পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩১১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হইল। আমি বলিলাম—“একবার কোন হায়রে বলিয়া একটা হাঁক দিব ?” “হানি কি ?” আমি তখন উঠিয়া জানালার কাছে গেলাম। মুখ বাহির করিয়া, উপরের দিকে চাহিয়া বলিলাম—“কোন হ্যায় র ?” বরটা যেন বড় উচ্চ হইল না। পনশ্চ সপ্তমে বলিলাম,—“কোনা—হ্যায়—রে ?” কিন্তু শব্দ বন্ধ হইল না। শৈলবালা বললেন—“ভূত তোমার ভয়ে মরে কাঠ হয়ে যাবে ” কিছুক্ষণ পরে শব্দ বন্ধ হইল। আমি তখন সগবে বলিলাম—“দেখ ভূত না চোর। এ চোর তাতে কোন সন্দেহ নাই ।” গহিণী বলিলেন—“হায় হায় সাহেবের সবসবট চরি করে নিয়ে গেল গো!” আমি বলিলাম—“দেখ, সে বেচারি আমাকে বিশ্বাস করিয়া জিনিষপত্রগুলি রাখিয়া গেল। আমি যদি জানিয়া শুনিয়া চোরকে সব চরি করিয়া লইয়া যাইতে দিই, তবে নিতান্ত অধক্ষম হয়। আমি উপরে গিয়া চোর ধাঁর ” “চোর যেমন করিয়া গিয়াছে। সিড়ির দরজার তালা নিশ্চয় ভাঙ্গিয়াছে।” “দয়ার কি আর খলিয়া রাখিয়াছে ? চোর যদি হয়, নিশ্চয়ই ভিতর হইতে বন্ধ করিয়া দিয়াছে।" আমি বললাম—“দয়ার ভাঙ্গিয়া প্রবেশ করিব।” গহিণী বলিলেন—সব্বনাশ! তাহা হইলে কি আর তোমাকে ফিরিয়া পাইব ? বসুকে ছুরি বসাইয়া দিবে।” আমি বলিলাম—“আমি ভোজালি হাতে করিয়া যাইব ।” গহিণী বলিলেন—“না, সে কখনই হইবে না। চোর নয়—চোর নয়।” আমি বলিলাম—“যদি চোর না হয়, ভুতই হয়, তবে সিড়ির খিড়কী দরজায় সাহেবের তালা যেমন তেমনই থাকিবে। দেখিয়া আসিতে ক্ষতি কি ?” গহিণী কহিলেন—“এই রাত্রে! কাল সকালে গেলেই ত হইবে।” আমি বলিলাম—“যদি চোরই হয়, তবে পুলিশ ডাকিতে পারিব। চাকরবাকরকে জাগাইব । সকালে চোর পলাইলে আর কি হইবে ?” শৈলবালা আমাকে তিন সত্য করাইয়া লইলেন, যদি চোরই হয়, তালা ভাঙ্গিয়াই থাকে, তবে আমি নিজে উপরে যাইব না। শেষে তাঁহার গা ছাইয়া শপথ করিতে হইল। যাইবার সময়:-”আমার মাথা খাবে, আমার মরা মুখ দেখবে” এই দুইটা দিব্যও প্রয়োগ করিয়া দিলেন। আমি লণ্ঠন লইয়া নীচে গেলাম। সদর দরজা খালিয়া রাস্তায় নামিলাম । গলির ভিতর প্রবেশ করিয়া সিড়ির দরজায় উপস্থিত হইলাম। সাহেবের তালা যেমন তেমনই আছে। তাহাতে মাছিটিও বসিয়া পায়ের দাগ রাখিয়া যায় নাই । এ পথ ব্যতীত উপরে যাইবার আর কোনই উপায় নাই। মানুষের ত নাই—ভূতের থাকিতে পারে—কিন্তু, ভূত আমি বিশ্বাস করি না। অনেক ভাবিয়া কিছুই স্থির করিতে পারিলাম না। তবে কি মানুষ বেলনযোগে আমার ছাদে অবতীণ হইল ? ইহা ত সভব বলিয়া মনে হয় না। পথিবীতে, অন্ততঃ আমাদের দেশে ত এরপ বৈজ্ঞানিক চারের আবিভাব হইয়াছে বলিয়া বোধ হয় না। যাহা হউক উপরে গিয়া গহিণীকে বলিলাম--"তালা ত ঠিক আছে t” তিনি নিঃশ্বাস ফেলিয়া বললেন—“আমি ত বলিয়াইছি।" আমার “কোন হ্যায়রে” বলিয়া হকি দেওয়ার পর আধ ঘণ্টা আন্দাজ অতীত হইয়াছে। আবার শব্দ আরম্ভ হইল। আমরা পরস্পর পরস্পরের মুখের পানে চাহিলাম। গহিণী বলিলেন—“রাম রাম কবিয়া আজিকার এ কালরাত্রি কাটিয়া যাক-কালই সকালে তুমি অন্য বাড়ী ভাড়া কর সেইখানে যাই। আমার এ ছেলেপিলের ঘরকন্না, কোথা '8 X8 19 సె