পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পথ দিয়া, ঘরাইয়া ফিরাইয়া, একটি পশ্চাতের বার দিয়া তাহাকে রাজবাটীতে প্রবেশ করাইল। সুলতানের একটি গোপনীয় কামরায় লইয়া গিয় তাহার চক্ষ হইতে রমাল খালিয়া দিল। বাবাদল চক্ষ খুলিলে দেখিল, একটি সন্দর সসজিত কামরা, কিন্তু সেখানে একটি মাত্র ক্ষীণ আলোক জনলিতেছে। মনসুরি বলিল--"এখানে থাক, আমি এখনই আসিতেছি”—বলিয়া চলিয়া গেল। অলপক্ষণ পরে শালের রামালে জড়ান একটি পদাৰ্থ লইয়া মনসরি ফিরিয়া আসিয়া বলিল, “এই দেখ, একটি ফকীরের পোষাক। এখন দেখিয়া বল, কয় দিনে এরুপ একটি পোষাক তৈয়ারি করিতে পারবে ?” বলিয়া মনসরি প্রস্থান করিল। দরজি তখন সেই পোষাকটি উত্তমরপে পরীক্ষা করিতে লাগিল। পরীক্ষা শেষে সেটিকে আবার শালের রমালথানিতে জড়াইয়া রাখিয়া দিল। মনসারির প্রত্যাগমন প্রতীক্ষা করিতে লাগিল । অলপক্ষণ পরে একজন উন্নতকায় উত্তম পোষাকপরা লোক আসিয় প্রবেশ করলেন তহিকে দেখিয়া গরীব দরজির প্রাণ ভয়ে ব্যাকুল হইয়া উঠিল। কিন্তু তিনি কোন কথা না বলিয়া, শালের রমালে বাঁধা সেই বাড়িলটি উঠাইয়া লইয়া প্রস্থান করিলেন। বেচারা দরজি ইহার অর্থ কিছুই বঝিতে পারিল না। নীরবে বসিয়া কেবল চিন্তা করিতে লাগিল । সেই সময় আবার দরজা খলিল, অন্য একজন ব্যক্তি প্রবেশ করিল। তাহারও হস্তে শালের রমালৈ জড়ানো একটি বাণ্ডিল। প্রবেশ করিয়া সে ব্যক্তি অত্যন্ত নত হইয় দরজিকে বারংবার সেলাম করিতে লাগিল। - কাছে আসিয়া সেই বাডিলটি দরজির পদতলে রাখিয়া, মত্তিকা চক্ৰবনপবেক সে ব্যক্তিও প্রস্থান করিল। ইহা দেখিয়া দরজি অধিকতর আশ্চৰ্য্য হইয়া ভাবিতে লাগিল, “এ সব কি ? আমাকে এত সেলাম করেই বা কেন, কোথায় আসিলাম, কিছুই বুঝিতে পারিতেছি না; কি বিপদই না জানি হইবে।” ইতিমধ্যে মনসরি আবার ফিরিয়া আসিল। বলিল, “তবে বাডিল উঠাও--বল কয়দিনে এরূপ পোষাক প্রস্তুত করিতে পারবে ?” বাবদল বলিল, “তিন দিনের মধ্যেই প্রস্তুত করিয়া দিব।” বলিয়া বাডিল উঠাইয়া লইল। মনসরি দরজির চক্ষে রমাল বধিয়া তাহাকে বাহির করিয়া লইয়া গেল, এবং নানাপথ ঘরাইয়া, তাহার দোকানে পৌছাইয়া দিল। চক্ষ হইতে রমাল খলিয়া বলিল -“তিন দিন পরে আবার আসিব। যদি পোষাকটি প্রস্তুত পাই, তবে আর দইটি স্বর্ণমাদ্রা দিয়া পোষাক লইয়া যাইব”—বলিয়া মনসরি প্রস্থান করিল। বাবাদল তখন তাড়াতাড়ি গহে ফিরিল। দিলফেরেব সবামীর জন্য অত্যন্ত উৎসক হইয়া অপেক্ষা করিতেছিল। বাবাদলকে দেখিয়া বলিল, “কি হইল ?” বাবাদল বলিল, “নমনা লইয়া আসিয়াছি, কিছুই না, কেবল একটা সামান্য ফকীরের পোষাক তৈয়ারি করিতে হইবে। তৈয়ারি হইলে আরও দই মোহর দিবে বলিয়াছে।” দিলফেরেব বলিল, “কিরাপ নমনা দেখি ?" སྟག་ན་མ་ বলিল, “এখন অধিক রাত্রি হইয়াছে, শয়ন করা যাউক। কল্য প্রভাতে 忍 l" দিলফেরেব বলিল, “না এখনই দেখাও। আমার বড়ই কৌতুহল হইতেছে। না দেখিলে রাত্রে আমার নিদ্রা হইবে না।” এ কথা বলিয়া দিলফেরেব নিজেই বাড়িলাট খলিতে লাগিল। খলিবামাত্র তাহা হইতে ফকীরের পোষাক বাহির হইল না, বাহির হইল একটা কাটা মণ্ড! টাটকা কাটা একটা মানুষের মন্ড রমাল হইতে পড়িয়া ঘরের মেঝেতে গড়াইতে লাগিল । বন্ধ দরজি ও তাহার সত্ৰী ভয়ে শিহরিয়া উঠিল। रै२२