পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩০৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শাহজাদা বললেন—মবারক তুমি বন্ধ হইয়াছ, আমার মনের দুঃখ কি বুঝিবে ? আমি ষে দিন হইতে ঐ কন্যার ছবি দেখিয়াছি, সেই দিন হইতেই আমার মন প্রেমঅগ্নিতে দগধ হইতেছে। এতদিন পরে যদি তাহার দেখা পাইলাম, তাহাকে লাভ করিতে পারিব না।” . I মবারক শনিয়া বলিল—“সব্বনাশ! এমন চিন্তা মনেও স্থান দিও না। মালেক সাদেকের প্রণয়িণীকে তাঁহার নিকট পেপছিয়া দিবার উপায় চিন্তা কর। অন্যরাপ কামনা পরিত্যাগ কর। এদেশের বাদশাহজাদার কি দশা হইয়াছে তাহা ত তুমি সরকণেই শুনিলে।” রাজপত্র বললেন—“শুনিলাম বলিয়াই ত এই বিষাদ ।” মবারক তখন ফকীর-কন্যাকে কি উপায়ে লইয়া গিয়া মালেক সাদকের হতে অপর্ণ করা যাইতে পারে, তাহার পরামশাই করিতে লাগিল। অবশেষে স্থির হইল, ফকীরকে বলিয়া কহিয়া, বাবাইয়া, বিবাহ করিবার ছল করিয়া, শাহজাদা ঐ কন্যাকে লইয়া গিয়া মালেক সাদেক সমীপে অপণ করবেন। সে রাত্রি শাহজাদা নিদ্রা যাইতে পারলেন না। সেই সন্দরীর চন্দ্রমুখ যতই তাঁহার মনে পড়ে, ততই অন্তরে প্রেমানি জলিয়া উঠে। কোনও ক্রমে রাত্রি প্রভাত হইল। রাজপত্র নান করিয়া, বেশ বিন্যাস করিয়া, বাজারে গিয়া বিবিধ প্রকার শতক ও হরিবর্ণ মেওয়া ফল, মাংস ও অন্যান্য সমবাদ, খাদ্য ও পেয়, বিবিধ প্রকার বসালংকার প্রভৃতি উপহার দ্রব্য ক্লয় করিয়া, মবারকসহ ফকীরের কুটীরে উপস্থিত হইলেন। ফকীর মহা সমাদরে তাঁহাকে সম্প্রবন্ধনা করিয়া বসাইলেন। কিয়ৎক্ষণ বাক্যালাপের পর রাজপত্র বলিলেন–“মহাশয়, আমি গত রজনীতে অনেক চিন্তা করিয়া স্থির করিয়াছি, আপনার নিকট আপনার কন্যার হস্ত প্রার্থনা করিব। আমার যেরপে মানসিক অবস্থা, তাহাতে আপনার কন্যাকে লাভ করিতে না পারিলে আমার জীবনে সুখ নাই। আপনি মৃত্যুশঙ্কার কথা বলিয়াছিলেন, আমি ভাবিয়া দেখিলাম, সখহীন জীবনভার বহন করা অপেক্ষা মৃত্যুই শ্রেয়স্কর।” এ কথা শুনিয়া বন্ধ বলিলেন—“বৎস ও কথা বলিও না। জীবন অপেক্ষা প্রিয়তর পৃথিবীতে আর কিছুই নাই। এই আশংকাটি যদি না থাকত, আমি এখনি তোমাকে আপন কন্যা সমপণ করিয়া কৃতাৰ্থ হইতাম। কিন্তু জানিয়া শনিয়া কেমন করিয়া আমি তোমার মৃত্যুর কারণ হইব।” । রাজপত্র অনেক অননয় বিনয় করিলেন, কিন্তু বদ্ধ কিছতেই সন্মত হইলেন না। এইরপে এক মাস কাটিয়া গেল। রাজপুত্র প্রত্যহই নানা উপহার দ্রব্যাদি লইয়া ফকীরের আলয়ে আসিতেন। এবং দিবসের অধিকাংশ ভাগ সেই স্থানেই অতিবাহিত করিতেন। প্রত্যহই অনেক প্রকারে বন্ধকে বঝাইতেন কিন্তু কিছুতেই বন্ধের মত করিতে পারলেন -না। বন্ধ কেবলই বলিতেন, তোমাকে কন্যাদান করিয়া, তোমার বধের ভাগী অ'মি .হইতে পারিব না। এক মাস পরে হঠাৎ এক দিন বন্ধ পীড়িত হইয়া পড়িলেন। রাজকুমার ও মবোরক সব্বদা উপস্থিত থাকিয়া তাঁহার সেবা শশ্রেষা করিতে লাগিলেন, ঔষধাদি আনিয়া বন্ধকে সেবন করাইতে লাগিলেন। রাজকুমার নিজ হস্তে রোগীর পথ্য প্রস্তুত করিয়া বন্ধকে খাওয়াইতেন। ফল কথা, বন্ধের সেবা শশ্রষার কোনও ক্রটি হইল না। কিন্তু বন্ধ কিছতেই বাঁচিলেন না। - তাহার মৃত্যুর পরে মুসলমান-ধৰ্ম্মম অনুসারে সমস্ত ক্লিয়াকম শাহজাদা সম্পন্ন করিলেন। সব্বদা কন্যার নিকটে থাকিয়া তাহাকে প্রবোধ দিতেন। এইরূপে আরও মাসখানেক কাটিল। মবারক এক দিন জনাতিকে রাজকুমারকে বলিল—“আর এখানে ব্যথা সময় নষ্ট করিয়া ফক্স কি ? চল এবার কাঞ্চু লইয়া মালেক সাদেকের নিকট সমপণ কর।”