পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


উপস্থিত হইল। জন-গণ নগর ছাড়িয়া পলায়ন করিতে লাগিল। কিন্তু বাসতবিক জ-গণ আগা সাহেবকে হত্যা করে নাই। যে রাত্রে বাবাদল সলতানের নিকট নীত হইয়াছিল, সে রাত্রেই সলতন একজন বিশ্বসন্ত ভূতাকে হকুম দিয়াছিলেন—“যাও আগা সাহেবের মাথা কাটিয়া আমায় আনিয়া দাও।” যে সময় বাবাদল সুলতানের গোপন কামরায় বসিয়া ছিল, সেই সময়েই আগা সাহেবের মাথা কাটিয়া সেই বিশ্ববস্ত ভূত্যের ফিরিবার কথা। এ দিকে, পাছে মনসাঁর জানিতে পারে যে, বাদশাহ কি ছদ্মবেশে এবার নগর ভ্রমণ করবেন তাই বাদশাহ মনসারির চক্ষেও ধলো দিবার জন্য একটা উপায় উদ্ভাবন করিয়াছিলেন। মনসাঁর ব্যবাদলকে ফকীরের :ে x-আনিয়া দিয়াছিল। সতরাং মনসাঁর জানিবে, বাদশাহ ফকীরের বেশে রাত্রি ভ্রমণে যাইবার সংকলপ করিয়াছেন। তাই বাদশাহ স্বয়ং আসিয়া বাবাদলের নিকট হইতে সে শালমোড়া বাড়িল উঠাইয়া লইয়া গিয়াছিলেন । তুহিার ইচ্ছা ছিল, সেই শালে একটা সওদাগরের বেশ জড়াইয়া বাবাদলকে দিবেন, তাহা হইলে মনসারিও জানিতে পারবে না। বাদশাহ বাডিলটা লইয়া গেলে যে ব্যক্তি প্রবেশ করিয়াছিল, সে-ই আগা সাহেবের মাথা আনিতে গিয়াছিল। একে সে কামরায় আলোক অতি ক্ষীণ ছিল, তাহতে বাদশাহের গোপন কামরায় অন্য কাহারও আসিবার সম্ভাবনা নাই, তাই সে বিশ্ববস্ত ভূত্য ভাবিয়াছিল, ইনিই বাদশাহ, বোধ হয় বাহিরে যাইবেন বলিয়া দরজির ছদ্মবেশ ধারণ করিয়াছেন। তাই সেই বাড়িলাট বাবাদলের পায়ের কাছে রাখিয়া, নত হইয়া সেলাম ও ভূমিচম্বন করিয়াছিল। এ দিকে সেই রাত্রে মনসরি বাবাদলকে লইয়া চলিয়া গেলে পর, বাদশাহ সেই কামরায় সওদাগরের পরিচ্ছদ সহ প্রবেশ করিলেন। দরজি ও মনসরিকে না দেখিয়া আশ্চৰ্য্য হইলেন। তখন একজন বিশ্বসন্ত ভূত্যকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “যাহাকে আগা সাহেবের মড়ে কাটিয়া আনিতে হুকুম দিয়াছিলাম, সে ফিরিয়াছে ?” ভূত্য উত্তর করিল, “হাঁ প্রভু, সে ফিরিয়াছে।” বাদশাহ বলিলেন, “তাহাকে ডাকিয়া আন ।” সে ব্যক্তি আসিলে বাদশাহ জিজ্ঞাসা করিলেন, “কায্য শেষ হইয়াছে ?” ভূত্য বলিল, “হাঁ দনিয়ার মালেক, কাৰ্য্য শেষ করিয়া ত মডেটা হজারের পদপ্রান্তে পাখিয়া গিয়াছি।”

  • ဒုး ভূত্য বলল, “এই অলপক্ষণ হইল, প্রভু দরজির ছদ্মবেশ পরিয়া গোপন কামরায় বসিয়া ছিলেন, তখন দিয়া গেলাম।” -

মহত্তের মধ্যে বাদশাহ সমস্তই বঝিতে পারলেন। ভাবিলেন একটা মহা ভুল হইয়া গিয়াছে। কিন্তু ভৃত্যগণের সমখে কোনওরপে ব্যস্ততা প্রকাশ করিলেন না। ক্ৰমে মনসরি ফিরিয়া আসিল। তখন বাদশাহ তাহাকে সকল কথা খলিয়া বলিলেন। শেষে আজ্ঞা দিলেন, “যাও এখনি যেখানে পাও দরাজকে ধরিয়া কাটা মন্ড ফিরাইয়া আন, নহিলে মহা অনথপাত হইবে।” আজ্ঞা পাইয়া মনসাঁর ছটিল, কিন্তু সে দরজির দোকানই দেখিয়াছিল, তাহার বাড়ী কোথায় জানিত না। রাত্ৰিতে বেজেস্তানের পথে পথে ঘরিয়া বেড়াইতে লাগিল, কত লোককে জিজ্ঞাসা করিল, কিন্তু কোথাও তাহার সন্ধান পাইল না।” এইরপে ব্রুমে রজনী প্রভাত হইল। - তখন মনসরি শনিল, কিছু দরে ভাঙ্গা গলায় এক ব্যক্তি এক মসজিদ হইতে সত্যধমে বিশ্ববাসী মুসলমানগণকে প্রাতঃকালীন নামাজ করিতে আহবান করিতেছে। শব্দ লক্ষ্য করিয়া মনসরি সেই দিকে গেল। দেখিল বাবাদল দই কাণের পশ্চাতে হাত দিয়া ૨૨૭