পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩০০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


একদল এইরুপ অনুসন্ধান কায্যে ইস্তাবল সহরে বেড়াইতে বেড়াইতে অপরাহ্ল ময়ে শাহজাদা দেখিলেন, একজন ছিন্নবসন কৃশকায় বন্ধ ফকীর রাজপথে ভিক্ষা করিয়া বেড়াই৩েছে। ফকীর অনেক কাকুতি মিনতি করিয়া ভিক্ষা চাহিতেছে কিন্তু কেহই তাহাকে একটি পয়সাও দিতেছে না। যাহার দ্বারে যাইতেছে সেই দরে দরে করিয়া তাড়াই৷ পিতেছে। দেখিয়া শাহজাদার অন্তঃকরণে বড়ই দয়া হইল। তিনি পকেট হইতে একটি মোহর বাহির করিয়া ফকীরকে দিলেন। ফকীর বলিল-“হে দাতা! ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করন। তুমি বোধ হয় পথিক, এ সহরের অধিবাসী নহ।” থ," এইরূপে রাজপত্রকে আশীব্বাদ করিয়া চলিল। কিছদরে একটি দোকানে গিয়। মোহর ৬াঙ্গাইয়া, সীলোকের উপযুক্ত একটি সন্দর রেশমী বস্ত্র খরিদ করিল। বাকী টাকায় খাদ্য দ্রব্যাদি কিনিয়া, আবার চলিতে লাগিল। ইহা দেখিয়া রাজপত্র কিছ বিস্মিত হইলেন। স্বীয় সহচরকে কহিলেন—“মনবারক! এ বাঞ্চি ফক", তবে স্ত্রীলোকের উপযোগী রেশম বস্ত্র ক্রয় করে কেন ?” ম,বায়ক বলিল—“কি জানি, তাহা ত বলিতে পারি না। বোধ হয়, উহার গহে স' কন৷ কেহ আছে। তোমার যদি এতই কৌতুহল হইয়া থাকে, চল না, উহার পশ্চাৎ পশ্চাৎ খাই, ৩াহা হইলেই জানিতে পারব।” মারকসহ শাহজাদা ফকীরের পশ্চাৎ পশ্চাৎ যাইতে লাগিলেন। ফকীর ক্লমে নগরসীমা ছাড়িয়া বাহিরে গেল। সেখানে রাজপত্র দেখিলেন, বড় বড় অট্টালিকা গহাদির ভ%স্ত,প পড়িয়া রহিয়াছে। বাগান ছিল অনমানে বঝা গেল, এখন জঙ্গলে পরিপণ হইয়া গিয়াছে। জলের ফোয়ারা ছিল, তাহা ভগ্ন। দেখিয়া রাজপত্র মনে করিলেন, বোধ হয় পবে এখানে কোনও রাজা বা ধনবান ব্যক্তির বসতি ছিল, এখনও তাঁহারই চিহ্ন বিদ্যমান। বদ্ধ লাঠিতে ভর করিয়া সেই ভগ্নস্তপের মধ্যবত্তী একটি সামান্য মত্তিকাময় কুটীরে প্রবেশ করিয়া বলিলেন—“বেটী! কোথা আছিস ?” কুটীর হইতে উত্তর আসিল—“বাবা ; আসিয়াছ ? আজ এত শীঘ্ৰ ফিরিলে কেন ? মঙ্গল ত ?” বন্ধ বলিলেন—“বেটী। আজ ঈশ্বর কর্ণা করিয়া একটি যাবা পথিককে আমার সাহায্যাথ পাঠাইয়াছিলেন। সে আমাকে একটি মোহর দিয়াছে। তাই আজ অনেকদিনের পর তোর জন্য একটি রেশমী কন্দ্র কিনিয়া আনিয়াছি। মাংস, ঘাত, মশলা, চাউল প্রভৃতিও কিনিয়া আনিয়াছি। পাক কর, অনেকদিনের পর অঁাজ সম্বোদ খাদ্য আমাদের মুখে উঠিবে; এই নে।” ইহা শুনিয়া বন্ধের কন্যা প্রফুল্লমুখে বাহিরে আসিল। রাজপত্র তাহাকে দেখিবামাত্রই বঝিলেন এ আর কেহ নয়, যাহার সন্ধানে আজ সাত বৎসর কাল দেশে দেশে, বনে জঙ্গলে বেড়াইতেছিলেন, তসবীর অঙ্কিত এই সেই যুবতী। দেখিয়া রাজপত্র নতজান হইয়া ঈশ্বরকে বহু ধন্যবাদ দিলেন। মবোরকও বলিল—“হাঁ, এই সেই মনুষ্যকন্যা বটে।” তাহার অভিনব যৌবন, আশ্চর্য রপে যেন সেই স্থানকে আলোকিত করিয়া রাখিয়ছে। রাজপত্রে মনে মনে ভাবিলেন, আমি সাত বৎসর ধরিয়া সমস্ত পৃথিবী পৰ্য্যটন করিলাম, কিন্তু এমন সৌন্দৰ্য্য কখনও চক্ষগোচর করি নাই। রাজপত্র তখন উচ্চৈঃস্বরে বলিলেন—“হে ফকীর : দইজন পথিককে একটা বিশ্রামের সথান দিবেন কি ?” ফকীর তাঁহার প্রতি দটিপাত করিয়াই চিনিতে পারিলেন এবং মহা সমাদরে আহবান করিয়া গৃহমধ্যে লইয়া গেলেন। বসাইয়া রাজপত্রকে জিজ্ঞাসা করিলেন--"তোমার মত দয়াবান লোকের আগমনে আজ আমার কুটীর পবিত্র হইল। বৎস! তুমি কে এবং কি জন্যই বা দেশভ্রমণ করিয়া বেড়াইতেছ?” রাজপত্র কহিলেন—“আমি পারস্যদেশের যুবরাজ। ঘটনাক্ৰমে একখানি ছবি আমার হস্তগত হয়। সেই ছবিখানিতে একটি অপর্বে সুন্দরী যাবতীর মত্তি অঙ্কিত ছিল। সেই যাবতীর দশন লালসায় আমি সাত বৎসরকাল দেশে দেশে ভ্রমণ করিয়াছি। এতদিন ు సిసి " T =– -