পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৮৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দরে ছোটবধ ছেলেপিলেকে লইয়া ঘাম পাড়াইতেছিলেন। বড়বধ ধোয়া শাণের মেঝেতে একটি বালিশ মাথায় দিয়া শ্যইয়া দেবরের সঙ্গে গলপ করিতেছিলেন। ক্ৰমে তরঙ্গিণীর কথা উঠিল। বড়বধ দুঃখ করিয়া বলিয়েন, আহা বাছা যে এমন করে দাগ দিয়ে যাবে তা আমি কখনও ভাবিনি।” হাদয়নাথ বলিলেন, “বড়বউ, তার জন্যে আর দুঃখ করে কি হবে ? যা হবার তা হয়েছে। তিনি বেচে থাকলেও সুখ হত না।” বড়বধ আশ্চৰ্য্য হইয়া বললেন, "কেন এ কথা বলছ ঠাকুরপো ?” “অনেক দিন থেকে একটা কথা বলব মনে করি, কিন্তু বলতে পারিনে বড়বউ। তিনি গৈরেচেন, সে ভালই হয়েচে ।” বড়বধ কুতহলী হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “কি কথা ঠাকুরপো ? কি হয়েছিল?" হৃদয়নাথ কিয়ৎক্ষণ চাপ করিয়া থাকিয়া বলিলেন, "আর কি বলব মাথামডে। তাঁর মবভাব চরিত্র খারাপ হয়েছিল।” এ কথা শুনিয়া বড়বধ যেন আকাশ হইতে পড়িলেন। বলিলেন, “ও কি কথা ঠাকুরপো ? অমন বোলো না। তিনি আমার সতীলক্ষী ছিলেন।” হাদয়নাথ দীর্ঘনিশবাসের সহিত বললেন, “বড়বউ—আমি বচক্ষে তাঁর হাতের চিঠি দেখেছি।” “কি চিঠি ?” “সে আর কি বলব ?” “কাকে লেখা ?” "কে আমাদের সন্বনাশ করেছে তা ঈশবরই জানেন।” বড়বধ উত্তেজিত হইয়া বলিলেন, “ঠাকুরপো, ভুল করেছ। তা হতেই পারে না।" হৃদয়নাথ প্ৰবকবৎ বিষন্ন সবরে বলিলেন, “চিঠি যে আমার কাছে রয়েছে পড়বউ।" "কই দেখি ” হাদয়নাথ ধীরে ধীরে উঠিয়া বাক্স খলিয়া চিঠি বাহির করিলেন। বড়বধ তাঁহার হাত হইতে চিঠিখানি লইয়া জানালার কাছে গেলেন। খসখসের পদ ফাঁক করিয়া আলোকে চিঠিখানি এক মহতের জন্য মাত্র দেখিলেন। তাহার পর শষ্যায় ফিরিয়া আসিয়া, চিঠিখানি হাদয়নাথকে প্রত্যুপণ করিলেন। বলিলেন, “তব ভাল। দেহে প্রাণ এল ৷” বড়বউ ধীরে ধীরে বলিলেন, “ও তো তার সখী প্রিয়তমাকে লেখা, সেই ও বাড়ীর চাটযোদের পিরি, তার সঙ্গে ভার ভাব ছিল কিনা। রোজ দুজনে চিঠি লেখালেখি করত। আহা পিরি ছড়ি খবশুরবাড়ী যাবার দিন আমার সঙ্গে দেগা করতে এসেছিল: কে’দে আর বাঁচে না ।” - হৃদয়নাথের কপাল ঘামিয়া উঠিল। নিঃশ্বাস জোরে বহিতে লাগিল। বলিলেন, “তবে চিঠির উপরে ‘প্রিয়তম লেখা রয়েছে কেন ?" “ঐ বলেই ত সে ডাকত। পিরি ওকে বলত তরণী, সে পিরিকে বলত প্রিয়তম।” হৃদয়নাথের মুখ পাংশ বর্ণ ধারণ করিল। আলোকাভাবে কেহ তাঁহার মাখের বিবণতা লক্ষ্য করিতে পারিল না। কিয়ৎক্ষণ চিন্তা করিয়া যেন আপনা-আপনি বলিলেন, “হায রে, এ কথা যদি আগে জানতাম।" বড়বধ তৎক্ষণাৎ বলিলেন, “আগে জানলে কি হত ঠাকুরপো ? তা হলে তাকে ধরে বাখতে পারতে ? তাই কি তার চিকিৎসায় তেমন মনোযোগ করনি ?” হদয়নাথের মুখ দিয়া কথা বাহির হইল না। বড়বধ বারংবার জিজ্ঞাসা করিতে লাগিলেন, “তবে কি চেষ্টা করলে বাঁচাতে পারতে ?” হাদয়নাথ দীঘনিঃশ্বাস ফেলিয়া శ్యా "বড়বউ, যার নিয়তি উঠেটে, মানষের চেষ্টায়