পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ডাক্তার। পাগল নাকি ? কাঁচ ছেলে ওয়া ওয়া করে কেন্দেছে, তুমি শনেছ ও মা ! ও মা ! গহিণী। সে যাই হোক, আমি কিন্তু ওকে দিচ্ছিনে—ওর মা-ই আসক, আর ওর বাবা-ই আসক। ডাক্তার। ওর মা বাবা ছেলে দাবী করতে আসবে, সে সম্ভাবনা কম। ছেলের তাদের দরকার থাকলে এখানে এসে ফেলে যাবে কেন ? হ্যাঁ, ভাল কথা। ছেলেকে দুধ দেবার জন্যে একজন ধাই খোঁজার কথা হচ্ছিল ত? তা ভাগ্যক্রমে একজন পেয়ে গেছি। গহিণী। ধাই কোথায় পেলে ? ক’মাসের ছেলে তার ? দধ আছে ত ? ডাক্তার। ছেলে নয়, মেয়ে। প্রসবের ঘণ্টাখানেক পরেই মরে গেছে। সাত মাসে না আট মাসে হয়েছিল, সে কি আর বাঁচে ? গহিণী। তোমাদের হাসপাতালেই ? ডাক্তার। না, এসব হয়েছিল বাইরেই। মেয়ে মরে যাওয়ার পর, প্রসতির অবস্থা দেখে, কাল বিকেলে তাকে হাসপাতালে দিয়ে গেছে। গহিণী। হ্যাগা, এ ছেলে ত সাত মাসে হয়নি ? এ ত বাঁচবে ? ডাক্তার। দেখে বোধ হয় এ পরে। দশ মাসে প্রসব হওয়া ছেলে । গহিণী। তা হলে এ বাঁচতে পারে, কি বল ? আচ্ছা, হাসপাতালের সে মাগী হিন্দ না মুসলমান ? ডাক্তার। হিন্দ। ঐ যে মোড়ে লাল রঙের গিলেজ, তার পাদ্রী সাহেবকে জান ত ? তাঁর মেমকেও জান। সেই যে গত বছর লাট সাহেবের গার্ডেন পার্টিতে আমাদের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল। মনে পড়ছে না ? গহিণী। হ্যাঁ হ্যাঁ, খুব মনে আছে । মেমসাহেব তার পর একদিন আমাদের বাড়ীতে এসেছিলেন। আমরা দুজনেও ত তাঁদের বাড়ী চায়ের নেমন্তনে গিয়েছিলাম। তা, কি হয়েছে ? ডাক্তার। ছড়ী সেই মেমসাহেবের আয়ার মেয়ে কিনা। পাদ্রী সাহেবের চিঠি নিয়েই ওর মা এসে ছড়ীকে হাসপাতালে ভক্তি করে দিয়ে গেছে। গহিণী। ছড়ীর বয়স কত ? ডাক্তার। ১৭/১৮ হবে। প্রথম পোয়াতি বোধ হয়। গহিণী। ছড়ী ভাল হবে, তবে ত আসবে। কেমন আছে ? কত দিন লাগবে ? ডাক্তার। আজ সকালে ত তাকে ভালই দেখে এসেছি। ওষুধ দিয়ে এসেছি । চার-পাঁচদিনে সেরে উঠবে বোধ হয়। গহণী। চার-পাঁচ-দিন ; অত দিন কেবল হলিক খেয়ে খোকা বাঁচবে ? ইতিমধ্যেই গহিণী শিশরে খোকা নাম দিয়াছেন শানিয়া ডাক্তার সাহেব হাসিলেন। বলিলেন, “কাজেই।” গহিণী। তুমি ত মনে মনেই কালনেমির লঙ্কা ভাগ করছ! ভাল হয়ে ছড়ী বা তার মা যদি না রাজী হয় ? ডাক্তার। মনে মনে লঙ্কা ভাগ আমি করিনি। ছড়ীর মা'র সঙ্গে কথা আমার হয়নি বটে, তবে মেমসাহেব ছড়ীকে দেখতে এসেছিলেন, তাঁর সঙ্গে কথাবাত্ত কয়ে রেখেছি, তিনি বলেছেন, বেশ ত। আমি কি ভাবে একটা ছেলে কুড়িয়ে পেয়েছি, তাঁকে সব বললাম কিনা। শনে তিনি বললেন, তা হলে এই মেয়েটাই বোধ হয় দুধ দিয়ে সে ছেলেকে বাঁচাবে, এই রকমই ঈশ্বরের বিধান। বাইবেল কোট করলেন। সকল জীবুের আহারের ব্যবস্থা ঈশ্বরই করেন, সে বিষয়ে তাঁর কোনও ভুল-চক হয় না—এই ভাবের একটা বচন। তোমার কথাও তিনি জিজ্ঞাসা করলেন যে। বলেছেন, শীঘ্রই একদিন তোমার সঙ্গে দেখা করতে আসবেন। - - - 〉bró -