পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩০৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমি যে উপরতলাটি ভাড়া দিব, তাহা অনেক দিন হইতে অনেক লোকের কাছে বলিয়া বেড়াইয়াছি। কয়েকটা লোক চাহিয়াও ছিল, কিন্তু কেহই মনের মত হয় নাই বলিয়া দেওয়া হয় নাই। হয় অতি অলপ ভাড়া দিতে চায়, নয়ত মুসলমান, নয়ত আর কোনও বাধা থাকে। একদিন রবিবার অপরাত্নে বৈঠকখানা ঘরে চেয়ারে বসিয়া তামাক খাইতেছি, মৌলবী সাহেব তত্ত্বপোষের উপর ছেলেদের লইয়া সরে করিয়া করিয়া “চয়া হঙ্গে রফতন কুনদ জানে পাক” ইত্যাদি গোলেস্তাঁ পড়াইতেছেন, এমন সময় একটি ফিরিঙ্গি সাহেব আসিয়া আমাকে অভিবাদন করিলেন। আমি তাঁহাকে সাহেব দেখিয়া সাহেব বলিলেন—“বাব আপনার নাম সেরেস্তাদারবাব ?” “আঞ্জে হাঁ।” “আপনি তেতলার মহল ভাড়া দিবেন ?” “আক্তে হাঁ।” “কত ভাড়া ? আমি লইতে ইচ্ছা করি।” আমি বলিলাম—“আপনি লইবেন ? বেশ ত! আগে দেখন কেমন ঘর দয়ার। পছন্দ যদি হয়, তাহার পর সে কথা হইবে।” সাহেব সক্ষমত হইলেন। আমি বাড়ীর ভিতর হইতে সিড়ির খিড়কী-দরজার চাবি চাহিয়া আনিলাম। সাহেবকে লইয়া উপরে গেলাম। ঘরগলি, গোসলখানা ইত্যাদি সমস্ত দেখিয়া সাহেব ভারি খাসী হইলেন। শেষে ছাদের উপর যাওয়া গেল। সেখানে একটি ছোট কুঠারি ছিল; সাহেব বলিলেন, এইটি আমার “বাবচ্চিখানা” হইবে। দেখা শেষ হইলে দইজনে অবতরণ করিয়া বৈঠকখানায় আসিয়া বসিলাম। ভাড়ার কথা হইল। সাহেব বলিলেন—“কত চাহেন ?” আমি বলিলাম, “কত দিতে পারেন ?” সাহেব বলিলেন—“দশ ।” আমি শনিয়া হাসিলাম। মৌলবী সাহেব তাঁহার সেই সদীঘ দাড়ী দোলাইয়া হা হা হা হা করিয়া সপ্তমে এমন হাসিলেন যে সমুখে রাজপথচারী দুই চারিজন লোক ঘরের মধ্যে সোৎসকে দটিপাত করিয়া চলিয়া গেল। মৌলবী সাহেব যাহা বলিলেন, তাহার ভাবাথ এই—“এমন ইন্দ্ৰালয় (ফিরদোস্ত) ইহার ভাড়া দশ টাকা " সাহেব ভ্রাকৃঞ্চিত করিয়া আমাকে বলিলেন—“বাব, আপনি কত চাহেন ?” আমি বলিলাম—“পচিশ।" সাহেব বলিলেন–“অত হইবে না, পনেরোর বেশী এক পয়সা নহে।” আমি বলিলাম—“সাহেব আপনি বিবেচনা করন। তেতলার উপর, ভেণ্টিলেটেড ঘর, অমন ছাদ” ইত্যাদি। সাহেব কিছুক্ষণ চপ করিয়া রহিলেন। পরে আমার মুখের পানে কাতর দটিতে চাহিয়া বলিলেন--”বাব, আপনি আমির লোক ; আমি বড় গরীব। আমার প্রতি দয়া করিয়া যদি অলপ ভাড়ায় দেন ত ঈশবর আপনার মঙ্গল করবেন।" সাহেবের করণ কাতরোক্তিতে আমার হদয় গলিয়া গেল। হোক না কালো ফিরিঙ্গি সাহেব—হ্যাটুকোটধারী ত বটে! ঐ পরিচ্ছদবিশিষ্ট জীবগণের নিকট হইতে গালি ধমকই আমাদের ন্যায্য পাওনা বলিয়া অনেক দিন হইতে মনে মনে একটা ধারণা বন্ধমলে আছে। সতরাং ও শ্রেণীর লোকের নিকট হইতে মিষ্ট কথা শুনিলেই ভিজিয়া যাইতে হয়— কাতুরোক্তিতে আর হইবে না ? আমি বলিলাম—“আচ্ছা সাহেব, আপনি বসন। দশ মিনিট পরে আসিয়া আপনাকে বলিব।” সাহেব নিঃশ্বাস ফেলিয়া রাস্তার দিকে চাহিয়া বলিলেন—“তালরাইট বাবা।” গহিণী ত প্রথমে সাহেব শনিয়া কিছুতেই রাজি হন না। বলিলেন—“সাহেবকে ভাড়া দিব যদি, তবে মুসলমানেরা কি দোষ করিয়াছিল ? কে জানে বাপ, তোমার কেমন প্রবত্তি!” আমি তাঁহাকে বিশেষ করিয়া বঝাইলাম—সাহেবেরা মসলমান নহে, উহারা অন্য জাতি। খাব পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ইত্যাদি। গহিণী বলিলেন—“সেই ত و ه ج "