পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩১৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমি পায়ের কাছে দেখাইয়া বলিলাম—“এত রক্ত কেন ?” সাহেব হাসিয়া বলিলেন—“ও বঝি রক্ত ? ও তো জল। এই দেখ”—বলিয়া সাহেব একটি জলপণ ছোট বালতী তুলিয়া ধরিলেন। বলিলেন—“এই নতন সিমেন্টের উপর জল পড়িয়া জ্যোৎস্নায় রক্ত বলিয়া তোমার ভ্রম হইয়াছিল।" এই সময়ে আবার সেই কাতরাণি শনা গেল। সাহেব বলিলেন—“বাব তুমি বিস্মিত হইয়াছ, ভয়ও পাইয়াছ। আমার স্ত্রী পীড়িতা—তাই ও কাতরাণি শব্দ । সকল কথা কাল সকালবেলা বলিব। আমি কোথাও যাই নাই। গাজীপুর যাওয়ার কথা ছলনা মাত্র । আমি দেনার জবালায় এমন করিয়াছি।” সাহেব চলিয়া গেলেন। আমি শয়ন-ঘরে ফিরিয়া আসিয়া দেখিলাম শৈলবালা মচ্ছিতা অনেক কষ্টে মচ্ছা ভাঙ্গাইলাম। সমস্ত রাত্রি সেবা করিয়া তবে তাঁহাকে সথে করি সকলে সাহেবের মুখে শনিলাম, তিনি সেই রাত্রে আবার চাপে চাপে ফিরিয়া আসিয়াছিলেন। সঙ্গে একজন বন্ধ ছিল, সে ই‘হাদিগকে ভিতরে দিয়া তালা বন্ধ করিয়া চলিয়া যায়। সাহেবের নাকি মিউনিসিপ্যালিটীতে একটা চাকরী হইবে—হইলেই তিনি অজ্ঞাতবাস হইতে বাহির হইবেন । পাছে আমরা জানিতে পারি এই ভয়ে তাঁহারা দিনের বেলায় চপ করিয়া বিছানায় পড়িয়া থাকিতেন। অনেক রাত্রি হইলে রান্না খাওয়া করিয়া লইতেন। আমাদের রান্নাঘরের পাশে যে চৌবাচ্চা আছে, তাহা হইতে জল লইয়া যাইতেন। শৈলবালা ত এ কথা শুনিয়া মহা খাপা হইলেন, বলিলেন—না জানিয়া সাহেবের ছোঁয়া জল খাইয়া আমাদের সপরিবারের জাতি গিয়াছে। যাহা হউক আগামী বারের অদ্ধোদয় যোগের সময় তাঁহাকে এলাহাবাদে লইয়া গিয়া গঙ্গাস্নান করাইয়া আনিব, এরপ অাশা দিয়া ঠান্ডা রাখিয়ছি। ভাগ্যে আমার সত্ৰী জ্যোতিষ জানেন না! এই সে দিন অদ্ধোদয় যোগ হইয়া গিয়াছে, আপাততঃ দশ বারো বৎসরের মধ্যে আর তাহা ঘটিবার সম্ভাবনা নাই । বীরবলের গলপ ৷৷ এক ৷ কথিত আছে আকবর বাদশাহের সভাসদ রাজা বীরবল অত্যন্ত চতুর, সরসিক ও স্পষ্টবক্তা ছিলেন। প্রয়োজন হইলে, স্বয়ং বাদশাহকেও তিনি দকথা শনাইয়া দিতে ভয় করিতেন না। বীরবলের প্রতি বাদশাহের স্নেহ ও শ্রদ্ধাও অপরিসীম ছিল। একদিন বাদশাহ দরবার বরখাসত ( সভা বিসর্জন) করিবার সময়, সে কালের প্রথা অনুসারে উপস্থিত পারমিত্রগণকে পান ও আতর বিতরণ করিতেছিলেন, এমন সময় অসাবধানতাবশতঃ এক ফোঁটা আতর নিম্নস্থ গালিচার উপর পড়িয়া গেল। বাদশাহ হঠাৎ বকিয়া, সেই আতরের ফোঁটাটি আঙলে মছিয়া তুলিয়া লইলেন। তুলিয়াই রাজা বীরবলের দিকে তাঁহার নজর পড়িল। বীরবল মস্তক নত করিয়া মাচাক মচকি হাসিতেছিলেন। সভাভগের পর বাদশাহ বিশ্রামস্থানে গেলেন;কিন্তু তাঁহার মনের ভিতরে এই কথাটাই ক্ৰমাগত খচ খচ করিতে লাগিল—“কেনই বা আমি নেহাৎ কুঞ্জষের মত সে আতরের ফোঁটাটকু তুলিতে গেলাম! একজন গরীব লোক যে আতর কখনও চোখে দেখে নাই, সে ওরাপ করলে সাজিত। কিন্তু আমি দনিয়ার মালিক আকবর বাদশা হইয়া ছি ছি বড়ই ভুল করিয়া ফেলিয়াছি। বীরবল দেখিয়াছে—একদিন নিশ্চয়ই সে ইহা লইয়া আমাকে বিদ্রুপ করিবে।” এই ক্ৰটিটুকু সারিয়া লইবার মানসে, পরদিন বাদশাহ হুকুম দিলেন, “রাজবাড়ীর সামনে ঐ যে জলের হাউজটা আছে, উহা খালি করিয়া, উৎকৃষ্ট আতরে ভত্তি করিয়া দাও—এবং সহরে ঢোল দাও যে, বাদশাহ প্রজাদের জন্য আতর-সত্র খলিয়াছেন, যাহার ইচ্ছা সে আসিয়া ঘটি বাটি কলসী ভক্তি করিয়া আতর লইয়া যাইতে পারে।” ঘড়া ঘড়া আতর ঢালিয়া সেই প্রকাণ্ড হাউজ ভত্তি করা হইল। দই তিন ঘণ্টার ল, যা হল মােক আদি বা টুল দি দি ংে ফন X y -