পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হইয়াছে। যে লক্ষণগুলি গহিণী জামাতায় চাহিয়াছেন, এই মোহিনীমোহনে ৷ সকলগুলিই বিদ্যমান। সুতরাং স্বভাবতঃ তাহারই কথা সকলের মনে হইল । যেমন কত্তা, তেমনি গহিণী তেমনি ছেলেটি। জমিদারের ছেলে; বি-এ পড়িতেছে; গহনা বেচিয়া হাজার টাকা পাওয়া যাইবে, তাহাতেই তাহাকে ক্ৰয় করিবেন ! সত্যবগে আর কি ! শ্যামাচরণবাব বামন, প্রাংশ লভ্যফল মোহিনীমোহনকে জামাত করিবার জন্য বাহ বাড়াইলেন। ইহার প্রতিফলস্বরূপ "উপহাস" নহে সব্বনাশ উপস্থিত হইয়াছিল। কিন্তু সে পরের কথা পরে বলিব। আশা বলিল-মোহিনীর বিবাহ হয় নাই বটে, কিন্তু তাহারা কাহার সন্তান, কয় প্রযে, নৈকুষ্য অথবা ভঙ্গকুলীন, এ সব আশ কিছুই বলিতে পারিল না। পরদিন কলেজে কথায় কথায় কৌশল করিয়া বন্ধর নিকট হইতে অাশ সমস্ত সংবাদ আদায় করিয়া লইল। সমস্তই মিলিয়াছে। বড় সাথের কথা। তাশদ একে ত শ্যামীস্তরণবাবর পত্র, তাহতে অল্পবয়স্ক সাংসারিক অভিজ্ঞতা কিছুই নাই,—সে মনে করিল যেন বিবাহ হইয়াই গিয়াছে। প্রথম হইতেই মোহিনীর সঙ্গে তাহার প্রগাঢ় বন্ধত্বে ছিল। এখন মনে মনে তাহাকে ভাবী ভগ্নীপতি সিথর করিয়া সেই বন্ধত্ব প্রগাঢ়তর করিয়া তুলিল। ইহার ফলস্বরূপ আশাদের বাড়ীতে মোহিনীর যাতায়াত বন্ধি পাইল। শনিবার কলেজের ছয়টির পর সে প্রায়ই আসিয়া আশদের বাড়ীতে সন্ধ্যাযাপন করিত। রবিবারে এবং অন্য ছটির দিনে মাঝে মাঝে আশর মা তাহাকে নিমন্ত্ৰণ করিয়া খাওয়াইতে লাগিলেন। ইহাদের গোপন অভিপ্রায় জানিতে মোহিনীমোহনের অধিক দিন বিলম্ব হইল না। বিবাহের কথাবাত্ত হইবার পর্বে শৈলবালা মোহিনীর সঙ্গে সপষ্ট কথা কহিত ন। বটে, কিন্তু তাহার সম্মুখে বাহির হইত এবং প্রতিদিনই দুই একবার পরপরে চোখোচাখি হইয়া যাইত। আশ ও মোহিনী আহারে বসিলে আশর মা পরিবেশন করিতেন, প্রয়োজন হইলেই শৈল আসিয়া তাঁহাকে সাহায্য করিত। কিন্তু যেদিন শৈলবালা এই বিবাহের কথা শুনিল, সে দিন হইতে মোহিনীর সাক্ষাতে আর সে প্রাণান্তেও বাহির হইত না। মোহিনী আসিলেই ক্ষান্তমণি সরে করিয়া বলিতে থাকিত, “দিদিয় বর এসেছে ণো ।” মোহিনী বাহির হইতে এই গান শুনিয়া মনে মনে হসিত—ভাবিত কোথায় কি তাহার ঠিক নাই, বিবাহ! কিন্তু শ্যামাচরণের কন্যা শৈলবালার ত সে বন্ধি ছিল না। সে যখন মোহিনীমোহনকে দেখিত, তখন তাহাকে স্বীয় ভাবী পতিস্বরুপ দেখিত । নিজের ভবিষ্যৎ জীবনের যে কোনও অংশের কল্পনা করিত সেই অংশেই দেখিতে পাইত, মোহিনীমোহন সন্দের শান্ত সমতজবল চক্ষ দুটিতে সেনহ ভরিয়া দাঁড়াইয়া আছে। কিন্তু কুমে মোহিনীমোহনেরও বধি-বিপৰ্য্যয় ঘটিল। তাহার সমসত তকযক্তি শীঘ্রই তাহাকে কল্পনার কমনীয় হস্তে সমপণ করিয়া বিদায় গ্রহণ করিল। অনেক রাত্রে ঘুম ভাঙ্গিয়া যাইলে মোহিনী ভাবিত, যদি শৈলবালার সঙ্গেই আমার বিবাহ হয়, তবে কেমন হয় ? মনে হইত, বেশ হয়। বেশ মামটিও কিন্তু। শৈলবালার লজটি বড় বেশী—কখনও ভাবিত, তা বেশ ত, লতজাই ত সীলোকের ভূষণ। আবার কখনও বা ভাবিত, এই ভূষণবাহলে আমার নব-প্রণয়ের কোমল হৃদয় ক্ষত বিক্ষত হইবে না ত ? লজ্জা ভাঙ্গাইতে অনেক আয়াস স্বীকার করিতে হইবে। এখন ত দেখিলেই পলাইয়া ফায়: ফুলশয্যার রাত্রে কথা কহাইতে অনেক সাধ্যসাধনার প্রয়োজন হইবে। কলপনায় সেই ফলশয্যা-রাব্রিটির অভিনয় করত। শৈলবালা যেন খসখসে কাপড় পরিয়া, সাটিনের বডিস পরিয়া, কপালে একটি খয়েরের টিপ কাটিয়া, চলে সুগন্ধি মাখিয়া, জড়সড় হইয়া, মুখখানি ঢাকিয়া, পাশ ফিরিয়া শ্যইয়া আছে। শয্যায় প্রবেশ করিয়৷ সে শৈলকে ঞি বলিয়া ডাকিবে ? নাম করিয়াই ডাকিবে । শৈল কি তার উত্তর দিবে ? সে ফিরিবেও না, চাহিবেও না, কথাও কহিবে না। অনেক চেস্টাতে যেন কথা কহিল । uD BBB BB BBBBB u BuBB Bu0 Hu gBBBBu eu tBtBBD Du