পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩০৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রাজপত্রে ইহা শুনিয়া মৌন হইয়া রহিলেন। অন্তরের বাসনা বড়ই প্রবল অথচ মৃত্যুভয়ও কাটাইয়া উঠিতে পারেন না। মবারক সে দিন ফকীরকন্যাকে বলিল—“বেটী, আমরা বিদেশী লোক, এখন ত আমাদের বাড়ী যাইতে হইবে। তুমি কি করিবে মনে করিয়াছ ?” ফকীরকন্যা বলিল—“মহাশয়, আমার আর এখানে কে আছে ? আমি এক সত্ৰীলোক এখানে থাকিবই বা কি করিয়া ? আমার কি উপায় হইবে ?” মবোরক বলিল—“এখানে একা থাকা যদি তোমার অনভিপ্রেত হয়, তবে আমাদের সঙ্গে আমাদের দেশে চল । তাহার পর কোন একটা বন্দোবসত করা যাইবে।” ফকীরকন্যা সম্মত হইল। মবোরক পালকী ও বাহক সংগ্ৰহ করিয়া, ফকীরকন্যা ও রাজপুত্রকে লইয়া, মালেক সাদেকের রাজ্য-অভিমুখে যাত্রা করিল। বহুদিনের পথ। নানা বন, উপবন, পর্বত ও নদী অতিক্ৰম করিয়া ইহারা যাইতে লাগিলেন। মাঝে মাঝে কোনও সন্দর পথান প্রাপ্ত হইলে দই এক দিন সেখানে থাকিয়া বিশ্রাম করিতেন। কুমারীর নিয়ত সাহচর্যে রাজপত্রের মনে প্রণয়-বাঁহ প্রতিদিন বন্ধি পাইতে লাগিল। দুইজনে বিশ্রাম পথান হইতে অনেক দর অবধি বেড়াইতে যাইতেন । কোথাও একটি সন্দের বনপাপ দেখিলে, রাজপত্র তাহা যত্নে তুলিয়া ফকীরকন্যার কেশদামে পরাইয়া দিতেন। এইরূপে কয়েক মাস কাটিল। কিন্তু মালোক সাদেকের ভয়ে শাহজাদা কোনও দিন ফকীরকন্যার নিকট স্বীয় প্রণয় ব্যক্ত করিতে সাহসী হইতেন না। gBBBB BBBB DDBB BBBBBB BBBB BBBB BBBS BBBB BBBB জানিতে মবোরকের বাকী ছিল না। মবোরক বলিল—“রাজকুমার, তোমাকে পববাবধিই সাবধান করিয়া দিয়াছি, এ বাসনা মনে স্থান দিও না। মালেক সাদেকের প্রণয়িণীর প্রতি দটি নিক্ষেপ করা কতদর বিপদজনক, তাহা কি তুমি অবগত নও ? শেষে কি প্রাণটা খোয়াইবে ?” রাজপত্র কহিলেন—“তুমি যাহা বলিতেছ তাহা যথাৰ্থ বটে মুবারক। কিন্তু আমি যে কিছতেই হৃদয়বেগ সম্বরণ করিতে পারিতেছি না। ফকীরকন্যাকে বিবাহ করিলে মালেক সাদেকের হস্তে আমার মৃত্যু, আর প্রণয়বাঞ্ছা পণ না হইলেও আমার অবধারিত মৃত্যু। এখন আমি কি করিব ?” মবোরক যবেরাজের মুখে এরপ কথা শুনিয়া অতিশয় দুঃখিত হইল। বলিল— “ধৈয্য ধরিয়া থাক। হয়ত মালেক সাদেকের নিকট কন্যাকে উপসিথত করিলে তিনি প্রীত হইয়া কন্যা তোমাকেই দান করিবেন। তাহাতে তোমার প্রাণরক্ষা, রাজারক্ষা সকল দিকই বজায় থাকিবে।” যবেরাজ বিষন্ন মনে স্থানান্তরে প্রস্থান করিলেন। ইহার কিয়দিন পরে তাঁহারা একটি নদীতীরে উপস্থিত হইলেন । পথানটি সন্দের দেখিয়া, কিছুদিন বিশ্রামের জন্য তাঁহারা সেইখানেই ছাউনি ফেলিলেন। তখন বসন্তকাল বিরাজ করিতেছে। নদীতীরে সহস্ৰ সহস্র বন্য গোলাপ ফুটিয়া বায়কে আতর গন্ধে পরিপ্লাবিত করিয়াছে। বলবল পক্ষীর গান শুনিলে বন্ধেরও মনে তরুণ-ভাব উপস্থিত হয়। একদিন যবেরাজ ও ফকীরকন্যা নদীসৈকতে বেড়াইতে বেড়াইতে শ্ৰান্ত হইয়া একটি গোলাপের ঝড়ের নিকট তৃণাসতরণে উপবেশন করিলেন। সে দিন কথায় কথায়, শাহজাদা নিজ প্রণয় বক্ত করিলেন। কিরাপ উন্মাদনা আসিয়া উপস্থিত হইল, কিছুতেই নিজেকে সেদিন সংযত করিতে পারিলেন না। রাজকুমারের প্রণয়-কথা শুনিয়া কুমারীর গন্ডযগেল, নিকটস্থ ঝড়ের গোলাপ পাপড়ির মতই লাল হইয়া গেল। যবেরাজের বারমবার প্রশেন কুমারীও স্বীকার করিলেন, যে দিন হইতে তিনি পিতৃগৃহে যদুবরাজকে দেখিয়াছেন, সেইদিন হইতেই তাঁহাকে নিজ হাদয় মন সমপণ করিয়াছেন। এই প্রথম প্রণয় বাক্ত করিতে সেই অসামান্য সন্দরীর মুখমণ্ডল অপবে শোভা ধারণ করিল। রাজপত্র আত্মহারা হইয়া ९०७