পাতা:প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্পসমগ্র.djvu/৩৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হবে না। ভারি রসিকতা হল কিনা!” - আমি বাক্যব্যয় না করিয়া পেয়ালাটি লইয়া তাঁহার কোমল পদপল্লব ধারণ করিলাম। তন্মহেত্তেই তিনি পা কড়িয়া লইলেন। রাগ করিয়া বলিলেন, “পা ছোঁয়া কেন ?” আমায় উত্তরের অবসর না দিয়া, আমার হাত হইতে পেয়ালা লইয়া জলে পদাঙ্গলি পশ* করিলেন। পাশবাসস্থ টেবিলে সেটি রাখিয়া বলিলেন, “বেয়ারাকে বল দিয়ে আসকে ৷” আমি উঠিয়া বলিলাম, "বেয়ারা কি তাকে চেনে ? আমিই দিয়ে আসি।” । বলিয়া পেয়ালাটি তুলিয়া লইলাম। তিনি বলিলেন, “ও কি কর ? কথা বললে শোন না কেন ?" আমি গম্ভীর হইয়া বলিলাম, “দেখ, মেয়েদের লেখাপড়া শেখানো একেবারে ভঙ্গেম ঘি ঢালা। এত লেখাপড়া শিখলে ভাই, তব এই সামান্য প্রেজডিসটে গেল না ?” বলিয়া বাহির হইয়া গেলাম। ! २ ॥ কনগ্রেস শেষ হইয়াছে, ঢাকায় ফিরিয়া আসিয়াছি, একদিন সন্ধ্যার সময় দরোয়ান শেলট হাতে করিয়া উপসিথত হইল। যাহারা দেখা করিতে আসিলে কাড আনে না, তাহাদের জন্য একখানা শেলট রাখিয়া দিয়াছিলাম। শেলটে ইংরাজীতে লেখা রহিয়াছে, ”সারদাপ্রসন্ন চাটাডিজ"।” দই মাসের পরাতন কথা সহসা স্মরণ করিতে পারিলাম না। ভাবিলাম, কবি কোনও নতন মক্কেল আসিয়াছে। ডাকিয়া পাঠাইলাম। চেহারা দেখিবামাত্র সারদকে অবশ্য চিনিতে পারলাম । আসিয়াই সে আমাকে গলায় বস্ত্ৰ দিয়া ভূমিপশ করিয়া প্রণাম করিল। “কি হে? কেমন আছ বল দিকিন ? কিছু উপকার টপকার পেলে?” সারদা প্রথমতঃ কথার কোন উত্তর না দিয়া, বকে হাত দিয়া বরকতক কাসিল। শেষকালে বলিল, “বেশ দিনকতক সেরে গিয়েছিল (খক খক)—আবার (খক খক)–দিন পাঁচ সাত” (খক খক খক)—আর বলিতে পারল না, কাসিতে কাসিতে নিকটস্থ চেয়ারে বসিয়া পড়িল। তাহার কাসির ধমক থামিলে বলিলাম, “পাদোকজলের কম নয়। ওষুধ খাও।” “পাই কোথা ?”—বলিয়া আবার কাসিতে আরম্ভ করিল। সাড়ে সাতটা বাজে। বাড়ীতে একটা ডিনার পাটি ছিল। এখনি লোকজন আসিতে আরম্ভ হইবে। এ সময় এ আসিয়া জটিল কেন ? তাহাকে শীঘ্র শীঘ্ৰ বিদায় করিবার অভিপ্রায়ে পকেট হইতে পাঁচটা টাকা বাহির করিলাম। সারদাকে দিয়া বলিলাম, "এই নাও, কোনও ভাল ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে একটা ওষুধপত্র খাওগে, পাদোকজলে কি রোগ ভাল হয় ?” এই সময় মিটার বোসের গাড়ী আসিয়া পেপছিল। আমি সারদাকে তাড়াতাড়ি বলিলাম, “আজ আমি ভারি ব্যস্ত আছি—যাও ” সারদা টাকা কয়টি পকেটে ফেলিয়া চলিয়া গেল। পরদিন যখন ঘুম ভাঙ্গিল তখন অনেক বেলা হইয়াছে। উঠিয়া সাসির কাছে দাঁড়াইয়া নিম্নে বাগানের পানে দটিপাত করিলাম। কালো সাজের চাদর গায়ে দিয়া কে একজন পায়চারি করিতেছে। আমার পানে যতক্ষণ পিছন ফিরিয়া ছিল, ততক্ষণ তাহকে চিনিতে পারি নাই সম্মুখ ফিরিলেই, দেখিলাম সারদা। পিত্ত জনলিয় গেল। প্রভাত হইতে না হইতেই আসিয়া জটিয়াছে। এখনি পরোয়ান শেলট লইয়া আসে দেখিতেছি ! চায়ের টেবিলে প্রাতঃকালীন সংবাদপত্রের সহিত তাহার কাণ্ড উপস্থিত। অামার ᎼᎼ8