পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩১৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সাক্ষাৎ করিও । আর, সাবধান, আমার কাছে আসিয়াছিলে, নালিস করিয়াছ, একথা কেহই যেন ঘৃণাক্ষরে জানিতে না পারে। এখন যাও।” "হব্রুম তামিল করিব হজের”—বলিয়া মাণেকচাঁদ কাজি সাহেবকে সসন্দ্রমে অভিবাদন করিয়া প্রস্থান করিল। কাজি সাহেব সেইখানেই বসিয়া আবার আলবোলার নল মুখে লইলেন, এবং চক্ষ মদিয়া, চিন্তায় ব্যাপ্ত হইলেন। ঘণ্টাখানেক পরে তাহার মুখ দিয়া বাহির হইল, “ঠিক হোগা।”—চক্ষ খলিয়া বলিলেন, “আরে কৌন হ্যায়, চীলম বদল দে।” পরদিন সন্ধ্যার পর মাণেকচাঁদ আসিয়া হাজির হইল। কাজি জিজ্ঞাসা করিলেন, “আজ কি বার ?” “আজ হজের মঙ্গলবার .” “পরশ বহিস্পতিবারে, বিকালে, তুমি আবার ভবানীশঙ্করের নিকট গিয়া টাকা চাহিবে। যদি সে পনরায় অস্বীকার করে, তবে তুমি তাকে এই বলিয়া শাসাইবে, আচ্ছা, তবে অগত্যা আমাকে প্রধান কাজে সাহেবের দরবারে নালিসমন্দ হইতে হইবে। কল্য শব্রুেবার আদালত বন্ধ। পরশ শনিবার প্রথম কাছারিতে নিশ্চয়ই আমি তোমার নামে নালিস দায়ের করিব, দেখি তিনি ইহার কোনও প্রতীকার করেন কি না।”—এই বলিয়া তুমি বাড়ী চলিয়া যাইবে।” “যো হকুম হােজর।”—বলিয়া মাণেকচাঁদ প্রস্থান করিল। পরদিন কাজি সাহেব মুলসী ভবানীশঙ্করকে এই পত্ৰখানি লিখিলেন— “বন্ধ, বহুদিন আপনার সহিত দেখা-সাক্ষাৎ নাই। আজ সন্ধ্যার পর আমার গরীবখানায় যদি একবার দশন দেন ত বিশেষ বাধিত হই। জরুরী কথাবাত্তা আছে। ইতি।” পত্র পাইয়া ভবানীশঙ্কর একট দ্বিধায় পড়িয়া গেল। হঠাৎ কাজি সাহেবের এ তলব কেন ? তবে মাণেকচাঁদ তাঁহার কাছে গিয়া আমার নামে কিছয় লাগাইয়াছে নাকি ?—তাই তাহার টাকা ফেরৎ দিবার জন্য বন্ধভাবে আমাকে অনুরোধ করিবার জন্যই ডাকেন নাই ত ?” সন্ধ্যার পর ভবানীশঙ্কর গিয়া কাজি সাহেবের সহিত সাক্ষাৎ করিল। কাজি সাহেব অত্যন্ত অন্তরঙ্গভাবে তাহার সহিত আলাপ করিতে লাগিলেন। অবশেষে বললেন, “দেখনে ব্যবসাহেব, সহরে কি পরিমাণ জাল জয়াচরি ধাপাবাজির প্রাদ্যভাব হইয়াছে ইহা দেখিতেছেন ত ?” ভবানী। “হাঁ সাহেব, দেখিতেছি বইকি। ধন্ম রসাতলে গেল। পাপ অত্যন্ত কাজি। “মামলা মোকদ্দমা এতই বাড়িয়া গিয়াছে যে, আমার ত মশায় খাটিয়া খাটিয়া প্রাণটা গেল। বিশেষ এখন বন্ধ হইয়াছি। সেদিন বাদশাহের দশনলাভের সৌভাগ্য আমার হইয়াছিল। তাঁহার কাছে সকল কথা আমি বলিলাম। শনিয়া তিনি বলিলেন, “আচ্ছা কাজি সাহেব, আপনি বরং আপনার অধীনে দুইজন নায়েব-কাজি নিযুক্ত করন। তাহাতে আপনার শ্রম লাঘব হইবে এবং মামলা মোকদ্দমার শীঘ্র শীঘ্ৰ নিম্পত্তি হইবে। দুইজন উপযুক্ত লোক স্থির করিবার ভার আমি আপনাকেই দিলাম। এমন দইজন লোক স্থির করবেন, যাঁহারা খুব বিবান, অত্যন্ত ধামিক, যাঁহাদের নামে শাতেও কোনও অপযশ করিতে পারে না। রাজকোষ হইতে তাঁহাদের উপযন্ত বেতনও মঞ্জর করিব।” দরবার বরখাস্ত হইলে, আমি চলিয়া আসিতেছিলাম, বাদশাহ পুনরায় আমাকে ডাকিয়া বলিলেন, দেখন কাজি, দইজন নায়েব-কাজি—একজন মসলমান, একজন হিন্দ হওয়া অবশ্যক। কারণ হিন্দ ཅད་ཀཁ" ་སྨྱུ་མ་ ཨཱ་ལ་ཝ། সমতুল্য প্রজা। কিন্তু ঐ