পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অঙ্গহীনা প্রথম পরিচ্ছেদ ৷ কন্যাদায় চোরবাগানের শ্যামাচরণ চট্টোপাধ্যায়কে লোকে বলে “বোমভোলানাথ।” নিজে তিনি নিতান্ত ভালমানুষ; পথিবীসদ্ধ লোককেও ঠিক সেইরাপ ভালমানষে মনে করেন। ঢাকলকে অত্যন্ত অধিক বিশ্ববাস করা যেন তাঁহার একটা মানসিক রোগ। জিনিষ কিনিয়া কখনও টাকার ফেরত পয়সা গণিয়া লন না। কেহ বিপদে পড়িলেই শ্যামাচরণবাব তাহার উপকার করেন; তিনি নিজে বিপদে পড়িলে সে ষে আসিয়া বনক দিয়া পড়িযা তাঁহার উপকার কারবে, সে বিষয়ে তিনি নিশিচনত। শ্যামাচরণবাব বেটেখাটো রকমের মানুষটি। চোখদটি ভাসা ভাসা হাসি হাসি । গৌরবণ প্রৌঢ় পরষ; মাথাটি নাড়িয়া নাড়িয়া চিবাইয়া চিবাইয়া কথা কহেন। সওদাগরি আফিসে চাকরি;—বেতন অলপ, ষাট টাকা মাত্র। একটি প্রাইভেট ট্যুযণও আছে। এই সামান্য আয়ের উপর নিভার করিয়া কলিকাতা সহরে সপরিবারে বাস করা কম দুঃসাহসের কায নহে। একটি ঠিক কি আছে সে কতক কাযকৰ্ম্ম করিয়া দিয়া যায়। বাকী কর্ম নিজেদের করিয়া লইতে হয়। কষ্ট হয় বটে কিন্তু উপায় ত নাই। শ্যামাচরণবাবর একটি ছেলে, তিনটি মেয়ে। ছেলেটির বয়স সতেরো আঠারো বৎসর বি-এ ক্লাসে পড়ে। বড় মেয়ের নাম সলোচনা, হরিপরে বিবাহ হইয়াছে। তাহার ছোট শৈলবালা, তাহার ছোট ক্ষান্তমণি। শৈলবালার আজিও বিবাহ হয় নাই, দিলেই হয়। ক্ষান্তমণি ছেটি। শ্যামাচরণবাবর হাতে পৈত্রিক আমলের কিছু টাকা ছিল, তাহা বড় মেয়েটির বিবাহে । সমস্তই খরচ করিয়া ফেলিয়াছেন। এই ত অবস্থা –রাখিয়া ঢাকিয়া ব্যঝিয়া সঝিয় খরচ করিতে হয় । কিন্তু বোমভোলানাথকে তখন সে কথা বঝায় কাহার সাধ্য ? তখন শৈল ছোট ছিল—এখন সে বারো তেরো বছরের হইয়াছে—এখন শ্যামাচরণ নিজের ভ্রম বঝিতে পারিতেছেন। কন্যাদায় এমনি জিনিষ, বোমভোলানাথ শ্যামাচরণকেও চঞ্চল করিয়া তুলিয়াছে। দভাবনায় এই দরিদ্র-দম্পতির মুখ ক্লিটে, মন বিষাদ ভারাক্লান্ত। গৃহিণী বলিলেন—“আমার গায়ের যা কিছ গহনা আছে, সব বিক্ৰয় কর। হাজার টাকার উপর পাওয়া যাইবে। তাহাতেই এ যাত্রা জাতি রক্ষা হউক।” .াল দি নিজ বলিলেন—“তাহার পর ? ক্ষেতির বেলায় কি উপায় ps, গহিণী বললেন, “আশ্য ততদিন যদি নারায়ণের ইচ্ছায় মানুষ হয় তাহা হইলে আর ভাবনা কি ?” ক্ষান্তমণি শৈলবালার চেয়ে দলই তিন বৎসরের মাত্র ছোট। আজিকালিকার বাজারে বি-এ ক্লাসের ছাত্র আশুতোষ যে দুই তিন বৎসরে মানুষ হইতে পারবে, সে অশা অপর কেহ হইলে সাহস করিয়া মনে পথান দিতে পারিত না, কিন্তু শ্যামাচরণবাব দিলেন। গহনা বিকুয়ের পরামশাই সিথর হইল। - কিন্তু আবার মনের মত পাত্রও ত চাই। গহিণী বলিলেন, “যখন আমি গা খালি খারিয়া সব্বস্ব খোয়াইয়া মেয়ের বিবাহ দিতেছি, তখন যে-মে-একটাকে ধরিয়া দিলে চলিবে না। জামাই দেখিতে সশ্রী হইবে, দুইটা কি একটা পাস করা হইবে, খাইবার পরিবার সংস্থান থাকিবে—এইরপ চাই।” শ্রীমান আশুতোষের একজন সহপাঠী বন্ধ ছিল, তাহার নাম মোহিনীমোহন। সে wমিদারের ছেলে; কলিকাতায় মেসের বাসায় থাকিয় পড়াশন করিত। মাঝে মাকে vআশর সঙ্গে তাহাদের বাড়ীতে আসিত। অনেক বার নিমন্ত্রণ করিয়া তাহাকে খাওয়ান

\రి