পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩২৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মণ্ড দেখিয়াই বড়া বড়ি ভয়ে হস্ত দ্বারা নিজ নিজ চক্ষ আবত করিয়া দাঁড়াইয়া কিয়ৎক্ষণ কাঁপিতে লাগিল। তাহার পর চক্ষ খলিয়। পরস্পরের প্রতি সবিসময়ে চাহিয়া রহিল। ক্ৰমে বড়ির বড় রাগ হইল। দাঁত মখ খি'চাইয়া স্বামীকে বলিল, “হতভাগা বড়া ! খুব কাজ আনিয়াছিস । এইবার বড় লোক হইবি! রাত পোহাইলে পলিশ অসিয়া হাতে দড়ি দিয়া লইয়া যাইবে। ফাঁসিকাঠে ঝুলাইয়া দিবে। তখন খুব বড়লোক হুইবি ।” বড়া কাঁপিতে কাঁপিতে বলিল, “আল্লা সেল্লা ! বাবা সেল্লা ! তাহার মা জাহান্নমে যাউক, তাহার বাপ জাহান্নমে যাউক, যে আমার উপর এই মহা বিপদ নিক্ষেপ করিয়াছে। যখনই শুনিলাম, চক্ষে রমাল বধিয়া লইয়া যাইবে, তখনই ভাবিয়াছিলাম যে, তাহাদের মৎলব ভাল নয়। আল্লা! আপ্লা! এখন কি করি ? সে পাজির বাড়ীও চিনিতে পারিব না যে গিয়া কাটা মণ্ড ফিরাইয়া দিব। দিলফেরেব! এখন কি করা যায় ?” বন্ধা বসিয়া ভাবিতে লাগিল। শেষে বলিল--"যেমন করিয়াই হউক, এ কাটা মড়েটাকে এখনি কোথাও সরাইতে হইবে। নাহলে প্রভাত হইলেই সববনাশ ।” দরজি বলিল, প্রভাত হইতে আর দেরী কি ? রাত্রি ত শেষ হইয়া আসিয়াছে। কোথায় এটাকে ফেলা যায় ?” বন্ধা আবার কিয়ৎক্ষণ ভাবিয়া বলিল, “এক কাজ কর। আমাদের বাড়ীর পাশে যে হাসান রুটিওয়ালা রহিয়াছে, সে ভোরে উঠিয়া রটি প্রস্তুত করিবে বলিয়া রোজ রান্ত্রিতে তুন্দরায় ময়দা ভরিয়া চল্লীর মুখের কাছে রাখিয়া দেয়। একটা তুন্দরাতে এই মণ্ডটা ভরিয়া তাহার চল্লীর কাছে রাখিয়া আইস, সে ভোরে উঠিয়া আগন জালিয়া অন্য তুন্দরাসহ এটাকেও ভিতরে ভরিয়া দিবে, তাহা হইলেই মডেটা অদ্ধৈীক জনলিয়া যাইবে, আর কেহ চিনিতে পরিবে না।” বাবাদল বলিল, “বাহবা দিলফেরেব ! সুন্দর উপায় বলিয়াছ। তবে এখনই তাহাই কর ।” বড়ি তখনই গিয়া হাসন রুটিওয়ালার চল্লীর মখের কাছে তুন্দরায় ভরিয়া মন্ডটা রাখিয়া আসিল । সে ফিরিয়া আসিলে, দরজি উত্তমরাপে গহের দরজা বন্ধ করিয়া দিল। তখন দুইজনে শষ্যায় শয়ন করিয়া বলাবলি করিতে লাগিল, “যাহা হউক, এই দামী শালের রােমালখানা ত আমাদের লাভ হইয় গেল !" রাত্রি শেষ হইলে হাসান রুটিওয়াল উঠিয়া নিজ পত্রকে ডাক দিয়া বলিল, “মামাদ ! —ওরে মামুদ ! ওঠ । আগন জনাল।” তখন পিতাপত্রে বাহির হইয়া আসিল। কাঠ, খড়, শুকনা পাতা প্রভৃতি নানা দাহ্য দ্রব্য চল্লীর ভিতরে প্রবেশ করাইয়া অগ্নি দিল । একটা কুকুর রটির টকরা টাকরা খাইবার জন্য দোকানের নীচে রাস্তায় সৰ্ব্বদুই বসিয়া থাকিত। সেই কুকুরটা হঠাৎ বিকট চীৎকার করিতে আরম্ভ করিল। চীৎকার করে আর মধ্যে মধ্যে নাক তুলিয়া যেন কি শকিতে থাকে। হাসান বলিল, “মামদ! দেখ ত, কুকুরটা আমন করে কেন ?" মামদ একটা কাঠ লইয়া কুকুরকে তাড়াইতে গেল, কিন্তু কুকুরটা এক লম্ফে দোকানে উঠিয়া একটা তুন্দরায় টান দিল। হাসান ও মামদ মহাক্ৰোধে কুকুরকে মারিতে যাইতেছিল, এমন সময় কুকুরের টানাটানিতে তুন্দরার মুখ খলিয়া গিয়া কাটামণ্ড বাহির হইয়া পড়িল। তাহা দেখিয়া হাসান বলিল, “আল্লা আল্লা ! এ কোন শয়তানের কাষ' ? কি সব্বনাশ! কে খন করিয়া এ মাথা এখানে রাখিয়া গেল ? কি সৌভাগ্য যে কুকুরটা বঝিতে পারিয়াছিল, নহিলে আমাদের চল্লী অপবিত্র হইয়া যাইত। আল্লা খব বাঁচাইয়াছেন। ཨཝ། ཡ། རང་མི་ ts ཝཝ། ཤྭ་ এটাকে এখানে দেখিলে লোকে ত ২৩ -