পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩০২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দাসীগণ, সৈন্য সামন্ত ডাকিয়া, আমার কন্যাকে বধ করিবার আয়োজন করিল। রাজবাটীর বিস্তৃত প্রাঙ্গনে বধ্যভূমি নিমিত হইল। সশস্ত্র সৈন্যগণ চারিদিকে ঘিরিয়া দাঁড়াইল। বাদশাহ ও রাজকর্মচারী সকলে উপস্থিত হইলেন। আমার কন্যাকে বধ করিবার জন্য জল্লাদ যখন প্রস্তুত হইতেছে তখন সহসা আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হইয়া ঘোরতর শব্দ হইতে লাগিল। দেখিতে দেখিতে বড় আসিল, অজস্র পরিমাণ প্রস্তর বটি হইতে লাগিল । বাদশাহ ও সৈন্য সামন্ত প্রভৃতি প্রসতরাঘাতে জর্জরিত হইয়া কে কোথায় পলায়ন করিল ঠিকানা নাই। কেবল আমার কন্যার গায়ে একখানি প্রস্তরও লাগিল না । "ক্রমে প্রস্তরপাত বন্ধ হইল, শব্দ থামিয়া গেল, মেঘ অপসত হইল, তখন বাদশাহ বলিলেন,—এই কন্যা ভূতগ্ৰস্ত, নহিলে এমন ভৌতিক কাণ্ড হইবে কেন ? ইহাকে কিছ আর বলিও না। রাজবাটী হইতে তাড়াইয়া দাও এবং ইহার পিতাকে বধ করিয়া, ইহাদের ঘরবাড়ী ভাঙ্গিয়া, সমস্ত ধন সম্পত্তি রাজসরকারে বাজেয়াপ্ত করিয়া লও। “আজ্ঞা ত্র রাজভূতগণ আসিয়া আমার গৃহাদি সমস্ত ভগন করিল, আমার झदामि जघ्निघ्ना । আমার কন্যা রাজবাটী হইতে তাড়িত হইয়া একবস্ত্রে আসিয়া আমার নিকট দাঁড়াইল। ক্রমে রাজসৈন্যগণ আমাকে হত্যা করিবার জন্য আমাকে জল্লাদের হস্তে দিল। এমন সময় পুনরায় আকাশ হইতে ভয়ঙ্কর গভজন শনা গেল, অন্ধকার হইয়া রবটি হইতে লাগিল। সৈন্যগণ কেহ মরিল, কাহারও মস্তক হস্ত, পদ ভগন হইল। তাহারা ভয়ে উদ্ধদৰ্শবাসে পলায়ন করিল। আমার এবং কন্যার গায়ে কোনও প্রস্তর লাগিল না। “সেই অবধি ভীত হইয়া বাদশাহ আমার প্রতি আর কোনওরপে অত্যাচার করেন না। তবে আমার ধন সম্পত্তি সমস্ত যাওয়াতে আমি পথের ভিক্ষক হইয়া পড়িয়াছি। সামান্য একট কুটীর বাঁধিয়া কন্যাসহ কোনও মতে জীবনযাত্রা নিৰ্বাহ করিতেছি।” এই পৰ্যন্ত বলিয়া বন্ধ মৌন হইয়া রহিলেন। রাজপত্র ব্যাপার সমস্ত বঝিতে পারলেন। ইহা মালেক সাদকেরই কীৰ্ত্তি । তথাপি জিজ্ঞাসা করিলেন—“কেন এরুপ হইল, আপনার কন্যাকে কিছু জিজ্ঞাসা করিয়াছেন কি ?” বদ্ধ কহিলেন—“জিজ্ঞাসা করিয়াছিলাম। কন্যা বিশেষ কিছু বলিতে পারিল না। কেবল বলিল—“যখন আমাদের শয়নকক্ষ হইতে নৰ্ত্তকীগণ বিদায় গ্রহণ করিল, তখন শাহজাদা উঠিয়া দবার বন্ধ করিয়া দিলেন। আমি পালঙ্কে শয়ন করিলাম। শাহজাদা পালকের নিকটবত্তী হইবামার কোথা হইতে এক ভয়ঙ্কর শব্দ উত্থিত হইল। শান্য হইতে যেন এক মণিময় সিংহাসন নামিয়া আসিল। তাহার উপর এক রূপবান যাবাপরষ রাজবেশে উপবিট ছিলেন। তাঁহার হস্তে উলঙ্গ তরবারি। চক্ষ ক্ৰোধে রক্তবর্ণ। তরবারির এক আঘাতে শাহজাদার মস্তক কাটিয়া ফেলিয়া অন্তহিত হইলেন। আমি ভয়ে জ্ঞানশন্য হইয়া পড়িলাম, আর কিছই জানি না।”—আমার বোধ হইল কোনও ভৌতিক কাণ্ড হইবে। সেই অবধি ভূতের ভয়ে বাদশাহ বহু প্রকার তাবিজাদি ধারণ করিয়াছেন, এবং সহরের সব্বত্র মৌলানাগণ ইসিম আজম ও কোরাণ পাঠ পরিতেছে।" বন্ধ আবার মৌনাবলম্বন করিলেন। রাজপত্র ও মবোরক সন্ধ্যা সমাগত দেখিয়া বিদায় গ্রহণ করিলেন। - - চতুর্থ পরিচ্ছেদ রাজপত্র বাসস্থানে ফিরিয়া, আহারাদি করিয়া শয়ন করিলেন । মুবারক তাঁহার কাছে আসিয়া বলিল—“শাহজাদা, এতদিনে অভীষ্ট সিদ্ধ হইয়াছে, অথচ তোমার মন এমন বিষন্ন কেন ?” রাজপত্র কহিলেন--"মবারক, সেই রূপসী-রত্নকে দেখিয়া আমার মনে হরিষে বিষাদ উৎপন্ন হইয়াছে।” - . لا ه ج م