পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হয়ত সেই তৃতীয় ব্যক্তিই হত্যাকত্তা। সীলোকটার, নিজের গলা নিজে কাটিবার কোনও যুক্তিযুক্ত কারণ নাই। যদি এমন হইত যে, এ ব্যক্তি অনেকদিন হইতে উহার নিকট যাতায়াত করে, দ’জনের মধ্যে প্রেম হইয়াছে, তাহা হইলে হয়ত মনে করাও যাইত যে, কোনও ঝগড়া কলহের কারণ, অভিমানে রমণী আত্মহত্যা করিয়াছে। কিন্তু তাহা নহে। সকলেই বলিতেছে, সে বাড়ীতে আসামীকে তাহারা পর্বে কোনও দিন দেখে নাই। তাহা হইলে, আসামই রমণীকে হত্যা করিয়াছে ইহা থির। কেন করিল ? চরির অভিপ্রায়ে হইতে পারে। হয়ত পাবে ভাবিয়ছিল, গলাটি কাটিয়া দিলেই রমণী চিরতরে নিস্তব্ধ হইয়া যাইবে—তখন সে অভাগিনীর টাকা-কড়ি গহনা-পত্ৰ লইয়া বাহির হইয়া, কপাটটি ভেজাইয়া, ಕ್ಲ কিন্তু অভাগিনী মৃত্যুযন্ত্রণায় গোঁ গোঁ শবদ করাতেই আসামীর উদ্দেশ্য - 3 হল । ম্যাজিস্ট্রেট তখন আসামীকে দায়রা সোপদ করিলেন। হাইকোটের আগামী সেসনে, তাহার বিচার হইবে। আসামী প্রেসিডেন্সি জেলে হাজতবন্ধ রহিল। ইতিমধ্যে দেশে যুবকের আত্মীয়-স্বজন খবর পাইয়া কলিকাতায় আসিয়া পড়িয়াছিলেন। তাঁহারা বলিলেন, “অসম্ভব। ও যে অথ’লোভে নারী-হত্যা করিবে, ইহা একেবারে অসম্ভব। সে প্রকৃতির ছেলে ত ও নয়।" তাঁহারা, সেসনে আসামীর পক্ষাবলম্বন ম্যাজিষ্ট্রেটের এজলাসের কাগজ-পত্রের নকল পড়িয়া, এবং আসামীর আত্মীয়-স্বজনের . মখে আসামীর সচ্চরিত্রতা সম্বন্ধে তাঁহাদের দৃঢ় বিশ্ববাসের কথা শুনিয়া, আসামীর উকীলেরা অত্যন্ত বিসিমত হইলেন। জজের অনুমতি লইয়া, প্রেসিডেনিস জেলে গিয় তাহারা আসামীর সহিত সাক্ষাৎ করিলেন। আসামীকে বলিলেন, “আসল ঘটনা সমস্ত আমাদের খলিয়া বল। আসামী। বলিব না। উকীল। না বলিলে আমরা তোমার পক্ষাবলম্বন করিব কি করিয়া ? ব্যাপার র্যেরপ দেখিতেছি, ইহাতে তোমার যে ফাঁসির হরকুম হইতে পারে। আসামী। হউক। ফাঁসি যাইব। আমি কিছুই বলিব না। উকীলেরা সেদিন হতাশ হইয়া ফিরিয়া আসিলেন। আসামীর আত্মীয়-স্বজনের মিনতি এড়াইতে না পারিয়া, আবার তাঁহারা গিয়া আসামীর সহিত সাক্ষাৎ করিলেন। এইরুপ দই তিন বার সাক্ষাতে অনেক বঝানো কোনোর পর, আসামী অবশেষে আসল ঘটনাটি নিম্নলিখিত মত প্রকাশ করিল। “কলিকাতা হইতে দরে, অমুক গ্রামে আমার বাস। সেখানে আমার একখানি মণিহারী দোকান আছে, উহাই আমার উপজীবিকা। দই তিন মাস অন্তর আমি মাল খরিদ করিতে কলকাতায় আসি। এবারও সেইরূপ আসিয়াছিলাম। “দশ বৎসর পর্বের একটি ঘটনা বলি শািনন। আমার এক কনিষ্ঠা ভগিনী ছিল, অলপ বয়সে সে বিধবা হইয়া যায়। তার রূপ ছিল, সেই রূপের জন্যই তাহার সব্বনাশ হইল। ষোল সতেরো বৎসর বয়সে, কোনও দাবত্তের সহিত সে কুলত্যাগ করে। এই ঘটনায়, লজায় অপমানে আমরা মতপ্রায় হইয়াছিলাম, সমাজে আমাদের মাথা তুলিবার উপায় ছিল না। প্রথম প্রথম কোন আত্মীয়-বন্ধ তাহার কথা জিজ্ঞাসা করিলে আমরা বলিতাম, সে মরিয়া গিয়াছে। ক্ৰমে তাহার নামও আমাদের গহে আর উচ্চারিত হইত না। সে যে একদিন ছিল, ইহাও আমরা প্রায় ভুলিতে বসিয়াছিলাম । "এবার কলিকাতায় আসিয়া, মাল খরিদ শেষে, বাড়ী ফিরিবার পবেদিন সন্ধ্যায় ভাবিলাম, যখন কলিকাতায় আসিয়াছি, তখন একটু আমোদ-প্রমোদ করিয়া লই। তাই, সে পল্লীতে গিয়া, সে গহে প্রবেশ করিয়াছিলাম। গহবাসিনীরা যাহা যাহা বলিয়াছে সমস্তই সত্য। উপরে গিয়া আমি এ-ঘর ও-ঘর সে-ঘরের সামনে দাঁড়াইয়া, অবশেষে এই ঘরে প্রবেশ করিয়া কপাট ভেজাইয়া দিয়ছিলাম। “কি গো তোমার নাম কি ?”— 'RS سا- کیا۔-- "