পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৯০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রাখলে, ওর মনে নানা রকম কুশিক্ষার বীজ বপন করা হবে।” বৈশাখের মাঝামাঝি ফুলিকে বিদায় করা হইল। সে অনেক কাঁদাকাটা করিল, যাইবার ইচ্ছা তাহার মোটেই ছিল না। বলিল, “খোকাকে ছেড়ে আমি কেমন করে থাকবো মা ? কেমন করে আমার মুখে ভাত-জল রচবে ?” বিভাবতী বলিলেন, “তোর মামার বাসা ত এখান থেকে বেশী দূরে নয়, মাঝে মাঝে অাসবি, খোকাকে দেখে যাবি। আর আশ্বিন মাসে তোর নিজের খোকা হবে, তখন তাকে পেয়ে এ খোকাকে ভুলতে পারব।” খোকার জন্য নতন ঝি রাখা হইল। প্রথম কয়েক দিন ফলির জন্য খোকা খব হেদাইল, রাত্রিতে “ফলি-মা যাব" বলিয়া বায়না ধরিল। ডাক্তার সাহেব তাহাকে প্রত্যহ নতেন নতন খেলানা আনিয়া দিতে লাগিলেন। ক্ৰমে থোকা ফলিকে ভুলিল। ফুলি মাঝে মাঝে খোকাকে দেখিতে আসে, তাহাকে কোলে করে—আদর করে। এক এক দিন সমস্ত দিন এইখানেই কাটাইয়া যায়। কুমে তাহার প্রসবকাল যত নিকটবত্তীর্ণ হইতে লাগিল, তাহার আসাও তত কমিতে লাগিল। আশিবন মাসে পাদ্রী সাহেবের আয়া আসিয়া সংবাদ দিয়া গেল, ফলির একটি পত্রসন্তান জন্মিয়াছে। আরও বলিল, তার জামাইয়ের মানব কলিকাতার কলেজে বদলি হইয়া আসিতেছেন, জামাই এখন কলিকাতাতেই থাকিবে । খোকার নতন ঝি খোকাকে বেশ যত্ন করে। বিকালে ঠেলাগাড়ীতে তাহাকে পাকে বেড়াইতে লইয়া যায়। কোনও কোনও দিন খোকা পিতা-মাতার সহিত বিকালে মোটরে হাওয়া খাইয়া আসে। এখন তাহার বেশ কথা ফটিয়াছে। ফলির ছেলে তিন মাসের হইলে তাহাকে কোলে লইয়া ফলি একদিন বেড়াইতে আসিল। ছেলেটি ফলির চেয়েও একপোছ কাল হইয়াছে, বোধ হয় পিতৃগণে । ডাক্টারগহিণী তাহাকে দইটি টাকা এবং কয়েকটা কমলালেব উপহার দিলেন। ৷ ছয় ॥ ফালগন মাসে সহরে বসন্ত রোগের প্রকোপ দেখা দিল। ডাক্সার সাহেব পরিবারপথ সকলকে, মায় ঝি-চাকরকে পয্যন্ত, টীকা দিলেন। ও গালে গটিকা-চিহ্ন দেখা দিল। পরদিন আর সংশয় রহিল না যে, খোকা বসন্ত রোগে আক্লান্ত হইয়াছে। খোকার ঝি পলায়ন করিল। ডাক্তার-গহিণী বললেন, “দশ এগারো মাস প্রতিপালন করিল, এত দিনেও খোকার প্রতি মনে তাহার দয়া-মায়া স্নেহ-মমতা কিছই কি জন্মিল না ? আশচষ্য!” সোণার মা'র কথায় জানা গেল যে, খোকার পলাতকা ঝি ইদানীং অপরাহ্লে সব দিন খোকাকে পাকে বেড়াইতে লইয়া যাইত না, গোপনে নিজেদের বস্তিতে লইয়া যাইত এবং সেখানে কোনও কোনও দিন খোকাকে মুড়ি, ফলরি কিনিয়াও খাওয়াইত। জর হইবার দইদিন পাবেও এরাপ করিয়াছিল। এত দিন এ কথা প্রকাশ করে নাই বলিয়া সোণার মা যথেষ্ট তিরস্কৃত হইল। হাসপাতাল হইতে নাস আসিল। চিকিৎসা ও সেবা শশ্রষা রীতিমতই চলিতে ཧྥུ་ལ།། তথাপি রাত্ৰি-দিন খোকার কাছে থাকিবার জন্য একজন ঝির অভাব অনভূত পাছে তাহাকেই এই কাযে নিয়োগ করা হয়, সম্ভবতঃ এই ভয়েই সোণার মা বলিল, “ফলিকে ডেকে পাঠাও না। সে শনলে এখনই ছুটে আসবে।” ডাক্তার-দম্পতিও বিবেচনা করিলেন, ফলি খোকাকে যেরূপ ভালবাসিত, এ সংবাদ শনিলে সে বোধ হয়, না আসিয়া থাকিতে পারবে না ; నా తి