পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/২৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অতিমাত্র কৌতুহলী হইয়া তিনি মিতমখে শিবদাসবাবকে ব্যাপারটা কি জিজ্ঞাসা করিলেন। শিবদাসবাব হাসিতে হাসিতে পাধের ইতিহাস সবিস্তারে নিবেদন করিলেন —শনিয়া বিদ্যাসাগর মহাশয়ও প্রচার হাস্য করতে লাগিলেন। আহারাদি শেষ হইয়া গেলে বিদ্যাসাগব মহাশয় সেই ক্ৰন্সত সংকুচিত পাচক ব্রাহ্মণকে ডাকাইয়া আনিয়া আপনার সম্মুখে বসাইলেন। বলিলেন—“তা বেশ হয়েছে, তুমিও বিদ্যেসাগর, আমি বিদ্যেসাগর, আজ অবধি তুমি আমার মিতে হলে।” সেই পাচক ব্রাহ্মণের সহিত প্রতিবেশীবন্ধর মত তিনি আলাপ করিতে লাগিলেন—তাহার ঘরের সংবাদ লইলেন, তাহার সখেদঃথের কাহিনী অবগত হইলেন। চন্দ্রমোহনকে লইয়া গিয়া ছাপাখানায় তিনি একটা চাকরী করিয়া দিয়াছিলেন এবং তাহাকে লেখাপড়া শিখাইবারও বন্দোবস্ত করিয়াছিলেন। কিন্তু ভাগ্যদেবী চন্দ্রমোহনের প্রতি স প্রসন্না ছিলেন না—সে সেখানে থাকিতে পারে নাই। শাহজাদা ও ফকিরকন্যার প্রণয়-কাহিনী প্রথম পরিচ্ছেদ পারস্যদেশে প্রাচীনকালে এক মহা প্রতাপশালী বাদশাহ ছিলেন। তাঁহার একটি মাত্র পত্র জন্মগ্রহণ করিয়াছিল। বাদশাহের একজন কনিষ্ঠ ভ্রাতাও ছিল। আসন্নকাল উপস্থিত হইলে বাদশাহ নিজ ভ্রাতাকে শয্যাপাশেবা ডাকিয়া কহিলেন—“ভ্রাতঃ, আমি ত চলিলাম। আমার পত্রটি অতি শিশ। যতদিন পয্যন্ত সে যৌবনকথা প্রাপ্ত না হয়, ততদিন তাহার সথানে তুমিই রাজ্য কর। আমাদের প্রাতঃস্মরণীয় পাবপর্যগণের মুখ যাহাতে উত্তজবল হয়, এইরুপ দয়া-ধম্ম সহকারে প্রজাপলিন করিতে থাক। আর আমার পত্রটি শাস্ত্রপাঠ, অস্ত্রশিক্ষা, ব্যায়ামাদি বিষয় প্রভৃতি রাজেচিত সমস্ত বিদ্যায় যাহাতে পারদর্শী হইতে পারে, তাহার জন্যও তুমি সব্বদা যত্নবান থাকিবে। পত্র বয়ঃপ্রাপ্ত হইলে, নিজ কন্যার সহিত বিবাহ দিয়া, উহাকে রাজ্যভার সমপণ করবে।”—ইত্যাদি প্রকার কহিয়া, আত্মীয় সবজনগণের নিকট বিদায় গ্রহণ করিয়া, ঈশ্বর ও মোহম্মদের পদে মন সমপণ করিয়া, তিনি ইহলোক হইতে বিদায় গ্রহণ করিলেন। ছোট ভাই বাদশাহ হইলেন, শাহজাদা যদুবরাজ পদে অভিষিক্ত হইলেন। নতন বাদশাহ পরম সখে রাজত্ব করিতে লাগিলেন। যবেরাজের শিক্ষা দীক্ষার বন্দোবস্ত হইল, কিন্তু বাদশাহ হুকুম করলেন—“যবরাজ সব্বদা অন্তঃপরেই থাকিবেন, বাহিরে আসিতে পাইবেন না।” - শাহাজাদা দিন দিন শুক্লপক্ষের চন্দ্রকলার নায় বন্ধিত হইতে লাগিলেন। বিচক্ষণ মৌলভিগণের যত্নে নানা শাস্ত্রে ও নানা ভাষায় ব্যুৎপন্ন হইয়া উঠিলেন। ক্ৰমে তাঁহার যৌবনাবস্থা উপনীত হইল। তখন তিনি মাঝে মাঝে মনোমধ্যে আলোচনা করিতে লাগিলেন, পিতৃব্য-কন্যার সহিত আমার বিবাহ হইবে, এই সমগ্র রাজ্যের আমি অধীশ্বর হইব, পরম সুখে কালহরণ করিতে পারিব। কিন্তু পিতৃব্য যুবরাজের বিবাহ বা রাজ্যভিষেকের কোন প্রসঙগই উত্থাপন করিলেন না। পরলোকগত বাদশাহের একটি অতি বিশ্ববস্ত হিন্দপথানবাসী ভূত্য ছিল, তাহার নাম মুবারক। সে সব্বাদ রাজপত্রের নিকট অবস্থিতি করিত এবং তাঁহাকে অত্যন্ত স্নেহ করত । একদিন রাজপত্র মুবারকের নিকট অশ্রুপণ নয়নে উপস্থিত হইয়া কহিলেন—“দেখ, একজন রাজভৃত্য আমাকে অত্যন্ত অপমান করিয়াছে।” . ইহা শুনিয়া মনবারক অত্যন্ত দঃখিত হইয়া নানাপ্রকারে রাজপত্রকে সান্ত্বনা করিতে লাগিল । অবশেষে তাঁহাকে লইয়া রাজসমীপে উপস্থিত }ఫి8