পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


লিখি কাল লিখি করিয়া এখনও শ্যামাচরণবাব পত্র লেখেন নাই। বোধ হয় বিশ্বাস ణా శా ఆ Fణా శా - కానీ శా• a గా হইবে । বৈশাখ মাসে পরীক্ষার ফল বাহির হইল। আশ মোহিনী উভয়েই উত্তীণ হইয়াছে। আশ: এই শুভসংবাদ মোহিনীকে টেলিগ্রাফ করিয়া জানাইল। বাড়ীতে আনন্দ উৎসক পড়িয়া গেল । এইবার শ্যামাচরণবাব চিঠি লিখিলেন। মোহিনী ও আশুতোষের পরপরের সৌহদ্য বর্ণনা করিয়া, মোহিনীর পরীক্ষা-ফলে আনন্দ প্রকাশ করিয়া, অতিশয় বিনয়সহকারে বিবাহের প্রস্তাব করিলেন। সপ্তাহখানেক পরে পত্রের উত্তর আসিল । মোহিনীর পিতা বল্লভপরের জমিদার হরেকৃষ্ণ রায় মহাশয় লিখিয়াছেন, মোহিনীর সহিত আশুতোষের বন্ধত্বের কথা পৰব হইতেই তিনি অবগত আছেন এবং শ্যামাচরণবাবর গণের কথাও তিনি মোহিনীর নিকট সব্বদাই শনিতে পান। তাঁহার সঙ্গে সম্পক স্থাপিত হয় ইহা অতি সখের কথা। তবে দেনা পাওনা সম্বন্ধে একটা কথা কহা যে এখন রীতি হইয়াছে, সেটা চকিয়া গেলেই সমস্ত ঠিকঠাক করা যাইতে পারে। সেটা পত্রের দ্বারায় না হইয়া বাঢ়নিক হইলেই উভয়পক্ষের সুবিধা ও সময়সংক্ষেপ হইবে। অতএব এই অভিপ্রায়ে একবার যদি শামা হইবেন। এই পত্র পড়িয়া শ্যামাচরণবাব যারপরনাই সন্তোষলাভ করিলেন। গহিণীকে বলিলেন,—“আহা দেখেছ! যেমন ছেলেটি, তেমন বাপটি। আজকালকার দিনে এমন কুটুম্ব পাওয়া অতি সৌভাগ্যের কথা।”-স্থির হইল, আগামী শনিবার আফিসের পর যাত্রা করিবেন। পরদিবস এক সময় নিরিবিলি পাইয়া শৈলবালা লুকাইয়া উপরোক্ত পত্ৰখানি পাঠ করিতেছিল—তাহার দিদি সলোচনা আসিয়া এই চৌয্যকাযে তাহাকে ধরিয়া ফেললেন । ধৱ পড়িয়া শৈলর মুখ চোখ কাণ রাঙা হইয়া উঠিল ; দিদি পরিহাস করিয়। বলিলেন, —“শৈলি, তোর যে আর দেরী সইচে না! বাবাকে বলব এখন, যেন এই মাসেই লিয়ের সব ঠিকঠাক করে আসেন।” বাসতবিকই পিতার যাত্রাকালে সলোচনা তাঁহাকে বলিয়া দিল—“বাবা, যদি সব ঠিক হয়, তবে এই মাসেই নয়ত জ্যৈষ্ঠ মাস পড়তেই বিবাহের দিন সিথর করে এস। সামনের জামাইষ্ঠীতে যেন আমরা আমোদ আহমাদ করতে পাই।” শ্যামাচরণবাব যথাসময়ে বল্লভপরে উপস্থিত হইলেন। হরেকৃষ্ণ রায় আদর অভ্যর্থনা করিতে কটি করিলেন না। মোহিনীদের বাড়ীঘর, লোকজন, সোধ সরাবৎ দেখিয়া, সেই প্রথম শ্যামাচরণবাবা ভাবিলেন,--এমন লোকের ছেলেকে মেয়ে দেওয়া তাঁহার মত অবস্থার লোকের পক্ষে অত্যন্ত উচ্চাভিলাষ —তবে নাকি মোহিনীর পিতার পত্রে যথেস্ট অভয় পাইয়াছিলেন, তাই অনেকটা ভরসা করিলেন। বেলা নয়টার সময় তিনি মোহিনীদের বাড়ীতে পেপছিয়াছিলেন। সনানাহার করিতে অনেক বেলা হইয়া গেল। রায় মহাশয় বলিলেন,—“পথশ্রমে আপনার ক্লেশ হয়েছে। এ বেলা বিশ্রাম করন। ও বেলা তখন সে সমস্ত কথাবাত্তা কওয়া যাবে।" অপরাহ্লে রায় মহাশয়দের বহিব্বাটিতে কতকগুলি ভদ্রলোকের সমাগম হইল। অনতিবৃহৎ কক্ষটির মধ্যস্থলে দইখানি চৌকী যোড়া করিয়া পাতা। তাহার উপর আগ্রার একখানি শতরঞ্জ। তাহার উপর রজকালয় হইতে সদ্যপ্রাপ্ত একখানি চাদর বিছান। কয়েকটি তাকিয়াও স্থানে পথানে সজিত। রায় মহাশয় জমিদারগর্বে মধ্যস্থলে সাখাসীন। শ্যামাচরণবাবকে তিনি সকলের সহিত পরিচিত করিয়া দিলেন : সকলেই বলিলেন—“শ্যামাচরণবাবর মত মহাশয় লোকের সঙ্গে কুটবিতা করার চেয়ে আর কি - ২&