পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমি সেই রাত্রির কথা স্মরণ করলাম। ঠিক সেই সময়ে উপরে গম গম করিয়া শব্দ হইল। মনে কিঞ্চিৎ ভীতির সঞ্চার হইল। কিন্তু ভাবিলাম, ভয় পাওয়া উচিত নহে। আমি ভয় পাইয়াছি দেখিলে এই বাঙ্গালিনীর ত মুছা হইবে। সুতরাং সাহস করিয়া বলিলাম—“বেরাল-টেরাল আসিয়াছে বোধ হয় ” স্ত্রী বললেন—“তুমি কি পাগল হইলে ? বেরালের পায়ের শব্দে কখনও গম গম করিয়া শবদ হয় ?” আমি বলিলাম—“কুকুর ত হইতে পারে?” “কুকুর কোথা দিয়া যাইবে ?" “সাহেবের কুকুর বোধ হয় সাহেব ভুলিয়া ফেলিয়া গিয়াছিলেন।” “সাহেবের ত কুকুর আসে নাই।” মনে করিলাম—তাই ত! বলিলাম—“বোধ হয় চোর-টোর ”—গহিণী এ কথার প্রতিবাদ করিলেন না। - আমরা দইজনে অনেকক্ষণ বসিয়া রহিলাম। আর কোনও শব্দ শনা গেল না। খোকা কাঁদিয়া উঠিল। গহিণী চলিয়া গেলেন। তাহার পর কখন ঘুমাইয়া পডিলাম মনে নাই। পরদিন প্রভাতে উঠিয়া দেখিলাম, শৈলবালার চক্ষ রক্তবর্ণ। বলিলেন, সমস্ত রাত্রি ভয়ে তাঁহার ঘন্ম হয় নাই। আবার নাকি বেশী রাত্রেও দুইবার শব্দ হইয়াছিল। আমি যে আর একদিন ঐরপ শব্দ শনিয়াছিলাম, তাহা এখনও পর্যন্ত তাঁহাকে বলি নাই। এইবার বলিলাম। শনিয়া তিনি অধিক ভীত হইলেন। যথাসময়ে ছেলেরা অহার করিয়া স্কুলে গেল। আমি কাছারি গেলাম। মনটা কেমন চঞ্চল হইয়া রহিল। কাহারও কাছে এ কথা বলিলাম না। সহকমীরা সকলেই জিজ্ঞাসা করিলেন—“অক্ষয়বাব, আজ আপনার অসুখ করেছে নকি ?” একজনকে ঠাকুরদাদা বলি, তিনি ঠাট্টা করিয়া বলিলেন—“কাল রাত্রে নাতবউ ঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন বুঝি?” ইত্যাদি। সে দিন একটা সকাল সকাল কাছারি বন্ধ হইল। পরদিন বকরাইদের ছটি। বাড়ী ফিরিয়া আসিয়া দেখিলাম, শৈলবালা গভীর নিদ্রায় মগ্ন। ছেলেরা স্কুল হইতে ফিরিয়া আসিয়া তাঁহাকে জাগাইল। তাহারা খাবার খাইয়া খেলা করিতে গেল। আমরা পরামর্শ করিলাম, আজ সমস্ত রাত্রি জাগিয়া থাকিয়া দেখিতে হইবে ব্যাপারটা কি। সকাল সকাল বালকবালিকাদিগকে খাওয়াইয়া তাহাদিগকে বিছানায় দেওয়া হইল। আমি ভাল আহার করিতে পারিলাম না। মনের মধ্যে একটা উৎকণ্ঠা অমন করিয়া যাঁকিয়া বসিয়া থাকিলে কি খাওয়া যায় ? অার শৈলবালা—তিনি ত নাম মাত্র আসনে বসিলেন। দইটা বাতি ঠিক করিয়া রাখিলাম। দিয়াশলাই রাখিলাম। গহিণীকে বলিলাম —“চল আমরা ওঘরে গিয়ে কিছ পড়ি-টড়িগে।” আলোক সম্মখে রাখিয়া গহিণী একখানি বাঙ্গালা বহি লইয়া পড়িতে লাগিলেন, আমি তামাক খাইতে খাইতে শনিতে লাগিলাম। কিন্তু আমার মন তখন উদভ্ৰান্ত। কতক শনি, আবার গল্পের সত্র হারাইয়া ফেলি। এই রকম করিয়া রাত্রি দশটা বাজিল। তখন অস্তে আস্তে হট হাট করিয়া শব্দ আরম্ভ হইল। শৈলবালা বলিলেন—“ঐ দেখ।” বলিয়া বহি বন্ধ করিলেন। আমি তাঁহার মুখের পানে চাহিয়া রহিলাম। f ক্ৰমে শব্দ বেশ সপষ্ট আরম্ভ হইল। আমি বলিলাম—“আর কিছ নয়, উপরে চোর গয়াছে।” গহিণী বলিলেন—“চোর হইলে এক দিনে সব চরি করিয়া লইয়া যাইত, রোজ রোজ আসিবে কেন ? ও ভূত বই আর কিছ নয়।” এই কথা বলিতে বলিতে তাঁহার মুখ পাংশ বর্ণ ধারণ করল এবং ললাট ঘৰ্ম্মান্ত રૂજ