পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


একটা অসাবধানতায় আমার সন্ত্রীর মনে কি শোকসমতি জালিয়া দিলাম ! তিনি একটি দীঘনিঃশ্বাস ফেলিয়া উঠিয়া বসিলেন। আমার মাখের পানে চাহিয়া বলিলেন, “কি বলছ ?” আমি তাঁহাকে কাছে টানিয়া বলিলাম, “চটীমারে একজন সন্ন্যাসীর দশন পেয়েছি। তিনি আমার হাত দেখে বলেছেন শীগগির আমার ছেলে হবে।” উপস্থিত বধিতে এইটুকুর বেশী যোগাইল না। কিন্তু কোনও ফল হইল না। তাঁহার দুইটি চোখের কোণে জল দেখা দিল। আমি তাঁহাকে বক্ষে বধিলাম। মাখচমবন করিলাম। রমাল দিয়া চোখ মছাইয়া দিলাম, নিজের চোখও মছিলাম। কি কথা বলিয়া চিন্তাস্রোত অন্যদিকে ফিরাই ভাবিতে লাগিলাম । গবাক্ষপথে দেখিলাম, সন্যাসন্তকাল সমপস্থিত। বলিলাম, "চল, ছাদে চল সৰ্য্যোত দেখিগে। পক্ষাবক্ষে সৰ্য্যোসত কখনো ত দেখিনি।” তিনি উঠিলেন। পাশের কামরায় গিয়া মুখ চক্ষ ধৌত করিয়া, কেশবেশ বাহিরে যাইবার মত করিয়া আসিলেন। দইজনে ছাদে গিয়া পদচারণা করিতে লাগিলাম। সন্য অস্ত গেল, সন্ধ্যা হইল। চটীমার হহেতু শব্দে জল কাটিয়া ছটিতেছে। ক্লমে নাগরকান্দি স্টেশন ঘাট নিকটবতী হইল, আমরা ছাদ হইতে নামিয়া গেলাম। সিড়ির পাশে সারদা দাঁড়াইয়া। আমাদের দেখিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “ইনি আমার মা ?”—উত্তরের প্রতীক্ষা না করিয়াই আমার স্ত্রীকে ভূমিষ্ঠ হইয়া প্রণাম করিল। এই ব্যাপার দেখিয়া আমার সন্ত্রী থতমত খাইয়া সরিয়া দাঁড়াইলেন। অবাক হইয়া আমার পানে চাহিয়া রহিলেন। আমি বলিলাম, “একটা কথা আছে, ক্যাবিনে গিয়ে বলব।" সারদার প্রতি মনে মনে অত্যন্ত বিরক্ত হইলাম। কোথা হইতে ভাল আপদ জটিয়াছে! বলিলাম, “অপেক্ষা করন না। আপনি অত ব্যস্ত হচ্চেন কেন ?” সারদা সসম্ভ্ৰমে সরিয়া গেল। বলিয়া গেল, “আমি ঐ এঞ্জিনের কাছে থাকব।” সন্ত্রীকে লইয়া ক্যাবিনে গিয়া সকল কথা বলিলাম। শনিয়া তিনি বলিলেন, “আমি পাদোকজল দিতে পারব না।” আমি বলিলাম, “তাতে আর হানি কি ?” “তুমি ঐ গাঁজাখরী কথা বিশ্বাস কর নাকি ?” “করিনে। কিন্তু ওর মনে যদি ঐ বিশ্বাস হয়, তবে হয়ত উপকার পাবে। এমন অনেক শুনতে পাই।” “কি শুনতে পাও? জন্মান্তরের মা বাপকে স্বপন দেখে, ডাক্তারকে ফাঁকি দিয়ে তাদের পাদোকজল খেতে যায় ?” “ন;–একটা কিছুতে দৃঢ় বিশ্ববাস করলে রোগ অনেক সময় আরাম হয় ।” এ কথা শুনিয়া আমার সন্ত্রী চাপ করিয়া রহিলেন; কিয়ৎক্ষণ পরে বলিলেন, "তা, শধ জলই একট দাওগে না। বিশ্ববাস হলেই হল যে পাদোকজল।” “তার দরকার কি ? সে যে ছলনা করা হবে”—বলিয়া চায়ের একটা পেয়ালাতে একট, জল ঢালিলাম। আমার স্ত্রী হাসিতে হাসিতে মোজা খলিলেন। বলিলেন, “ভাল জালা ! তোমাকে যেমন বোকা ভালমানষেটি পেয়েছে। বিলেতে যে কোনও মেম ভুলিয়ে তোমায় বিয়ে করে ফেলেনি, সেই আমি আশ্চৰ্য্য হই।” আমি হাসিয়া বলিলাম, “তা হলে তোমার কপালের এ কটটা কোথায় যায় বল ? এতদিন তুমি ত তাহলে ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটের সী।” ঠাট্টা করার লোভটি আমার স্ত্রী সমবরণ করিতে পারেন না, কিন্তু উল্টিয়া একট ঠাট্টা কর দেখি, তাহা অার সহ্য হয় না। বলিলেন, “যাও যাও তোমার আর চালাকি করতে }SN مہاسے s