পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সখি আছে ?” - রায় মহাশয় এ কালের লোক ও আচার ব্যবহারের নিন্দা করিয়া সভাকায্যের সচেনা করিলেন। বিবাহে টাকা লওয়া যে একটা রীতি হইয়াছে, তাহার প্রতিই নিন্দার বেশী ঝোঁকটা পড়িল। বলিলেন—“আমাদের সে সব দিন কাল এক আলাহিদা রকমের গিয়াছে। আমার যখন বিবাহ হইয়াছিল, তখন মনে আছে, একশত-এক টাকা পণ, একটি সোণার আংটি, আর একটি চেলির যোড় মাত্র পাইয়াছিলাম। আর বঝি ভরি দশ পনরো সোণা আর ভরি পঞ্চাশ ষাট রাপা। ইহাতেই একেবারে ধন্য ধন্য পড়িয়া গিয়াছিল। দুবগীয় পিতৃদেব কতই লক্তিজত। বলেন ‘বৈবাহিক মহাশয়, আমি ছেলের বিবাহ দিতে আসিয়াছি বই ত ছেলে বিক্রয় করিতে আসি নাই।--আর এখন ?—এখন মহাশয় সে দিন আমার বড় সম্বন্ধটির মেয়ের বিবাহ হইল; পঞ্চাশ ভরি সোণা, দুই শত ভরি রূপা, হাজারএক টাকা নগদ, তাহার উপর দানসামগ্রী আছে, খাট বিছানা আছে, বরাভরণ আছে। বরাভরণ কি যা তা মহাশয় ? এই ধরন ঘড়ি—সোণার ঘড়ি, সোণার গার্ডচেন, হীরার আংটি, চেলীর ষোড়, তা ছাড়া আবার রূপার টী-সেট। জামাই বন্ধবোন্ধবকে নিমন্ত্রণ করিয়া চা খাওয়াইবেন, তাই রপোর টী-সেট চাই। এই নতন বরাভরণ সাহেব-বাড়ী হইতে আনাইতে প্রায় দুই শত টাকা লাগিয়া গেল। জামাইয়ের গণের মধ্যে কি ? —না, এল-এ পাশ করিয়া বি-এ পড়িতেছেন। বাপ জজকোটের সেরেস্তাদার। বিযয় আশয় কিছুই নাই, চাকরি ভরসা। চাকরি ত তালপত্রের ছায়া। আজ যদি চাকরি যায় তবে কাল কি খাইবেন তাহার ঠিকানা নাই। আরে ছি-ছি—একালে কেবল অর্থ, কেবল অথ কেবল অথ"। অর্থ ছাড়া আর কথাটি নাই।” সভাপথ সকলেই একবাক্যে রায় মহাশয়ের এ মত সমর্থন করিলেন। শ্যামাচরণবাব মনে মনে বলিলেন, যে যথার্থ ভদ্রলোক হয়, সে সববদোষাবহ একালেও আপনার ভদ্রতার ময্যাদা অক্ষণ রাখিয়া চলে। একজন ভদ্রলোক বলিলেন—“তাহা হইলে এইবার উপসিথত বিবাহের কথাবাত্তা হইয়া যাক ৷” - কত্তা বলিলেন—“তবে আমি একবার বাড়ীর ভিতর ওঁয়াদের জিজ্ঞাসা করে আসি।” বাড়ীর ভিতর হইতে ফিরিয়া আসিতে তাঁহার বিস্তর বিলম্ব হইল না। তিনি বালির কাগজে লেখা এক সদেীঘ ফন্দ হাতে করিয়া বাহির হইয়া আসিলেন। বাড়ীর মেয়েরা ছেলেপিলেকে দিয়া নিজেদের মনের মত এই ফন্দ লেখাইয়া রাখিয়াছিলেন। রায় যহাশয় বলিলেন—“বাড়ীর ওঁয়ারা অলঙ্কার এই চাহেন। তাহার পর আর আর যাহা কিছর আছে, সে সম্বন্ধে তাঁহারা কোন কথা কহিবেন না বলিয়াছেন—তামারই উপর সম্পণে ভার দিয়াছেন। আমার এক্তারের মধ্যে যাহা রাখিয়াছেন, তাহাতে অবশ্যই যথাসম্ভব সলভে আমি চট্টোপাধ্যায় মহাশয়কে নিকৃতি দিব, কিন্তু মেয়েদের এই ফন্দ হইতে অধিক কমান আমার সাধ্যায়ত্ত হইবে না।” ফন্দ পড়া হইল। তাহার বিস্তারিত বিবরণে পাঠককে ক্লিন্ডট করব না। এই পর্যন্ত বলিলেই যথেষ্ট হইবে যে শ্যামাচরণবাবর মাখের হাসি শুকাইয় গেল, চক্ষ ছল ছল করিতে লাগিল। পথিবী যেন পদতল হইতে সরিয়া দরে চলিয়া যাইতে লাগিল। গহনার যাহা ফন্দ বাহির হইয়াছে, তাহা খাব টানাটানি কসকেসি করিয়া দিলে দুই হাজার টাকার একটি পয়সা কমে হইবে না। তাহার পর গণ আছে, পণ আছে, ফুলশয্যা আছে, নমস্কারী আছে নিজেদের খরচ আছে। ফলকথা মোহিনীমোহনকে জামাতা করিতে হইলে অন্যন তিন হাজার টাকার প্রয়োজন ! সবল মাত্র গহিণীর অলঙ্কারগুলি। বিক্ৰয় করিয়া বড়জোর দেড় হাজার টাকা হইতে পারে। ২৭