পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩০৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তোমার পিতার মৃত্যুর পর, অনেক বৎসর ধরিয়া আর ওকথা আমার স্মরণ ছিল না। তোমাকে আসিতে দেখিয়া আরার আমার স্মরণ হইল। তোমার বীরত্ব ও বদ্ধিমত্তা পরীক্ষা করিবার জন্য কন্যাকে অন্বেষণ করিবার ভার তোমাকেই দিয়াছিলাম। বৎস-— . তোমার ক্লেশকর পরীক্ষা শেষ হইয়াছে। আমি ইতিমধ্যেই তোমার নিষ্ঠর পাপাত্মা পিতৃবাকে তোমার রাজ্য হইতে বহিস্কৃত করিয়া দিয়াছি। তোমার পিতৃসিংহাসন তোমার জন্য অপেক্ষা করিতেছে। শীঘ্রই তোমাকে পারস্য-রাজসিংহাসনে অধিষ্ঠিত করিয়া, এই কন্যার সহিত তোমার বিবাহ দিব।” মহা সমারোহে যদুবরাজের অভিষেক ও উদ্বাহ-ক্রিয়া সম্পন্ন হইল। বিবাহের পর, নবীন বাদশাহ রাজ্যের সব্বোৎকৃষ্ট কবিকে ডাকাইয়া নিজ জীবনের ইতিহাস বলিয়া, একখানি কাব্য রচনা করিতে আজ্ঞা দিলেন। সেই কাব্যের শীষ দেশে সবণাক্ষরে লিখিত হইল— “মৃত্যু হইতে প্রেম বলবান” ভতে না চোর ? প্রথম পরিচ্ছেদ আমার প্রপিতামহ মহাশয় বিষয়কম উপলক্ষে দিল্লী সহরে অসিয়া বাস করিয়াছিলেন। সেই অবধি বংশানুক্ৰমে আমরা দিল্লীরই অধিবাসী বাঙ্গালী বলিয়া এখনও নিজেদের পরিচয় দিয়া থাকি বটে, কিন্তু আমাদের মধ্যে বাঙ্গালিত্বের পরিমাণ উচ্চ-ক্রমের হোমিওপ্যাথিক ঔষধের মত বিরল হইয়া দাঁড়াইয়াছে। আমাদের আদিবাস ডমেরদহ গ্রাম বঙ্গের মানচিত্রে কোন সথানে অবস্থিত, তাহাও জ্ঞাত নহি । বাসতবিক, আমার সহধৰ্ম্মিণী শ্রীমতী শৈলবালা দেবী খাঁটি বাঙ্গালিনী না হইলে এতদিন আমি মাতৃভাষার একটি কথাও মনে করিয়া রাখিতে পারিতাম কি না বিশেষ সন্দেহ । আমাদের অবস্থা পন্বে খুব ভাল থাকিলেও, পিতা ও পিতামহের দোষে আমি এক প্রকার নিঃসব। শনিয়াছি আমার পিতামহের আমলে আমাদের এই আটালিকাখনি এই সবিস্তুত দিল্লী সহরের তদানীন্তন কোনও রঙ্গিণীর, চরণরেণকায় বঞ্চিত হয় নাই। আমার পিতার চরিত্রও নিদোষ ছিল না;—কিন্তু তাঁহার ক্যাসবাক্সে টাকাও অধিক ছিল না। শেষ দশায় তিনি বাড়ীখানি বন্ধক দিয়া যান; তাঁহার মৃত্যুর পরে, আমি স্ত্রীর অলঙ্কার বিক্লয় করিয়া বহনকটে বাড়ীখনি উদ্ধার করি । এখন অনেক উমেদারীর পর জজ সাহেবের কাছারিতে সেরেস্তাদারী কমে প্রবৃত্ত আছি। মহল্লা "মোসাক চৌকে আমাদের বসতি। দিল্লীর এই অংশ অপেক্ষাকৃত নিজন। আমাদের বাড়ীটি সেকেলে ধরণের, চকমিলান প্রকাণ্ড তিনতলা আটালিকা—অনেকগুলি ঘর। আমরা সবামী সত্ৰী দটি প্রাণী, দটি মেয়ে, তিনটি ছেলে, আমরা অত বড় বাড়ী লইয়া কি করিব ? অনেক দিন হইতে মনে করিতেছিলাম, যদি ভাড়াটিয়া পাই, তবে তেতলার উপরের ঘরগুলি ভাড়া দিই। তেতলার ভাল ঘরগুলি এবং গ্রীষ্মকালের রাত্রে ছাদের মন্ত বায়র মহাসুখ অন্যের জন্যে ছাড়িয়া দিতে যে প্রস্তুত হইয়াছিলাম, তাহার বিশেষ কারণ ছিল। বাড়ীর ভিতর দিয়া না যাইয়া, বাহির হইতেও তেতলার উপর পৌছান যায়। রসিতার ধারে যেখানে আমাদের সদর দরজা, তাহার বাম দিকেই একটা গলির মত আছে। সেই গলিতে সিড়ির যে দরজা আছে, তাহা দিয়া পরে পরে দোতলায় ও তেতলায় যাওয়া যায়। সিড়ির যে দরজা দোতলায় খলিয়াছে, সেইটিকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করিয়া দিলেই, আর আমাদের সঙ্গে তেতলার কোনই সম্মবন্ধ রহিল না । সদা পাণ থাকিত; সেই জন্য মেয়েছেলেদের বাহিরে যাইতে হইলে এই সিড়ির দরজার মুখে পালকী আসিয়া লাগিত:—অথাৎ ష్యో శా శా శా కాt