পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৮৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গহিণী। আহা মেমসাহেবটি বেশ। খাব আমাদে—একটও অহঙ্কার নেই। নিজেদের চেয়ে নেটিভদের কিছমাত্র হীন মনে করেন না। আর, কি সন্দের বাংলা বলেন দেখেছ ? ডাক্তার। উনি যখন কুমারী ছিলেন, ও’র অভিপ্রায় ছিল, মিশনরণী হয়ে এ দেশে আসবেন । তাই বিলাতেই রীতিমত বাংলা শিখেছিলেন । তার পর পাদ্রী সাহেবের সঙ্গে ও'র বিয়ে হয় । বামন ঠাকুর আসিয়া সংবাদ দিল, ভাত ঠান্ড হইয়া যাইতেছে। দুজনে খাইতে গেলেন। আহার সমাপ্ত হইলে, ডাক্তার গেলেন একটু বিশ্রাম করিতে। কারণ, আবার তিনটার সময় তাঁহাকে কলেজে যাইতে হইবে । গহিণী গেলেন খোকার তত্ত্বাবধানে। চারিদিন পরে রিক্সা করিয়া খোকার দর্ধ-মা আসিল, আসিয়াই খোকাকে কোলে লইয়া শুইল। নাম বলিল, ফলেটসিয়া। সোণার মা খটিয়া খটিয়া জেরা করিয়া সারা দিনে ফলটসিয়ার চোঁদপুরষের খবর সংগ্ৰহ করিয়া লইল। জাতিতে তাহারা দোষাধ, পাটনা জেলায় বাড়ী, পিতা জীবিত নাই। এখানে শিয়ালদহের নিকট তাহার মাতুল সপরিবারে বাস করে, সেখানেই সে থাকিত। কারণ, তাহার শবশর-শ্বাশুড়ী জীবিত নাই। আট বছর বয়সে তাহার বিবাহ হইয়াছিল, স্বামী পাটনা কলেজের কোন সাহেবের কুঠীতে বেয়ারার কাজ করে, গত বৎসর বড়দিনের ছটীতে সাহেবের সঙ্গে কলিকাতায় আসিয়াছিল। পাজার বন্ধে সাহেব যদি আসেন, তবে সেও আসিবে, কিন্তু পজার বন্ধে সাহেব বড় একটা কলিকতায় আসেন না, মসোঁরী বা সিমলা পাহাড়ে যান, তবে বড়দিনের ছুটীতে নিশ্চয় আসিবেন—প্রতি বৎসরই আসেন। ইত্যাদি। পরদিন ডাক্তার সাহেব আসিয়া পত্নীর সহিত চা-পান করিতে করিতে জিজ্ঞাসা করিলেন, “কি গো, তোমার খোকার দর্ধ-মা খোকাকে যত্ন-টত্ব করছে ?” গহিণী। হ্যাঁ, তা করছে বটে। কিন্তু— ডাক্তার। কিন্তু কি ? গহিণী। মা গো—কি কাল ছড়ী, যেন আবলুস কাঠ ! ডাক্তার। জাতে দোষাধ কিনা! দোষাধ পশ্চিমে খুব ছোট জাত। তুমি বলছ মাগোঃ কি কালো—ওর স্বামী বোধ হয় ওকেই দ্যাখে রক্ষভা কি তিলোত্তমা—বলিয়া ডাক্তার সাহেব হাসিতে লাগিলেন। গহিণী বলিলেন, “বলছিল, ওর স্বামী তার মানবের সঙ্গে পুজোর বন্ধে আসতে পারে। তখন ছড়ী হয়ত দশ-বারোদিনের ছট চাইবে—তা হলে তখন খোকার কি হবে ?” ডাক্তার সাহেব বলিলেন, “স ত এখন মাস দুই দেরী আছে। ছুটী যদি চায়-ই, যা হয় একটা ব্যবস্থা করা যাবে।” দধ-মা খোকাকে যেরপে যত্ন করিতে লাগিল, তাহাতে সকলেই তাহার উপর প্রীত হইলেন। ফলেটসিয়া নামটা বড় লম্বা বলিয়া উহা সংক্ষিপ্ত করিয়া সকলে তাহাকে ফালি বলিয়া ডাকিতে লাগিল। ফলি পাঁচ বৎসর হইতেই তার মা'র সহিত কলিকাতায় আছে, বাংগালীর মতই বাংলা বলিতে পারে, বরং হিন্দী বলিতেই সময়ে সময়ে তার আটকায়। খোকা তাহার দধ খাইবে বলিয়া ডাক্তার সাহেব তাহার আহারের উত্তম বন্দোবস্ত করিয়া দিলেন। তার মানের জন্য উত্তম সাবান ও পরিধানের উত্তম ও প্রচার শাড়ী শেমিজ আসিল ।