পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৮৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পাওয়া ছেলে, এটাই বা হাত ফন্সেক যায় কেন ? কিন্তু একটা কথা মেমসাহেব যা বলেছেন, তা ঠিক। ওকে হিন্দসমাজে চালানও ত যাবে না। আমরা যে পরামর্শ করেছিলাম, ছ’ মাস বয়স হলেই ঘটা করে ওর অন্নপ্রাশন দেবো, সেও ত হবে না। অন্নপ্রাশনে যে রীতিমত পাবপরষদের শ্ৰাদ্ধ করতে হয়। আমার পাবপর্ষ ত ওর পর্বে বিভা। তবে কোন সমাজে খোকা এর পরে মিশবে ? ডাক্তার। কেন, ব্রাহ্মসমাজ ত রয়েছে। বিভা। তাঁরাও শনতে পাই, বিবাহাদি ব্যাপারে আজকাল জাত সৎবন্ধে খ:ৎখাৎ । করেন । ড়াক্কার। কেউ কেউ । সবাই নয়। ফলে পৌষ মাস আসিল এবং চলিয়া গেল। খোকার অন্নপ্রাশনও হইল না, ব্যাপটিজমও হইল না। → খোকা এখন এক বৎসরের হইয়াছে। ডাক্তার সাহেবের ভবিষ্যৎবাণী ঠিক হইয়াছে— এখন তার দেহকে উজল শ্যামবর্ণ বলা যায়। দিব্য হাটপাট ছেলেটি। সে বিভাবতীকে মা এবং ডাক্তার সাহেবকে বাবা বলিতে শিখিয়াছে; হামাগুড়ি দিয়া এ-ঘর ও-ঘরে করে, বসিতেও পারে, এইবার কোন দিন দেওয়াল ধরিয়া দাঁড়াইয়া উঠে, তাহার পালক পিতা-মাতা সেই প্রতীক্ষায় আছেন। দধ-মাকে থোকা বলে ফই-ম। ফলিই তাহাকে ইহা শিখাইয়াছে। সম্প্রতি তাহাকে স্তনদগ্ধ ছাড়াইয়া দেওয়া হইয়াছে এবং রাত্রিতে পাছে ফলি গোপনে সতন্যদান করে, এই জন্য বিভাবতী তাহাকে নিজের বিছানায় শয়ন করাইতেছেন। ফলিকে জবাব দিবারই কথা হইতেছে, কিন্তু এখনও খোকা অন্ধ্যরাত্ৰিতে জাগিয়া উঠিয়া “আমি ফাই-মা যাব” বলিয়া মহা কাল্লা জড়িয়া দেয়। তখন ফলিকে জাগাইয়া খোকাকে তাহার কোলে দিতে হয়। বিভাবতী সেখানে বসিয়া থাকেন। ফলি খোকাকে চমো খাইয়া আদর-সোহাগ করিয়া ঘাম পাড়াইয়া দেয়, বিভাবতী তখন তাহাকে আবার নিজের শয্যায় লইয়া আসেন। কিছুদিন পবে সোণার মা বলিয়াছিল, “দেখ গিন্নীমা, ফলি খোকার সঙ্গে এমন ভাবে কথা কয়, এমন ভাবে ওকে সোহাগ করে—যেন ও-ই ওর মা।” বিভা বলিলেন, “তা হবে না বাছা ? পাঁচদিনের ছেলেটি থেকে বকের দধ খাইয়ে ওকে মানুষ করলে, আপন সন্তানের মতই খোকার উপর ওর মায়া বসে গেছে ত!” সোণার মা বলিল, “খোকারও ফলির কোলে যেতে পেলে কি হাসি, কি কথা, কি আনন্দ ” বাস্তবিক ফলির কোলে খোকাকে দেখিলে কে বলবে, ফলি খোকার বেতনভোগিনী ঝি মাত্র ? খোকার বয়স দুই বৎসর প্ণ হইতে চলিল, এই সময় জানা গেল, ফলটসিয়া সন্তানসম্ভাবিতা। তখন কত্তা-গহিণীতে পরামশ করলেন, এবার উহাকে বিদায় করা আবশ্যক। কত্তা বললেন, “সেদিন ফুলির মা এসেছিল, আশিবন মাসে ওর ছেলে হবে বললে, ভাদ্র মাসের গোড়াতে ওকে ত যেতেই হবে। এখন থেকেই ওকে বিদেয় করা ভাল ।” বাসতবিক খোকা দিনদিন ফলির ষেরপ নাওটো হইয়া পড়িতেছিল, তাহাতে বিভাবতীর মনে একটু ষে ঈষার সঞ্চার হয় নাই, এ কথা বলা যায় না। ডাক্তার সাহেব বলিলেন, “ক্লমে এখন খোকার জ্ঞান হচ্ছে। এখন ঐ দোষাধের মেয়েটার সংস্রবে ওকে ՖԵ-շՏ