, সে কথা সম্ভব বলেই মনে হচ্ছে, কিন্তু ছেলেই হোক আর মেয়েই হোক, সে বোধ হয় জ্যাত—ঘমচ্ছে বলে ঝি মনে করেছে মরা ছেলে। অন্ততঃ যখন রেখে গিয়েছিল, তখন জ্যান্তই ছিল আমার বিশ্বাস। আমি যদি ওকে বাঁচাতে পারি, সেই আশাতেই বোধ হয় এ কাজ করেছে। যাই দেখি ব্যাপারটা কি।”— বলিয়া তিনি খাট হইতে নামিলেন। গহিণীও কৌতুহল দমন করিতে না পারিয়া সবামীর পশ্চাৎ পশ্চাৎ চলিলেন। সোণার মাও চলিল। সে বলিতে বলিতে গেল—“আহা বাছা রে! এলি এলি অমন রাক্ষসীর গবভে কেন এলি ? আর কি কোথাও ঠাঁই পেলিনে ?” ইত্যাদি। ডাক্তার সাহেব সদর বারান্দায় গিয়া দেখিলেন, ইতিমধ্যে তাঁহার অন্যান্য ভৃত্যরা সেখানে গিয়া অবাক হইয়া সেই পরিত্যক্ত মানবকের পানে চাহিয়া আছে। ন্যাকড়ায় নহে, ক্লিকেট ফ্ল্যানেলে শিশু জড়ানো। ডাক্কার সাহেব কিন্তু দটিমাত্র বলিলেন, “কে বললে মরা ছেলে ? ঘামাচ্ছে। ঐ যে নিশবাস পড়ছে।”—বলিয়া তিনি শিশুর আবরণ ধরিয়া তাহাকে নাড়িয়া দিলেন। শিশু তখনই চক্ষ খলিয়া ট্যা-ট্যা করিয়া কাঁদিয়া উঠিল। সকলেরই বিমষ মাখে হাসি ফটিল। সোণার মা বলিয়া উঠিল, “জয় বাবা সত্য লারায়ণ ! জয় মা কালীঘাটের কালী !” -- - וסילצו