পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩০৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মাংস রাঁধিবে, পেয়াজ রধিবে, গন্ধে বাড়ী ছাড়িয়া পলাইতে হইবে ?” আমি বলিলাম —“সে ভয় নাই; সাহেবের রসইঘর ছাদের উপর হইবে, এখানে দগন্ধ আসিবে না ।" —শনিয়া গহিণী আশকত হইলেন এবং মত করিলেন। ভাড়ার কথায় তাঁহার কোনও বক্তব্য ছিল না। অর্থনীতি সম্বন্ধে তাঁহার সেরেস্তাদার স্বামী তাঁহার অপেক্ষা অনেক বেশী চতুর, ইহাই তাঁহার চিরদিন বিশ্বাস। তবে তিনি বললেন—“সাহেব যদি ননী আর চারকে কিছু কিছু ইংরাজি পড়াইতে স্বীকার হন, তবে অলপ ভাড়ায় বা ভাড়া না লইয়া দেওয়া যাইতে পারে।” শনিয়া আমার মনে হইল, ঠিক ত! “দেখা যাক" বলিয়া একটা পাণ মুখে দিয়া নীচে চলিয়া গেলাম। সাহেবকে বলিলাম—“আপনি যদি আমার ছেলেদটিকে প্রত্যহ দুই ঘণ্টা ইংরাজি পড়াইতে পারেন, তবে আপনার কিছই ভাড়া লাগবে না।" এ প্রস্তাবে সাহেব পরম আহমাদিত হইয়া সম্মত হইলেন এবং আমাকে অত্যন্ত ধন্যবাদ দিতে লাগিলেন। আরও বললেন—তাঁহার পত্নী আমার “লোঁডর”—(হা হা—শৈলবালা লেডি ! ভারি হাসির কথা) “ক্যাপিটাল কম্পপ্যানিয়ন” (উত্তম সঙ্গিনী) হইবেন, এবং অনেক প্রকার উল-টলের কাজ শিখাইয়া দিতে পারবেন। আমি ভাবিলাম আমার সন্ত্রী সেই মেলচ্ছানীকে চৌকাঠের এ দিকে পদাপণ করিতে দিলে ত! সাহেব বলিলেন—“বাব, তবে আমি পরশ বৈকালে জিনিষপত্র ও মেমসাহেবকে লইয়া আসিব। কাল আপনি ঘরগলা পরিস্কার করাইয়া রাখবেন "—বলিয়া তিনি আমার সহিত শেকহ্যান্ড করিয়া প্রস্থান করিলেন। নিদিষ্ট দিনে সাহেব সপরিবারে জিনিষপত্র লইয়া আসিলেন বটে, কিন্তু বললেন —“বাব, আমি গাজীপুর হইতে পত্র পাইয়াছি আমার শ্যালক বড় পীড়িত। আমরা আজই রাত্রে সেখানে চলিলাম। জিনিষপত্র সব চাবি বন্ধ কেরিয়া রাখিয়া যাইতেছি। বোধ হয় দুই সপ্তাহের এদিকে ফিরিতে পারিব না।” বলিয়া সাহেব ও মেম খিড়কীর সিড়ির দরজায় চাবি বন্ধ করিয়া প্রস্থান করিলেন। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ সন্ধ্যবেলায় আহারাদি সম্পন্ন করিয়া সকাল সকাল শয়ন করা আমাদের বহুদিনের অভ্যাস। যখন রাত্রি নয়টা বাজে, তখন আমাদের বাড়ীটি অধিকার হয় এবং সম্পণে নিস্তবধ ভাব ধারণ করে। রাত্রি চারিটা বাজিলেই সকলকার ঘুম ভাঙ্গিয়া যায়, ছেলেরা বিছানায় থাকিয়াই "শুকরো সিপাসো মিন্নতো ইতজৎ খোদা এরা” করিয়া পারসী শেলাক আবত্তি করিতে থাকে। আমরা স্ত্রী পরে যে সাংসারিক বিষয়ে আলাপ করতে প্রবত্ত হই। বেশ আলো হইলে তবে সকলে শয্যাত্যাগ করি। সাহেব যে দিন গাজীপুর গেলেন, তাহার তিন চারিদিন পরে অনেক রাত্রে (বোধ হয় বারোটা হইবে—বারোটাই আমাদের “অনেক রাত্রি”) হঠাৎ আমার নিদ্রাভঙ্গ হইল। বোধ হইল যেন উপরে দব দািব করিয়া কি শব্দ হইতেছে। কিছুক্ষণ কাণ পাতিয়া রহিলাম, শব্দ আর শনা গেল না। একট তন্দ্রা আসিল। আবার যেন শব্দ হইল। মনে করিলাম, ও কিছ নয়, কি শুনিতে কি শনিয়াছি। অনেকক্ষণ কাণ খাড়া করিয়া রহিলাম, আর কিছই শুনিলাম না। তখন নিশিচন্ত হইয়া ঘুমাইয়া পড়িলাম। তাহার পর দই তিন দিন কাটিয়া গিয়াছে। অনেক রাত্রে কাহার মদহেস্তপশে আমার ঘুম ভাগিল। হঠাৎ চমকিয়া উঠিলাম। কিন্তু পরমহত্তে আর ভয়ের কোনও কারণ রহিল না। শৈলবালা কম্পিতস্বরে ধীরে ধীরে বললেন—“ওঠ ওঠ—উপরের ঘরে ভূত আসিয়াছে।” শনিয়া আমার বড় হাসি পাইল। বলিলাম—“ভূতকে নিমন্ত্রণ করিয়াছিলে নাকি ?” তিনি বলিলেন—“হাসি রাখ। উপরে ভারি শবদ হইতেছে। সিড়ি দিয়া কে যেন ওঠা নামা করিতেছিল। ཨ་ཁ། ཨ1 ཕལ་༑ གྲྭ་ཨཱཿཧཱ་ལ་ཝ།” 酸