পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সরীয় পিয়তমাকে বক্ষে ধারণ করিয়া তাহার গোলাপী অধর চমবন করিতে উদ্যত হইলেন। কিন্তু কুমারী বললেন—“না প্রাণাধিক, আত্মসম্বরণ কর, আমি তোমার মৃত্যুর কারণ হইতে পারিব না।” যবেক বললেন—“তোমার অধর চলম্বনের মূল্যস্বরপে যদি আমার প্রাণ দিতে হয়, আমি তাহাতেও কাতর নহি।” কুমারী ঈষৎ হাস্য করিয়া, গোলুপের বুড় হইতে একটি ফল ছিড়িয়া, তাহা চমবন করিয়া যুবকের কোলে ফেলিয়া দিলেন। বলিলেন—“ঐ ফলে আমার চমবন আছে, উঠাইয়া লও।” যবেক সাগ্রহে ফলটি উঠাইয়া লইয়া বারবার তাহা চাবন করিতে লাগিল। এমন সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হইয়া উঠিল। মহামহে বিদ্যুৎ চমকিতে লাগিল। শত বজ্রনিঘোষের শব্দ শ্রত হইল। যবেরাজ বঝিলেন তাঁহার আসন্নকাল উপস্থিত। ফকীরকন্যাও ববিলেন, এইবার সব্বনাশ হইল। তিনি ভয়ে যবেরাজের কন্ঠলগনা হইলেন । মহত্ত পরে মালেক সাদেক আসিয়া সেখানে দণ্ডায়মান হইলেন। তাঁহার চক্ষ রক্তবণ, দন্তে দন্ত ঘষিত হইয়া বিকট শব্দ উত্থিত হইতেছে। তাহা দেখিয়া ফকীরকন্যার মাছা উপস্থিত হইল। - মালেক সাদেক শাহজাদাকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন—“বিশ্বাসঘাতী যবেক! তোর উত্তর কি ?” শাহজাদা বলিলেন—“কিসের উত্তর ?” মালেক সাদেক বলিলেন—“এই কন্যার প্রতি তুই কেন প্রেমাভিলাষ করিয়াছিস ?” শাহজাদা কহিলেন—“দৈত্যপতি, এ প্রশ্নের কোনই উত্তর নাই। আমি উহাকে ভালবাসিয়াছি বলিয়া ভালবাসিয়াছি।” মলেক সাদেক বলিলেন—“মনে ভালবাসিয়াছিস, কিন্তু মুখে প্রকাশ করিলি কেন ?” যবরাজ উত্তর করিলেন-“যদি জানিতাম, আপনি যেরপে এই কন্যার প্রণয়াকাঙ্ক্ষী তিনিও সেইরূপ আপনার প্রতি অনুরক্ত, তবে আমি কখনই তাঁহার কাছে আমার প্রণয় ব্যক্ত করিতাম না। কিন্তু তিনি যখন আমাকেই হৃদয় মন সমপণ করিয়াছেন ইহা বুঝিলাম, তখন প্রণয় ব্যক্ত না করিব কেন ?” দৈত্যপতি বলিলেন—“আমার ক্ৰোধের ভয় কারস না ? প্রাণের মায়া নাই ?” শাহজাদা বলিলেন–“দৈত্যরাজ, মৃত্যু হইতে প্রেম বলবান। প্রেম কি কখনও মৃত্যুভয় করে ? ইচ্ছা হয় আমাকে বধ করন, তথাপি আমি আমার প্রিয়তমার নিকট প্রণয় বাক্ত করিয়াছি এবং তাঁহার প্রেমও যে প্রাপ্ত হইয়াছি, এইজন্য মৃত্যুর পর নরকে যাইলেও আমার আত্মা সবগ সুখ অনুভব করিবে।” ধীরে ধীরে আকাশ পরিস্কার হইল। পুনশ্চ দিবার তরণালোক দেখা দিল। অলেপ অলেপ দৈত্যপতির মুখমণ্ডলে, ক্ৰোধের পরিবত্তে, প্রসন্নতার চিহ্ন দেখা যাইতে লাগিল । তিনি সহাস্যমুখে বলিলেন—“যবা-উঠ। আমি তোমায় পরীক্ষা করিতেছিলাম মাত্র। আমি দৈত্যবংশোদ্ভব, তাহাতে বন্ধ হইয়াছি। মনুষ্যকন্যায় আমার কোনই প্রয়োজন নাই। উঠ, নদী হইতে শীতল জল আনিয়া তোমার প্রিয়তমার চেতনা সম্পাদন কর। তাহার পর সকল কথা খলিয়া বলিব ।” - একথা শুনিয়া, শাহজাদা, মহা আশ্বসত হইয়া, নদী হইতে জল আনিয়া, সযত্নে স্বীয় প্রণয়িণীর চেতনা সম্পাদন করিলেন। যাবতী একটা সস্থ হইলে, মালেক সাদেক বলিতে লাগিলেন—“যখন তুমি শিশু, তখন একদিন তোমার পিতা এবং আমি উভয়ে ছদ্মবেশে ইস্তাবলে সহরে বেড়াইতে গিয়াছিলাম। সেখানে এই কন্যাকে দেখি। ইনিও তখন অতি শিশ । তোমার পিতা ইহার সৌন্দৰ্য্য দর্শনে মোহিত হইয়া বলিয়াছিলেন, আমার পত্র যদি বাঁচে তবে এই কন্যার সহিত বিবাহ দিব। ইস্তাবলের শাহজাদা যখন ইহাকে বিবাহ করিল, তখন সেই কারণেই আমি তাহকে হত্যা করিয়াছিলাম। পরে २०8 -