পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩০১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পরে সেই যাবতীর সাক্ষাৎ পাইয়াছি। তিনি আর কেহই নহেন, আপনারই কন্যা।” এই কথা শ্রবণ করিয়া বন্ধ দণ্ডায়মান হইয়া রাজপত্রের সমবন্ধনা করিলেন। বলিলেন —“না জানিয়া অপরাধ করিয়াছি। আপনার পদগৌরব অবগত ছিলাম না । অতএব ক্ষমা করিবেন।" অতঃপর বসিয়া, একটি দীঘনিঃশ্বাস ফেলিয়া, বন্ধ বলিলেন—“হায়, আমি কি হতভাগ্য ! আপনার মত এমন সপোত্রের হতে যদি আমি কন্যা সমপণ করিতে পারিতাম, তাহা হইলে ধন্য হইতাম। কিন্তু তাহার উপায় নাই। আমার কন্যা বড়ই বিপন্না। কাহারও সাধা নাই যে উহাকে বিবাহ করে।” ইহা শুনিয়া রাজপত্র বলিলেন—“কেন ফকীরসাহেব, এ কন্যা বিপন্না বলিতেছেন কেন ? কেহ ইহাকে বিবাহ করিতেই বা পারবে না কেন ?” ಇಫಿ এই সময় খাদ্য পাক করিবার জন্য রন্ধনশালায় গেল। বদ্ধ বলতে গলেন— r “আমার ইতিহাস শুনিবেন ? সে অনেক কথা। আমি পাবে এই সহরের একজন বিশিষ্ট রহীস ও ধনী ব্যক্তি ছিলাম। এই যে সকল ভগ্নসতপ দেখিতেছেন, এইখানেই এক সময়ে আমার প্রাসাদ শোভা পাইত। আমরা বহুপরিষে ধরিয়া এইখানে বসবাস করিয়াছি। ঈশবর আমাকে কেবল মাত্র এই কন্যা সন্তানটি দিয়াছিলেন। কন্যা বড় হইলে, ইহার সৌন্দৰ্য্য, সুকুমারতা, বদ্ধিমত্তা প্রভৃতি গুণাবলী এতই প্রসিদ্ধিলাভ করিল যে, দেশ বিদেশের বড় বড় লোকগণ ইহাকে বিবাহ করিবার জন্য আমার নিকট প্রস্তাব করিতে লাগিল। একমাত্র কন্যা, বিবাহ দিলেই পরের ঘরে চলিয়া যাইবে, এই কারণে আমি স্নেহধিক্যবশতঃ বিলম্ব করিতে লাগিলাম। ইতিমধ্যে এই নগরের রাজপত্র একদিন ইহাকে দৈবাৎ দেখিয়া, আত্মহারা হইয়া পড়িল। সে প্রণয়বিহল হইয়া আহার নিদ্রা পরিত্যাগ করিল, বাতুলের মত হইল, ক্ৰমে তাহার অবস্থা শঙ্কটাপন্ন হইয়া উঠিল। বাদশাহ এই কথা জানিতে পারিয়া একদিন রাজবাটীতে আমাকে নিমন্ত্ৰণ করিয়া লইয়া গেলেন। অনেক প্রকারে আমাকে বঝাইয়া, নিজ পত্রের সহিত আমার কন্যার বিবাহ দিবার প্রস্তাব করিলেন। আমিরাজাজ্ঞা অমান্য করতে সাহসী হইলাম না। আরও ভাবিলাম, কন্যার বিবাহ ত একদিন না একদিন কাহারও-সঙ্গে দিতেই হইবে, তবে যদি শাহজাদাকে জামাতা পাওয়া যায়, তাহার অপেক্ষা সখের বিষয় আর কি আছে ? সতরাং সক্ষমত হইলাম। উভয় পক্ষে মহা ঘটা করিয়া বিবাহের আয়োজন হইতে লাগিল। ক্লমে শুভদিন উপস্থিত হইল, বিবাহ হইয়া গেল। “বিবাহ শেষে, মহাসমারোহে, বর কন্যাকে শয্যাগহে লইয়া যাওয়া হইল। নৰ্ত্তকীগণ নৃত্যগীত করিয়া, বর কন্যার মনোরঞ্জন করিতে লাগিল। ক্রমে রাত্রি অধিক হইলে তাহারা বিদায় লইল, বাদশাহজাদা শয়নগাহের দ্বার রন্ধ করিলেন। প্রাসাদের সন্বত্র নানাপ্রকার আমোদ প্রমোদ, সঙ্গীত নত্যাদি চলিতে লাগিল। কিছুক্ষণ পরে বর কন্যার শয্যাকক্ষ হইতে এক অতি ভয়ঙ্কর শব্দ শনা গেল । যেন একত্র শত শত কামান গজন করিতেছে। যেন শত শত বজ্রপাত একত্র সংঘটিত হইতেছে। রাজপ্রাসাদের সবর নত্যগীত বন্ধ হইল। রাজপরিবারের নিমন্ত্ৰিত অভ্যগতবন্দ, দাস দাসী, সকলেই মহা ব্লাসে নবদম্পতীর শয়নকক্ষের দিকে ছটিল। অনেক ডাকাডাকি, কেহই দবার খালে না। অবশেষে বাদশাহের আজ্ঞায় বার সবলে ভগন করিয়া ফেলা হইল। সকলে ভিতরে প্রবেশ করিয়া দেখে, সব্বনাশ উপস্থিত হইয়াছে। বাদশাহজাদার মণ্ড দেহ হইতে বিচ্যুত, রক্তে শয্যা ভাসিয়া যাইতেছে। আমার কন্যা মচ্ছিত অবস্থায় পতিত। কেহ কিছই স্থির করিতে পারিল না। সে কক্ষে কোনওরূপ অসন্ত্রও ছিল না। অনেক কষ্টে দাসীগণ আমার কন্যার মাছা ভাঙ্গাইল। বাদশাহ পত্ৰশোকে অত্যন্ত ব্যাকুল হইয়া উঠিলেন। “পরদিন শোক কতকটা প্রশমতা প্রাপ্ত হইলে বাদশাহ ক্ৰোধে আদেশ করিলেন– এই ক দি লীলা কুল মন্ত্ৰ আদি লে। আজ্ঞা পাইয়া, দাস o g