পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৯১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হইলও তাহাই। জননী ও স্বামীর নিষেধ ও প্রবল বাধা সত্ত্বেও ফলি তাহার পত্রকে মাতুলানীর নিকট রাখিয় ছটিয়া আসিল এবং সজল-নয়নে খোকাকে কোলে লইয়া বসিল। অক্লান্ত সেবা শশ্রেষা ও চিকিৎসা সত্ত্বেও খোকা বাঁচিল না। গহে কুন্দনের রোগ উঠিল। বিভাবতী শয্যা লইলেন, কিন্তু ফলির সে কি কান্না ! "ওরে আমার ধন রে, আমার বকের কলজে রে, আমায় ছেড়ে তুই কোথায় চলে গেলি রে?” ইত্যাদি শুনিয়া পাষাণও যেন বিগলিত হইতে চাহিল। ৷ সাত৷ সৎকারের এখন কি ব্যবস্থা হয় ? কম্পাউণ্ডারবাবকে তাহার আয়োজনে পাঠাইয়া ডাক্তার সাহেব একটা ইজি-চেয়ারে পড়িয়া রহিলেন। তাঁহার গণ্ড বহিয়া অশ্র গড়াইতে লাগিল। বেহারা আসিয়া সংবাদ দিল, পাদ্রী সাহেব আসিয়াছেন। ডাক্তার সাহেব একটা বিরক্ত হইয়াই নীচে নামিয়া গেলেন। ফলি তখনও মাঝে মাঝে ডাকরাইয়া ডাকরাইয়া কাঁদিতেছে। “ঈশ্বর দিয়াছিলেন, ঈশ্বরই লইলেন, তত্তজন্য শোক করা ব্যথা” ইত্যাদি কয়েকটি প্রচলিত সন্ত্বনা-বাকোর পর পাদ্রী সাহেব বলিলেন, “ডাক্তার ভাদুড়ী, আপনার নিকট আমার একটি আবেদন আছে।” ডাক্তার। কি, বলন। পাদ্রী। শিশুর মতদেহটি আমাকে দান করন, আমি উহা খাস্টধমের সকল অনুষ্ঠান অনুসারে সমাধিপথ করিব। ডাক্তার। তাহাতে আপনার লাভ ? জীবিত থাকিলে উহাকে খন্টধর্মে দীক্ষিত করিতে পারলে আপনার লাভ—অর্থাৎ কৰ্ত্তব্য-কলম পালনের সন্তোষ লাভ হইতে পারত, ইহা আমি বুঝিতে পারি, কিন্তু মতদেহকে খন্টীয় প্রথায় সমাধিস্থ করিয়া কি ফল হইবে ? আমি এতদিন উহাকে সন্তানবৎ পালন করিয়াছি, আমি খাটান নহি, উহাকে খস্টীয় প্রথায় সমাধিস্থ করিতে দিতে আমার আপত্তি আছে। জনক না হইলেও, আমি উহার পিতা। পদী সাহেব দুটি অবনত করিয়া, মদসবরে বলিলেন, “আমি উহার পিতামহ।” ডাক্তার সাহেব পরম বিস্ময়ে, উচ্চ হইয়া উঠিয়া বসিলেন। বলিলেন, “কি বলিতেছেন আপনি ?” পাদ্রা। বলিতে লজায় আমার মাথা হেট হইয়া যাইতেছে। কিন্তু না বলিলেও নয়। আপনি আমার পত্র জোসেফকে দেখিয়াছেন ? ডাক্তার। আমি গত বৎসর আপনার আলয়ে চা-পানের নিমন্ত্রণে গিয়া আপনার এক পত্রকে দেখিয়াছিলাম, বছর কুড়ি বাইশ বয়স । পাদ্রী । সেই। সেই দশচরিত্র কুলাঙ্গারই ঐ পত্রের জনক। ডাক্তার। আর, জননী ? পাদ্র। যাহাকে আপনি শিশর দধ-মা নিধক্ত করিয়াছিলেন, সেই হতভাগিনী বালিকা। এই সময় দ্বিতল হইতে কুন্দনের শব্দ আসিল—“ওরে আমার সোণা রে, অামার মাণিক রে, তোর ফলিমাকে ছেড়ে তুই কোথায় গেলি রে!” পাদ্রী সাহেব বলিতে লাগিলেন, “Poor Girl ! Poor Girl t” ফলির আচরণ, শিশর গাত্রবণ-রহস্য, ডাক্তার সাহেবের নিকট দিনের আলোর মত পরিকার হইয়া গেল। xసె)