পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তাহার পর পাদ্রী সাহেব যাহা বলিলেন, তাহার সারমক্ষম এই।—ব্যাপারটা জানাজালি হইলে মেমসাহেবের নিকট শনিয়াছিলেন, তাঁহার আয়ার ইচ্ছা, ফলির গভর্ণ নষ্ট কর। কারণ, জামাতা আসিয়া শিশুর গাত্রবণ দেখিয়া কখনই বিশ্বাস করিবে না যে, শিশ, তাহারই ঔরসজাত—বিশেষ যখন ফলির মা সাহেবের বাড়ীতে চাকরী করে এবং ফুলিরও BBBBB BBBB BBS BB BBBB BBBBB BBBBB BS BBBBBBS BB পাপের উপর মহাপাপ। ওরাপ করিবার চেষটা করিলে, তিনি পত্রের কলকভয় এবং লোকলজ পরিত্যাগ করিয়া তখনই পলিসে সংবাদ দিবেন। আয়া বলিয়াছিল, “আমার জামাই আসিয়া ছেলে দেখিলে তখনই আমার মেয়েকে পরিরত্যাগ করবে, তাহার উপায় ?” তাহাতে পাদ্রী সাহেব আশ্বাস দিয়াছিলেন যে, যাহা হউক একটা সব্যবসথা তিনি করিয়া দিবেন। তাঁহারই উপদেশ অনুসারে ফুলির মাতা শিশকে আনিয়া এই বাড়ীতে রাখিয়! গিয়াছিল, কারণ, তাঁহার বিশ্বাস ছিল, নিঃসন্তান ডাক্তার ভাদুড়ী উহাকে পাইয়া যত্নের সহিত প্রতিপালন করিবেন, এবং কাযর্ণতঃ হইয়াছিলও তাহাই। শিশুর জন্য একজন দধ-মা আবশ্যক হইবে বঝিয়াই ফুলিকে ডাক্তার সাহেবের হাসপাতালেই পাঠাইয়া দেওয় হয়। নচেৎ হাসপাতালে দিবার কোনই প্রয়োজন ছিল না । অীয়া তাহার কন্যাকে শিখাইয়া দিয়াছিল, তোর ছেলে হইয়াছিল না, বলিস মেয়ে হইয়াছিল, তাহা হইলে তোর সম্বন্ধে কাহারও সন্দেহ হইবে না। আর বলিল, দশ মাসে হয় নাই, আট মাসে হইয়াছিল। তাহা হইলে জামাইও কোন অন্যায় সন্দেহ করিতে পারবে না। এই সকল বিবরণ শেষ করিয়া পাদ্রী সাহেব বলিলেন, “দেখনে পাপে ঐ শিশ,ঞ্জ জন্ম। আমরা উহাকে ব্যাপটাইজ করিতে চাহিয়াছিলাম, তাহাও তখন আপনি দিলেন না। এখনও উহার আত্মা প্রভু যীশুর শরণ লইলে অনন্ত নরক হইতে পরিত্রাণ পাইবে —ইহাই আমি বিশ্বাস করি। সেইজন্যই আমার কক্তব্য উহাকে খাটধম অনুমোদিত অনুষ্ঠানের সহিত সমাধিস্থ করা।” ডাক্তার সাহেব সক্ষমত হইলেন। জিজ্ঞাসা করিলেন, “আপনার সে পত্র জোসেফ এখন কোথায় ?” পাদ্রী সাহেব বলিলেন, “এ ব্যাপার ধরা পড়বার পর আমরা তাহাকে বহন তিরস্কার করি এবং গহ হইতে বহিস্কৃত করিয়া দিতে চাহি। অবশেষে উহার জননীর একান্ত অনুরোধে উহাকে বিলাতে পাঠাইয়া দিয়াছি। এখন সে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিভিনিটি অধ্যয়ন করিতেছে, কালক্রমে ধৰ্ম্মযাজক হইবে।” ডাক্তার সাহেব মনে মনে বললেন, "ছেলের দম্প্রকৃতির তবে ত খুব কঠোর শাস্তিবিধানই হইয়াছে!” প্রকাশ্যে অবশ্য কিছু বলিলেন না। পাদ্রী সাহেব বিদায় লইয়া গিজায় গিয়া লোকজনসহ একটা শবাধার পাঠাইয়া দিলেন। পরদিন মতদেহ যথারীতি সমাধিস্থ করা হইল। কিছুদিন পরে দেখা গেল, কবরের শিরোদেশে মাৰ্ব্বেল-পাথরে ক্ষোদিত কতকগুলি ইংরাজী কথা লিখিত রহিয়াছে—তাহার অনুবাদ এই—“নামহীন গোত্রহীন দই বৎসর সাত মাস বয়স্ক শিশু, প্রভূ যীশর কোলে চিরবিশ্রাম লাভ করিল।” দ্বিতীয় বিদ্যাসাগর নদীয়া জেলার অন্তগত দেবগ্রামের জমিদার পরলোকগত শ্ৰীযক্ত শিবদাস বন্দ্যো পাধ্যায় মহাশয়ের বাটীতে চন্দ্রমোহন নামক একটি দরিদ্র ব্রাহ্মণ বালক পাকশালার সহকারী রপে নিযুক্ত ছিল। ছেলেটি বড় চালাক, চতুর ও মিটভাষী বলিয়া বাটীর সকলেই তাহাকে বিশেষ স্নেহ করতেন। সে মহারিদের সাধ্যসাধনা করিয়া দই চারিখানি বাঙ্গালা পসন্তক পাঠ করিয়াছিল। অতঃপর তাহার মনে গ্রন্থকার হইবার উচ্চাভিলাষ 9केरै