পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমি এই প্রশ্ন করিবামাত্র, অভাগিনী অতি বিস্মিতভাবে মুখ তুলিয়া চাহিল এবং আমার আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করিতে লাগিল। তাহার এই ব্যবহারে আমিও বিমিত হইয়া, তাহাকে ভাল করিয়া দেখিয়াই বঝিলাম, সে আর কেহ নহে, দশ বৎসর পবেকার কুলত্যাগিনী আমারই সেই ভগিনী। সেও অবশ্য আমায় চিনিয়াছিল। “হা ভগবান!”— বলিয়া, শয্যাপাবস্থ দেওয়াল আলমারি হইতে একটা ক্ষর বাহির করিয়া, চক্ষের নিমেষে সে নিজ গলায় বসাইল। তাহার অভিপ্রায়-ববিয়া, তাহকে বাধা দিবার উদ্দেশ্যে আমি ক্ষরেখানা তাহার হাত হইতে কড়িয়া লইলাম। কিন্তু, তৎপর্বেই তাহার শবাসনালী ছিন্ন হইয়া গিয়াছিল, সে বিছানায় পড়িয়া গোঁ গোঁ শব্দ করিয়া ছটফট করিতে লাগিল। তারপর লোকজন আসিয়া পড়িল।” এই সমস্ত ব্যাপার অবগত হইবার পর, আসামী পক্ষের লোকেরা মতার কলিকাতা বাস সম্বন্ধে অনুসন্ধান আরম্ভ করিয়া দিলেন। এ বাড়ীতে আসিবার পর্বে সে কোন বাড়ীতে থাকত, তার পর্বে কোন বাড়ীতে থাকত, এইরূপ সন্ধান করিতে করিতে যে বাড়ীতে তাহার হরণকারী প্রথম তাহাকে আনিয়া রাখিয়াছিল, সে বাড়ী খাজিয়া বহির হইল। সে বাড়ীর বাড়ীউল ও অন্যান্য সীলোকগণ, নবাগতার সকল পরিচয়ই জানিত—তাহারা আসিয়া সাক্ষী দিয়া প্রমাণ করিল যে, আসামীর উক্তি যথার্থ। জজসাহেব উহা বিশ্বাস করিয়া আসামীকে বেকসুর খালাস দিলেন। কাটা মন্ড প্রথম পরিচ্ছেদ বোগদাদের বাদশাহ হারণ-অল-রশিদ একজন ভুবন-বিখ্যাত নরপতি ছিলেন। তাঁহার মৃত্যুর প্রায় একশত বৎসর পরে, তাঁহার বংশে আলি মহম্মদ নামক একজন বাদশাহ সিংহাসন প্রাপ্ত হন। তিনি সিংহাসনে আরোহণ করিয়া দেখিলেন, দেশে মহম্মদীয় ধৰ্ম্মম আর প্রবের ন্যায় নিষ্ঠার সহিত প্রতিপালিত হইতেছে না। দেশে অনেক লোক প্রতিমাপজক হইয়া উঠিতেছে, নানাবিধ কুসংস্কারের বশবত্তী হইয়া পড়িতেছে। তাহা দেখিয়া বাদশাহ অত্যন্ত দঃখিত হইলেন এবং স্থির করিলেন, তিনিও স্বীয় পবেীপরাষ প্রাতস্মরণীয় হরিণ-অল-রশিদের ন্যায় তেবদিল অথাৎ ছদ্মবেশে নগর পরিভ্রমণ করিবেন এবং ধৰ্ম্মচ্যুত ব্যক্তিগণের কার্য্যকলাপ অনুসন্ধান করিয়া তাহাদিগকে উপষত্ত্বে . শান্তি দিবেন। রাজ্যের কোথায় কোন ব্যক্তি খাইতে পাইতেছে না, সমস্ত নিজে বচক্ষে দেখিয়া তাহারও প্রতিবিধান করবেন। ইহা সিথর করিয়া তিনি নানাপ্রকার ছদ্মবেশে প্রতি সুজনীতে নগর ভ্রমণ করিতে লাগিলেন; কোনও দিন ফকীরের বেশ, কোনও দিন খাজা অর্থাৎ সওদাগরের বেশ, কোনও দিন আমির ওমরাহের বেশ–ফল কথা তাঁহার ছদ্মবেশ এতই গোপনীয় ছিল যে, কেহই তাঁহাকে চিনিতে পারিত না। কেবল তাঁহার দুই চারিজন বিশ্বসন্ত মন্ত্রী ও অনচর সে বিষয় অবগত ছিল। ইতিমধ্যে রাজ্যে প্রবল অসন্তোষ উপস্থিত হইল, এমন কি বিদ্রোহ হয় হয়। তখন বাদশাহ মনে করিলেন, এখন আমার এরপে সতকতা অবলম্বন করা আবশ্যক যে, আমার নিজ বিশ্ববসন্ত মন্ত্রীগণও কিছুই জানিতে না পারে। তাহাদের নিজের মনের অবস্থা কিরুপ, তাহারও অনুসন্ধান আবশ্যক। , ছদ্মবেশের-পোষাক প্রস্তুত করিবার জন্য তিনি ভিন্ন ভিন্ন দরজিকে নিযুক্ত করিতেন। এবার কোনও মন্ত্রীকে কিছ না বলিয়া মনসরি নামক তাঁহার অতি বিশকত গোলামকে ডাকিয়া আজ্ঞা দিলেন, “সহরে গিয়া কোনও একজন দরজিকে লইয়া আইস। গভীর রারি হইলে তাহাকে আনিবে। এরপে সাবধানে আনিবে যে, সে দরজিও যেন না জানিতে পারে যে, সে কোথায় আসিতেছে।” গোলামু নতু হইয়া বলিল—“বেণু আস্তান। প্রভুর আদেশ এইক্ষণেই পালন করিব।” م. تم جمها۔ تے ९२ *